kalerkantho

শুক্রবার । ২ আশ্বিন ১৪২৮। ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১। ৯ সফর ১৪৪৩

মুজিব চিরন্তনে কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের অর্জন চমৎকার

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাংলাদেশের অর্জন চমৎকার

বাংলাদেশের অর্জনকে চমৎকার বলে অভিহিত করেছেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন সেন। মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী ‘মুজিব চিরন্তন’ অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। এদিন ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় বাংলাদেশের অর্জন ও বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বাংলাদেশের বন্ধুপ্রতিম জনগণকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, কভিড-১৯ মহামারির কারণে তিনি এই অনুষ্ঠানে সশরীরে সরাসরি আসতে পারেননি।

কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের ধারায় বিগত  দশকগুলোতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অর্জন সাধন করেছে। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বেরও প্রশংসা করে তিনি বলেন, তাঁদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ উচ্চ মাত্রার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক অগ্রগতি অর্জন করেছে। জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হয়েছে। এসব চমকপ্রদ সাফল্যের মাধ্যমে বাংলাদেশ এ বছর জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সব যোগ্যতা অর্জন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী হুন সেন বাংলাদেশ-কম্বোডিয়া সম্পর্ক জোরদারে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-কম্বোডিয়া ঐতিহাসিক সম্পর্কের শুরু বঙ্গবন্ু্ল ও রাজা নরোদম সিহানুকের মধ্যে নিবিড় সম্পর্কের মাধ্যমে। ১৯৭৩ সালে আলজেরিয়ায় জোটনিরপেক্ষ সম্মেলনের সময় তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।

হুন সেন বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে কম্বোডিয়ার আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় ১৯৯৩ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। গত তিন দশকে দুই দেশ ভালো ও ফলপ্রসূ সম্পর্ক বজায় রেখেছে। এই সম্পর্কের ভিত্তি দুই দেশের জনগণের স্বার্থে পারস্পরিক সম্মান ও সমতা। দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পর্যায়ে দুই দেশ সহযোগিতা বজায় রেখেছে।

হুন সেন ২০১৪ সালের জুন মাসে তাঁর বাংলাদেশ সফর এবং ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কম্বোডিয়া সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, ওই সফরগুলোতে দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, বিনিয়োগ ও কারিগরি সহযোগিতা জোরদারে অনেক দলিল সই হয়েছে। দুই দেশ একে অন্যের রাষ্ট্রনায়ককে সম্মান জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কম্বোডিয়ার নমপেনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে এবং ঢাকায় কম্বোডিয়ার প্রয়াত রাজা নরোদম সিহানুকের নামে রাস্তার নামকরণ করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল বিকেল সোয়া ৫টায় ‘মহাকালের তর্জনী’—এই থিম ধারণ করে দ্বিতীয় দিনের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠান শুরু হয়। মাঝে ৩০ মিনিটের বিরতি দিয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যা চলে রাত ৮টা পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই মুজিব চিরন্তন থিমের ওপর টাইটেল এনিমেশন ভিডিও দেখানো হয়। এরপর আবহ সংগীত এবং বাস্তবায়ন কমিটির পক্ষে স্বাগত সম্ভাষণ দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, শিক্ষা ও চিকিৎসাক্ষেত্রে ‘মহাকালের তর্জনী’র প্রভাব রয়েছে। আমরা এই খাতে এগিয়ে গিয়েছি, দেশ এগিয়ে গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সব মহা-অর্জনে আছে ‘মহাকালের তর্জনী’র ছায়া। এরই হাত ধরে আমরা আজ দেশের উন্নয়ন পেয়েছি। অনুষ্ঠানে থিমভিত্তিক আলোচনায় ছিলেন ড. আলমগীর মোহাম্মদ সিরাজুদ্দিন। এরপর কম্বোডিয়ান প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের ধারণকৃত বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আলোচনাসভা।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় অংশের সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যে ছিল বন্ধু রাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ধারণকৃত ভিডিও পরিবেশনা (ভিয়েতনাম), মুজিব চিরন্তন থিমের ওপর টাইটেল এনিমেশন ভিডিও, থিমের ওপর একটি সিজি এনিমেশন ভিডিও, ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের সঙ্গে অর্কেস্ট্রা মিউজিক উপস্থাপনা, বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত গানের পরিবেশনা, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের ওপর ভিত্তি করে লাইট ও সাউন্ড শো পরিবেশনা, দুই প্রজন্মের শিল্পীদের মেলবন্ধনে মিশ্র মিউজিক পরিবেশনা এবং পটের গানের মাধ্যমে উপস্থাপনা।



সাতদিনের সেরা