kalerkantho

শনিবার । ১০ আশ্বিন ১৪২৮। ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৭ সফর ১৪৪৩

প্রধানমন্ত্রী বললেন

প্রমাণ হয়েছে সত্যকে মুছে ফেলা যায় না

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২০ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রমাণ হয়েছে সত্যকে মুছে ফেলা যায় না

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা সফল হয়নি বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে ‘মুজিব চিরন্তন’ উদযাপনের তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রাম থেকে জাতির পিতার নাম চিরতরে মুছে ফেলার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু সত্যকে কখনো মুছে ফেলা যায় না—আজকের দিনে এটিই প্রমাণিত সত্য। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। অথচ সেই ভাষণ আজ ইউনেসকোর স্বীকৃতি পেয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলার মাটিতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন শেখ মুজিব। এর আগে-পরে অনেকে রাষ্ট্রপতি হয়েছেন; কিন্তু তাঁদের জন্ম বাংলার মাটিতে নয়।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমার মা তাঁকে (বঙ্গবন্ধু) বলেছিলেন, কারো কথা শুনতে হবে না। মনে যা থাকবে তাই বলবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম মুছে ফেলা হয়েছিল। ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস থেকে মুছে ফেলা হয়েছিল। পঁচাত্তরের পর একের পর এক সামরিক শাসক বা তাদের দোসররা যে ক্ষমতায় এসেছে, স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় এসেছে, তাদের একটাই ভীতি ওই নাম নিয়ে। কাজেই তারা ২১টি বছর সবই নিষিদ্ধ করে রেখেছিল। কিন্তু যে সংগঠন জাতির পিতা গড়ে তুলেছিলেন, সেই সংগঠন আওয়ামী লীগ জাতির পিতার আদর্শ নিয়েই চলেছে। সংগ্রামের পথ ধরে আমরা কিন্তু বাংলাদেশে ২১ বছর পর সরকার গঠন করি। এ দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি।’

জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে বিভিন্ন সময় বঙ্গবন্ধুর কারাগারে যাওয়া ও দল গোছাতে মন্ত্রিত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা দেখি পৃথিবীতে মানুষ দল ছাড়ে, দলের পদ ছাড়ে মন্ত্রিত্বের লোভে। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মন্ত্রিত্ব ছেড়েছিলেন দলকে সুসংগঠিত করার জন্য।’

অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষেকে স্বাগত জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শ্রীলঙ্কা আমাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু দেশ। বাংলাদেশ এবং শ্রীলঙ্কা বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে একই ধরনের মনোভাব পোষণ করে এবং আমরা পরস্পরকে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে থাকি।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে বাংলাদেশের একজন অকৃত্রিম বন্ধু এবং তিনি সব সময়ই বাংলাদেশের পাশে অবস্থান করেন। আমিও চেষ্টা করি সেই বন্ধুত্বের প্রতিদান দিতে। বাংলাদেশের জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষের যোগদান তাঁর নিজের ও শ্রীলঙ্কার জনগণের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কেরই প্রতিফলন।’ দুই দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো সুদৃঢ় হবে বলে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির জন্য লড়াই করেননি। তিনি বিশ্বের সব নিপীড়িত-বঞ্চিত মানুষের মুক্তির স্বপ্ন দেখতেন। তিনি আঞ্চলিক সহযোগিতায় বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মানুষের বাস। এ অঞ্চলে সম্পদের প্রাচুর্য না থাকলেও রয়েছে মানুষের অসম্ভব প্রাণশক্তি, উদ্ভাবন ক্ষমতা এবং প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে জয় করে টিকে থাকার দক্ষতা। আমরা জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করলে অবশ্যই দক্ষিণ এশিয়া বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সমৃদ্ধ অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের এই শুভ মুহূর্তে আমি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানাব, আসুন, একটি শান্তিপূর্ণ সমৃদ্ধ দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তুলতে সবাই একযোগে কাজ করি।’

জন্মশতবার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসেবে গত ১৭ মার্চ শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী ‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠান। গতকালের অনুষ্ঠানে ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা’ প্রতিপাদ্যের ওপর বক্তব্য দেন অধ্যাপক সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদের স্বাগত সম্ভাষণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের ভিডিও বার্তা প্রচার করা হয়। এরপর বক্তব্য দেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

 



সাতদিনের সেরা