kalerkantho

রবিবার । ১ কার্তিক ১৪২৮। ১৭ অক্টোবর ২০২১। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৩

প্রস্তুত করেই মেয়েদের টেস্ট খেলানোর চিন্তা

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৩ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে




প্রস্তুত করেই মেয়েদের টেস্ট খেলানোর চিন্তা

এই মুহূর্তে ঢালও নেই, নেই তলোয়ারও। এসব ছাড়াই লড়াইয়ে নেমে পড়ার পরিণতিও অজানা নয়। আগে তাই যুদ্ধাস্ত্রে সজ্জিত হওয়ার ভাবনাই পাচ্ছে অগ্রাধিকার। বাংলাদেশের মেয়েরা টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর নীতিনির্ধারকদের প্রথম প্রতিক্রিয়ায়ও এ জন্য উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়া নেই, বরং আছে দীর্ঘ প্রস্তুতির স্বার্থে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট খেলার পরিকল্পনা যথাসম্ভব পিছিয়ে দেওয়ারই।

সেটি কত দিন? বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নারী বিভাগের প্রধান শফিউল আলম চৌধুরী এ প্রশ্নের জবাব দিলেন এভাবে, ‘প্রথম টেস্ট খেলতে হলেও আমাদের প্রায় বছর দুয়েক অপেক্ষা করতে হবে।’ কারণ টেস্ট খেলতে হলে ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রথম শ্রেণির প্রতিযোগিতা চালু করতে হবে। এখন পর্যন্ত সে রকম কোনো কিছুই তো নেই বাংলাদেশে। অভিজ্ঞ নারী ক্রিকেটার সালমা খাতুন যেমন ক্রিকেটার হওয়ার শুরুর দিকে লাল বলে অনুশীলন করার কথা মনে করতে পারলেন। তবে তাঁর সুদীর্ঘ ক্যারিয়ারে লাল বলে কোনো ম্যাচ খেলার স্মৃতিই নেই।

তবু টেস্ট মর্যাদা পাওয়ায় এখন দেশের সর্বোচ্চ ক্রিকেট প্রশাসন এ ক্ষেত্রে উদ্যোগী হবে নিশ্চিত। সেই নিশ্চয়তাতেই সামনে তাকিয়ে সালমা, ‘এই টেস্ট মর্যাদা বাংলাদেশে মেয়েদের ক্রিকেটকে অনেকখানি এগিয়ে দেবে।’ এগিয়ে যাওয়ার জন্য যে ঘোষণাটি আসা জরুরি ছিল, বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি সেটিও এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে বৃহস্পতিবার রাতে। তারা সব পূর্ণ সদস্য দেশের নারী দলকে স্থায়ীভাবে টেস্ট এবং ওয়ানডে মর্যাদা দিয়েছে। এত দিন টেস্ট খেলুড়ে নারী দলের সংখ্যা ছিল ১০। এবার বাংলাদেশকে নিয়ে তাদের সঙ্গে যুক্ত হলো জিম্বাবুয়ে এবং আফগানিস্তানও। ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে হওয়া আইসিসির বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত হওয়ার পরপরই ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামোয় দীর্ঘ পরিসরের ম্যাচ যুক্ত করা জরুরি বলে মনে করছে বিসিবি।

যদিও আরো আগেই সেটি চালুর উদ্যোগ ছিল বলে জানিয়েছেন শফিউল, ‘আমরা প্রথমে দুই দিনের ম্যাচ খেলানোর উদ্যোগ নিয়েছিলাম। চাচ্ছিলাম, চার দিনের ম্যাচ খেলার আগে এ রকম ম্যাচ খেলে মেয়েরা তৈরি হতে থাকুক। গত বছরই দুই দিনের ম্যাচের প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জানেনই তো, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে সেটি আমরা পারিনি। এখনো ভাইরাসের প্রকোপ যায়নি। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া মাত্রই আমরা শুরু করে দেব।’ লম্বা প্রস্তুতি না নিয়ে মেয়েদের টেস্ট খেলানোর কথাও ভাবছেন না, ‘টেস্ট মর্যাদা পাওয়াটা অত্যন্ত আনন্দের ব্যাপার। তবে আমরা চাই না, প্রস্তুতি ছাড়াই খেলতে নেমে পারফরম্যান্স  খারাপ হোক। তাই দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়েই আমরা প্রথম টেস্ট খেলতে চাই।’

মেয়েদের টেস্ট ম্যাচ অবশ্য ক্রিকেটবিশ্বে খুব একটা হয়ও না। গত পাঁচ বছরে টেস্ট ম্যাচই হয়েছে মাত্র তিনটি। এর সবই খেলেছে ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া। গত শতাব্দীর ’৭০-এর দশক থেকে টেস্ট খেলতে শুরু করা ভারতের নারী দলও এত দিনে খেলেছে মোটে ৩৬ ম্যাচ। এর মধ্যে সর্বশেষটি খেলেছে সেই ২০১৪-র নভেম্বরে। শ্রীলঙ্কার নারী দলও টেস্ট খেলেছে মাত্র একটি, তাও সেটি সেই ১৯৯৮ সালে।

 



সাতদিনের সেরা