kalerkantho

শনিবার । ৯ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৪ জুলাই ২০২১। ১৩ জিলহজ ১৪৪২

কেন ভয়ংকর এ মাদকদ্রব্য

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৫ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কেন ভয়ংকর এ মাদকদ্রব্য

অস্ট্রেলিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা ছাড়াও এশিয়ার সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারে ছড়িয়ে পড়া আইসকে বলা হয় চতুর্থ প্রজন্মের মাদকদ্রব্য। বাংলাদেশে যেমন ইয়াবার সর্বনাশ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে, ওই সব দেশেও তেমনি আইসকে মারাত্মক সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর কারণ আইসে মিথাইলের সঙ্গে শতভাগ অ্যামফিটামিন থাকে। ইয়াবায় সাধারণত ২০ থেকে ২৫ ভাগ অ্যামফিটামিন থাকে। এ জন্য বিশ্বজুড়ে এটি ভয়ংকর মাদক হিসেবে চিহ্নিত। ইয়াবার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর এই মাদকদ্রব্য। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মাদকদ্রব্য উৎপাদন ও পাচারের রুট হিসেবে কুখ্যাত গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গলভুক্ত দেশ ও আশপাশের দেশগুলোতে এই মাদক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ আইস সেবনে মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র, কিডনি, দাঁত ও লিভারের ভয়াবহ ক্ষতি হয়। নিঃশেষ হয়ে যায় কর্মক্ষমতা।

বাংলাদেশে আইস পাচার এবং কারবার চলছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করছে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তর ইউএনওডিসি। এরই মধ্যে তথ্য চেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি। এসব কারণে বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি), পুলিশসহ সব সংস্থা আইসের ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে।

ডিএনসির প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষক ড. দুলাল কৃষ্ণ সাহা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এগুলো উচ্চমাত্রার ক্যাটামিনের মতোই মাদক। পুরোটাই অ্যামফিটামিন হওয়ায় এটি সেবনের পর মানবদেহে অতি অল্প সময়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। এই মাদক সেবনে মস্তিষ্কের রক্তনালি  ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এ থেকে রক্তক্ষরণ হতে পারে। এটি হৃদযন্ত্র, কিডনি ও লিভারেরও ভয়াবহ ক্ষতি করতে পারে। এক কথায় এটি দ্রুত মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়।’

এই কর্মকর্তা বলছেন, বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার করা ইয়াবা ট্যাবলেটে সাধারণত অ্যামফিটামিন পাওয়া গেছে ৫ ভাগ। আসল ইয়াবায় সেটা পাওয়া যায় ২০-২৫ ভাগ পর্যন্ত। কিন্তু আইস পুরোটাই অ্যামফিটামিন। তিনি আরো বলেন, ইয়াবাও ধীরে ধীরে ছড়িয়েছিল। নব্বইয়ে দশকের শেষ দিকে দেশে ইয়াবা সেবন শুরু হয়। ২০০২ সালে এসে পরীক্ষায় ইয়াবার অস্তিত্ব ধরা পড়ে। তত দিনে সেটা ছড়িয়ে পড়েছিল। নতুন মাদক আইস এখনো পর্যন্ত সেভাবে ছড়াতে পারেনি। ধনী পরিবারের সন্তানদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। ছড়িয়ে পড়লে তা ভয়াবহ হবে।

ডিএনসির ঢাকার উপপরিচালক (দক্ষিণ) মানজুরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ক্রিস্টাল মিথাঅ্যামফিটামিন বা শুধু মিথাঅ্যামফিটামিন গুঁড়াই হলো আইস। বাংলাদেশে অ্যামফিটামিন ও সিউড্রোএফিড্রিন আমদানি ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। ফলে কোনোভাবে ব্যবহারের সুযোগ নেই। উচ্চমাত্রার এ মাদকে সাময়িকভাবে ক্ষুধামন্দা, বিষণ্নতা, উগ্র মেজাজের মতো সমস্যা তৈরি করে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে ওজন কমা, দাঁত নষ্ট হওয়া, স্মৃতিভ্রম, হৃদরোগ, কিডনি ও লিভার নষ্ট হওয়া, ক্যান্সার, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও আকার পরিবর্তন, অহেতুক সন্দেহ রোগ, নিদ্রাহীনতা, অস্বাভাবিক আচরণের মতো সমস্যা তৈরি করে। এ ছাড়া অল্প সময়ের মধ্যে বার্ধক্য ভর করে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কয়েক মাসের মধ্যেই স্বাস্থ্যের চরম বিপর্যয় ঘটে।

ডিএনসির সূত্র জানায়, গোপন অনলাইন যোগাযোগ (ডার্কনেট) ও ক্রিপ্টোকারেন্সি বা বিট কয়েনের মাধ্যমে উন্নত দেশে আইসের অবৈধ কারবার চলছে। এ কারবার ঠেকাতে সেসব দেশের প্রশাসন হিমশিম খাচ্ছে। ২০১৯ সালে আইস সম্পর্কে ডিএনসির কাছে তথ্য চেয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তর ইউএনওডিসিকে আইসের ব্যাপারে তথ্য দেয় ডিএনসি। এখন মিয়ানমারকে এ ব্যাপারে সতর্ক করার প্রক্রিয়া চলছে।