kalerkantho

বুধবার । ৮ বৈশাখ ১৪২৮। ২১ এপ্রিল ২০২১। ৮ রমজান ১৪৪২

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

আঠারো দফার আলোকে আরো নির্দেশনা আসছে

ফরহাদ হোসেন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী

২ এপ্রিল, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আঠারো দফার আলোকে আরো নির্দেশনা আসছে

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণ আবার বেড়েছে। মৃত্যুও বাড়ছে দিন দিন। সরকারের পক্ষ থেকে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় ১৮ দফা নির্দেশনা এসেছে। এ নিয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন কথা বলেছেন কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাহরাম খান

 

কালের কণ্ঠ : নতুন নির্দেশনাগুলো কি সুবিবেচনাপ্রসূত হয়েছে বলে মনে করেন?

ফরহাদ হোসেন : সরকার চিন্তা-ভাবনা করে জনস্বার্থে এই নির্দেশনা দিয়েছে। মহামারির প্রথম ধাক্কায় আমরা কিছুই জানতাম না, অভিজ্ঞতা ছিল না। এবার দ্বিতীয় ধাক্কার সময় আমরা কিছুটা হলেও অভিজ্ঞ। আশা করছি, এবারও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা পরিস্থিতি সামলাতে পারব।

 

কালের কণ্ঠ : কেন্দ্রীয় আদেশে তো অনেক বিষয়ের উল্লেখ নেই।

ফরহাদ হোসেন : সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ আইনে সব ধরনের নির্দেশনা দেওয়া আছে। জেলা প্রশাসনগুলো সেভাবে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কেন্দ্রীয়ভাবে এক আদেশে সব কিছু ধারণ সম্ভব হয় না, করাও উচিত নয়। কোনো এলাকায় গার্মেন্ট বেশি, সেখানকার প্রশাসন গার্মেন্টকে টার্গেট করে উদ্যোগ নেবে। যেমন—গাজীপুর জেলা। আমি আজ (গতকাল বৃহস্পতিবার) গাজীপুরের ডিসির সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলছেন। বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়িতে পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ১৮ দফা নির্দেশনার আলোকে অন্যান্য নির্দেশনা স্থান-কাল অনুযায়ী আসছে, আরো আসবে।

 

কালের কণ্ঠ : নতুন নির্দেশনায় জরুরি সেবার প্রতিষ্ঠান ছাড়া বাকি সব ‘সরকারি-বেসরকারি’ প্রতিষ্ঠানে ৫০ শতাংশ লোকবল নিয়ে কাজ করতে বলা হয়েছে। এটা বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ কী?

ফরহাদ হোসেন : এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা করি। যেমন—ব্যাংকিং খাতের দায়িত্ব অর্থ মন্ত্রণালয়ের। পোশাক খাতের দায়িত্ব বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের। এভাবে স্ব স্ব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি খাতের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

 

কালের কণ্ঠ : নির্দেশনা দেওয়ার আগে বিভিন্ন খাতের অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল বলে অনেকে বলছেন।

ফরহাদ হোসেন : সরকার আগে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সতর্ক করে আসছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার বিষয়ে সতর্ক করেছেন। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মাঠ প্রশাসনে সচেতনতা বাড়াতে বলা হয়েছে। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানতে চাইবে না, তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি দিতে বলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এসব উদ্যোগ চলমান। সংক্রমণ হঠাৎ করে এত বেড়ে গেছে যে সময় দেওয়ার সুযোগ ছিল না।

 

কালের কণ্ঠ : ১৮ দফা নির্দেশনার অনুলিপি যাদের কাছে দেওয়া হয়েছে, সেখানে বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের কথা উল্লেখ নেই। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে কিভাবে জানবে?

ফরহাদ হোসেন : গতবার আপনারা দেখেছেন, বিভিন্ন পর্যায়ের বেসরকারি খাতের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলেই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এবারও সেগুলো পর্যায়ক্রমে হবে। আমরা খুবই একটা অনিশ্চিত পরিবেশের মধ্য দিয়ে চলছি। সারা বিশ্বকেই এমন অবস্থা মোকাবেলা করতে হচ্ছে।

 

কালের কণ্ঠ : গণপরিবহনে অর্ধেক যাত্রী বহন ও ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণায় সাধারণ মানুষ দুই দিকে ক্ষতিগ্রস্ত। প্রায় সব কিছু শতভাগ খোলা রেখে গণপরিবহনের জন্য দেওয়া এই নির্দেশনা কি যুক্তিসংগত?

ফরহাদ হোসেন : বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে সুবিবেচনার মাধ্যমেই নেওয়া হয়েছে। আগেও এটি কার্যকর ছিল। আমাদের সরকারি অফিসগুলোতে ৫০ শতাংশ লোকবল কাজ করছে। বিনোদনকেন্দ্র, সভা-সমিতিসহ সব ধরনের জমায়েত সীমিত বা বন্ধ করতে বলা হয়েছে। আপনারা খেয়াল করলে দেখবেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্থানীয় প্রশাসন বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে।

 

কালের কণ্ঠ : রাইড শেয়ারিং অ্যাপে চলা মোটরসাইকেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়বে। এ ক্ষেত্রে সরকার কী উদ্যোগ নিয়েছে?

ফরহাদ হোসেন : এটা খুবই সাময়িক সিদ্ধান্ত। অন্যদিকে মানুষের যাতে ভোগান্তি কম হয়, সে জন্য আজ (গতকাল) ঢাকার রাস্তায় বিআরটিসির নতুন ৩৫টি ডাবল ডেকার নামানো হয়েছে। আগামীকাল (আজ শুক্রবার) আরো ২৫টি বাস নামবে। সব মিলিয়ে ৬০টি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : ঢাকায় বইমেলা চলছে। সারা দেশে জেলা পর্যায়ে চলছে উন্নয়ন মেলা। অথচ সরকার সভা—সব ধরনের জনসমাগম সীমিত করতে বলেছে। এটা কি পরস্পরবিরোধী নয়?

ফরহাদ হোসেন : বইমেলায় তো নির্দিষ্ট পর্যায়ের একটি শ্রেণির মানুষ যায়। বইমেলার সময়ের পরিসরও কমানো হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : বইমেলায় যাওয়া শ্রেণির ব্যক্তিরা কি ঝুঁকির বাইরে?

ফরহাদ হোসেন : তা না, এখানে সচেতন শ্রেণির মানুষ যান, যাঁরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলেন। এ কারণে হয়তো সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় সীমিত পরিসরে মেলা চালানোর ব্যবস্থা করেছে।

 

কালের কণ্ঠ : মেলার সময় কমানোর কারণে ভিড় আরো বাড়বে, সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়বে।

ফরহাদ হোসেন : এবার মেলার পরিসর অনেক বড়। এত বেশি মানুষ মেলায় আর ভিড় জমাচ্ছে না। এর পরও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় চাইলে নতুন সিদ্ধান্তও আসতে পারে।

 

কালের কণ্ঠ : মেলা বন্ধের?

ফরহাদ হোসেন : যেটা তারা প্রয়োজন মনে করে।

মন্তব্য