kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

খালেদা শর্ত সাপেক্ষে মুক্ত আরো ৬ মাস

দেশে নিজ পছন্দে চিকিৎসা নিতে পারবেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খালেদা শর্ত সাপেক্ষে মুক্ত আরো ৬ মাস

ফাইল ছবি

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত থাকার মেয়াদ আরো ছয় মাস বাড়ানোর সুপারিশ করেছে আইন মন্ত্রণালয়। এসংক্রান্ত নথি আইন মন্ত্র্রণালয় থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাঁর দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন, খালেদা জিয়া যদি দেশের ভেতরে বিশেষায়িত চিকিৎসা নেন, সরকারের তাতে কোনো আপত্তি নেই।

দুই বছর এক মাস ১৯ দিন বন্দিদশায় থাকার পর গত বছরের ২৫ মার্চ বিকেলে ছয় মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন মুক্তি পেয়ে গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় যান খালেদা জিয়া। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর মুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শর্ত অপরিবর্তিত রেখে সরকার মুক্তির মেয়াদ আরো ছয় মাস বৃদ্ধি করে। শর্ত সাপেক্ষে পাওয়া মুক্তি পেয়ে গত ১১ মাসেরও বেশি সময় ধরে গুলশানের বাসায় রয়েছেন খালেদা জিয়া। আগামী ২৫ মার্চ তাঁর দ্বিতীয় দফা মুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। এ অবস্থায় গত ২ মার্চ খালেদা জিয়ার দণ্ডাদেশ স্থগিত করে স্থায়ী জামিন ও বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন খালেদা জিয়ার ভাই শামীম এস্কান্দার।

জানা গেছে, শামীম এস্কান্দারের আবেদনে বলা হয়েছে, করোনাকালে খালেদা জিয়ার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এই সময়ে তাঁর কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাও সম্ভব হয়নি। তাই চিকিৎসার সুবিধার্থে তাঁকে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার অনুমতিও চাওয়া হয় আবেদনে। পরে ওই আবেদন মতামতের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাজা স্থগিতের সময়সীমা বাড়ানো এবং বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য পরিবারের যে আবেদন, সেটি আমাদের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছিল। আমরা আগের মতো সাজা স্থগিত আরো ছয় মাস বাড়ানোর জন্য মতামত দিয়েছি। যে শর্তগুলো আগে ছিল—তিনি দেশের বাইরে যেতে পারবেন না এবং বাসায় থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করবেন, সেই শর্ত সাপেক্ষে এটিকে বাড়ানো হয়েছে। আবেদনে তাঁরা একটি কথা লিখেছিলেন বিশেষায়িত চিকিৎসার ব্যাপারে, মতামতে বলা হয়েছে দেশের ভেতরে তিনি যদি বিশেষায়িত চিকিৎসা নেন, সরকারের তাতে কোনো আপত্তি নেই।’ তিনি বলেন, তবে তাঁর চিকিৎসার জন্য কোনো হাসপাতাল নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি। তিনি স্পেশালিস্ট কাকে রাখবেন সেই স্বাধীনতা তাঁর রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছেন কি না জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নিশ্চয়ই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুমোদনের জন্য যাবে। কারণ আগেও এভাবেই হয়েছিল।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দু-এক দিনের মধ্যে খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়িয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।

মন্তব্য