kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২১ শ্রাবণ ১৪২৮। ৫ আগস্ট ২০২১। ২৫ জিলহজ ১৪৪২

১০০ দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত, অভিযানে মোকাবেলার চিন্তা

স্বাস্থ্যবিধি মানাতে রবিবার থেকে ফের মাঠে নামছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



১০০ দিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত, অভিযানে মোকাবেলার চিন্তা

করোনাভাইরাসে দেশে প্রথম মৃত্যুর এক বছর পার হয়েছে গতকাল। সেই দিনই দেশে নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ১৮৭ জনের। শনাক্তের এই সংখ্যা গত ১০০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে গত বছরের ৮ ডিসেম্বর করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিল দুই হাজার ২০২ জন। এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশে মোট করোনা শনাক্ত হলো পাঁচ লাখ ৬৪ হাজার ৯৩৯ জনের। এদিকে সংক্রমণ বাড়লেও এখনই লকডাউনে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে না সরকার, তবে নানামুখী সতর্কতামূলক উদ্যোগ নেওয়া হবে। এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে আগামী রবিবার থেকে কর্মসূচি নিয়ে ফের মাঠে নামছে পুলিশ।

গত বুধবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে আরো ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশে করোনায় মারা গেছে আট হাজার ৬২৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১৬ জনের মধ্যে ১২ জন পুরুষ এবং চারজন নারী। এদের মধ্যে সবাই হাসপাতালে মারা গেছে। ঢাকা বিভাগে ১৩ জন এবং চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে মারা গেছে একজন করে। গত ২৪ ঘণ্টায় মোট রোগী সুস্থ হয়েছে এক হাজার ৫৩৪ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছে পাঁচ লাখ ১৭ হাজার ৫২৩ জন। গতকাল বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১০.৪৫ শতাংশ। এ পর্যন্ত পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১২.৯৯ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯১.৬১ শতাংশ। এ ছাড়া শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার ১.৫৩ শতাংশ। সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সারা দেশে ২১৯টি ল্যাবে করোনার নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়। ২৪ ঘণ্টায় এসব ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে ২১ হাজার ২১২টি এবং নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২০ হাজার ৯২৫টি। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৩ লাখ ৪৯ হাজার ১৯৪টি।

এদিকে সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়লেও স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে আপাতত লকডাউনের চিন্তা-ভাবনা নেই সরকারের। গতকাল দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন, ‘লকডাউন বাস্তবায়ন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় করে না। এটা বাস্তবায়ন করে সরকার। আমরা চাই, দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো থাকুক। পাশাপাশি আমরা এটাও চাই যেন করোনা সংক্রমণ না বাড়ে। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদের কাজ করতে হবে। আপনারা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন এবং ভ্যাকসিন নেবেন। তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, ভ্যাকসিন নিলেই সুরক্ষিত হয়ে গেলেন, ব্যাপারটা তা নয়।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘করোনা নিয়ন্ত্রণে আমরা এরই মধ্যে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি সেগুলো পালনে জেলা পর্যায়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে দেশের জনগণ করোনা রোধে মাস্ক পরে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলে। জনসচেতনতার জন্য আমরা ভ্রাম্যমাণ আদালত চালু করছি। বিষয়গুলো যদি মেনে চলি তাহলে আমাদের লকডাউনের প্রয়োজন হবে না। লকডাউনের বিষয়ে সরকার ভেবেচিন্তে পদক্ষেপ নেবে।’

জানা গেছে, লকডাউন না দিলেও বেশ কিছু সতর্কতামূলক উদ্যোগের পথে হাঁটছে সরকার। স্বাস্থ্য বিভাগ হাসপাতাল থেকে করোনা টিকা কার্যক্রম সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। বিশেষ করে হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসাসেবার দিকে নজর রেখে এ চিন্তা-ভাবনা শুরু হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মূল ইপিআই কার্যক্রমের আওতায় হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন অস্থায়ী কেন্দ্রে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমরা গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের ডাকে এক বৈঠকে গিয়েছিলাম। সেখানে টিকা ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি করোনা মোকাবেলায় আমরা কিছু সুপারিশ তুলে ধরেছি। কিন্তু এগুলো কোনোটাই সিদ্ধান্ত নয়; আলোচনা বা প্রাথমিক প্রস্তাব বলা যেতে পারে।’

জানা গেছে, করোনা মোকাবেলায় আরো কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার প্রতি বেশ কিছু প্রস্তাবও পাঠানো হতে পারে। সেই সঙ্গে জনসাধারণ ও ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠানের প্রতিও নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। গত মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এক সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয় এবং তা সুপারিশ আকারে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

সভা সূত্রে জানা গেছে, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে লকডাউনের মতো কোনো অবস্থায় যাওয়ার বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। প্রয়োজনে বড়জোর জনচলাচলে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো যেতে পারে। এ ছাড়া সর্বস্তরে জনসমাগম সীমিত করা, সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরেই বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।

তবে পরিস্থিতির যদি আরো অবনতি হয়, সে ক্ষেত্রে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলার ব্যাপারে মত দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাগুলোও বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিন, করোনা পজিটিভ ব্যক্তিদের আইসোলেশন নিশ্চিত করা, আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের ঢল কমাতে ছুটি কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

স্বাস্থ্যবিধি মানাতে মাঠে নামছে পুলিশ : করোনা সংক্রমণের এক বছর পরও ফের বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এ অবস্থায় মানুষকে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মানাতে ফের মাঠে নামছে পুলিশ। তবে আপাতত বাধ্য নয়, স্বাস্থ্যবিধি মানতে মাঠপর্যায়ে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করতে পুলিশের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক ও জীবনধারা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী রবিবার থেকে ‘মাস্ক পরার অভ্যেস, কভিডমুক্ত বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে দেশজুড়ে বিশেষ উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

গতকাল দুপুরে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, জনসাধারণকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ করতে আগামী রবিবার থেকে বিশেষ কর্মসূচি শুরু করবে পুলিশ। জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রেরণা জোগাতে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। কমিউনিটি পুলিশিং ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে গ্রামেগঞ্জেও জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করা হবে, প্রয়োজনে বিনা মূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হবে।



সাতদিনের সেরা