kalerkantho

বুধবার । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৮ জুলাই ২০২১। ১৭ জিলহজ ১৪৪২

আসছেন পাঁচ দেশের নেতা

সম্পর্কে নতুন আলোর আশা

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১৬ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



সম্পর্কে নতুন আলোর আশা

বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী এবং দেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে অংশ নিতে বাংলাদেশ সফরে আসছেন ভারত, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কার নেতারা। আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাঁদের বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। এই সফরের মধ্য দিয়ে ওই দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নতুন আলোর প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। তাঁরা সবাই ঢাকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে শ্রদ্ধা জানাবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পাঁচ দেশের নেতাদের সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী ১৭ মার্চের অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ্, ১৯ মার্চের অনুষ্ঠানে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে, ২২ মার্চের অনুষ্ঠানে নেপালের প্রেসিডেন্ট বিদ্যা দেবী ভাণ্ডারী, ২৪ মার্চের অনুষ্ঠানে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোতে শেরিং এবং ২৬ মার্চের অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপস্থিত থাকবেন। এই পাঁচ দিনের অনুষ্ঠানসহ ১৭ মার্চ থেকে ১০ দিনের অনুষ্ঠানমালায় বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান এবং গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ধারণ করা বক্তব্যের ভিডিও প্রদর্শন করা হবে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম মোহামেদ সলিহ্ সস্ত্রীক আগামী ১৭ থেকে ১৯ মার্চ ঢাকা সফর করবেন। মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থনৈতিক বিষয়কমন্ত্রীসহ ২৭ জন অতিথি আসছেন। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট ১৮ মার্চ সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আতিথেয়তায় বঙ্গভবনে সন্ধ্যায় তিনি একটি রাষ্ট্রীয়ভোজ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ শেষে ১৮ মার্চ রাতেই বাংলাদেশ ছাড়বেন। মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের সফরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার লক্ষ্যে কয়েকটি  সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হবে বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা করেন।

আগামী ১৯ মার্চ দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী মাহিন্দা রাজাপক্ষে। তিনি ২০ মার্চ ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। এই বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয় বিষয় যেমন—বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃষি, উপকূলীয় জাহাজ চলাচল, শিক্ষা, তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রভৃতি অধিক গুরুত্ব পাবে। বৈঠক শেষে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক এমওইউ সইয়ের কথা রয়েছে। ২০ মার্চ বিকেলে তিনি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং সন্ধ্যায় কলম্বোর উদ্দেশে তাঁর ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের আমন্ত্রণে এটি হবে বাংলাদেশে নেপালের প্রথম রাষ্ট্রপতি পর্যায়ের সফর। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নেপালের রাষ্ট্রপতির এই সফর বাংলাদেশ ও নেপালের জনগণের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রতিফলন। নেপালের প্রেসিডেন্ট বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। তাঁদের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও এমওইউ সই হওয়ার কথা রয়েছে।

তিন দিনের সফরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী লোতে শেরিং আসছেন আগামী ২৩ মার্চ। ভুটানের রাজা আসতে না পারায় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল আসছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্র হিসেবে ভুটান বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন ও উচ্চপর্যায়ের নেতাদের অব্যাহত সফর বিনিময়ের মাধ্যমে এ সম্পর্ক আরো নিবিড় হয়েছে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগামী ২৬ ও ২৭ মার্চ বাংলাদেশ সফর করার কথা রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী মূলত মুজিববর্ষ উদযাপন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী এবং বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের যৌথ উদযাপন উপলক্ষে রাষ্ট্রীয়ভাবে এই সফর করবেন। ২৬ মার্চ বিকেলে জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য দেবেন। সেদিন সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথভাবে তিনি বঙ্গবন্ধু-বাপু ডিজিটাল প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন।

সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ মার্চ সকালে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধ পরিদর্শন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এ ছাড়া তিনি গোপালগঞ্জ ও সাতক্ষীরায় দুটি মন্দির পরিদর্শন করে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত পরিসরে মতবিনিময় করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ২৭ মার্চ বিকেলে দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক ছাড়াও প্রতিনিধি পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় আলোচিত হবে বলে বাংলাদেশ আশা করছে। বৈঠকের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং কয়েকটি প্রকল্প উদ্বোধনের সম্ভাবনা রয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, উভয় প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে নিজ নিজ দেশের পক্ষে বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আলাদা দুটি স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করবেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। ২৭ মার্চ রাতেই তিনি নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন।

এদিকে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০১১ সালে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির খসড়ার প্রতি পৃষ্ঠায় সচিবরা সই করেছেন। গোপালগঞ্জের ওড়াকান্দিতে মোদির সফরের পরিকল্পনায় রাজনীতি আছে কি না জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মোদি পূজা করতে সেখানে যাচ্ছেন।