kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

উদাসীনতা আর গাফিলতি সব দিকেই

এম হাফিজউদ্দিন খান

৮ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উদাসীনতা আর গাফিলতি সব দিকেই

দেশে বর্তমান করোনা পরিস্থিতি বিশ্লেষণে আমার মনে হচ্ছে—সবার মধ্যে এক ধরনের উদাসীনতা কাজ করছে। স্বাস্থ্যবিধি যেভাবে মানা বা মানানো দরকার তা হচ্ছে না। সরকারের পক্ষ থেকে বিধি-নিষেধ জারি করা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যথাযথভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। প্রশাসনের পদক্ষেপ তেমন চোখে পড়ে না। সব কিছুতেই ঢিলেঢালা অবস্থা। টেলিভিশনে, সংবাদপত্রে  ঢাকায়, ঢাকার বাইরে যে ধরনের ভিড়ের অবস্থা দেখছি বা পড়ছি তাতে উদ্বেগ বাড়ছেই। অনেকে মাস্ক পরতে চান না, অনেকে বিনোদনের জন্যও বাইরে বের হচ্ছেন।

আবার অনেককে বের হতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে জীবন-জীবিকার তাড়নায়। তাঁদের বের হওয়া ছাড়া উপায় নেই। এসব মানুষের কষ্টে থাকার বিষয়টিও উপলব্ধি করতে হবে। বিশেষ করে নিম্ন-আয়ের শ্রমজীবী মানুষের কথা ভাবতে হবে। শিল্প খাত, সরকারি চাকরিজীবীদের বাইরেও নিম্ন-আয়ের শ্রমজীবী মানুষের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা নিতে হবে।

গত বছর মার্চ মাসে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যখন শুরু হলো, তখন আমরা প্রস্তুত ছিলাম না। হাসপাতালে শয্যা সংকট ছিল, আইসিইউ অপ্রতুল ছিল। সে সময় গণমাধ্যমে এ নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। কিন্তু সরকার সে সময় এই সংকট সমাধানের কিছু উদ্যোগ নিলেও পরে তাতে ভাটা পড়ে। করোনায় দৈনিক মৃত্যু সংখ্যা ১০-এ নেমে এলে আমরা ভেবে নিয়েছিলাম পরিত্রাণ পাওয়া গেছে। এই ভুল ভাবনা থেকে সব কিছুতে ঢিলেঢালা ভাব চলে আসে। কিন্তু পরিত্রাণ মেলেনি। এখন আবারও সেই সংকট প্রবলভাবে দেখা দিয়েছে।

সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সবাইকে চেষ্টা করতে হবে। সবাইকে সচেতন হতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। প্রত্যেককে নিজ নিজ স্থান থেকে এ বিষয়ে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে হবে। নিজের পরিবারকে, আত্মীয়-স্বজনকে সচেতন করতে হবে। মাস্ক নিয়ে যত প্রচার হচ্ছে, সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার বিষয়ে ততটা প্রচার নেই। রাজধানীতে গণপরিবহনে স্যানিটাইজারের কোনো ব্যবস্থা নেই। বাসস্টপেজে নেই সাবান ও পানির ব্যবস্থা। সব দিকেই উদাসীনতা আর গাফিলতি।

করোনাভাইরাসের উচ্চহার সংক্রমণের এই পরিস্থিতিতে বইমেলা চালু রাখা উচিত হয়নি। বঙ্গবন্ধু গেমস বন্ধ রাখলেও এমন কিছু ক্ষতি হতো না। আমাদের বুঝতে হবে, করোনা পরিস্থিতির কারণে এক বছর ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ আছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা প্রায় বন্ধ। এই বিশাল ক্ষতি কিভাবে পূরণ হবে সেটা দুশ্চিন্তার বিষয়। এখন দেখছি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা তাঁদের দোকানপাট খোলা রাখার জন্য রাস্তায় আন্দোলনে নেমেছেন। এসব ব্যবসায়ীর দাবি আমার কাছে অযৌক্তিক মনে হয়। মাত্র সাত দিনের নিষেধাজ্ঞা মানলে এমন কোনো ক্ষতি হতো না। ঈদের কেনাকাটা যাঁরা করবেন, তাঁরা এই সাত দিন পরেও সময় করে নিতে পারবেন। অস্থির হওয়া উচিত হচ্ছে না। সব কিছু খোলা রেখে পরিস্থিতির অবনতি ঘটালে বিপদ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। সবাইকে এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য, ভালোর জন্য স্যাক্রিফাইস করতে হবে।

করোনা টিকার বিষয়টিও আমাদের দুশ্চিন্তার মধ্যে রেখেছে। প্রথম ডোজের টিকা যাঁরা নিয়েছেন, তাঁরা সবাই দ্বিতীয় ডোজের টিকা পাবেন কি না তা নিয়ে সংশয় দূর হচ্ছে না। সরকারের উচিত ছিল, আগে থেকেই বিকল্প নানা পথ উন্মুক্ত রাখা। শুধু একটি দেশের ওপর নির্ভরতা আমাদের সংকট বাড়াতে পারে।

লেখক : সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা