kalerkantho

রবিবার। ২৮ চৈত্র ১৪২৭। ১১ এপ্রিল ২০২১। ২৭ শাবান ১৪৪২

তিস্তা চুক্তিতে বাগড়া দেবেনই মমতা

মেহেদী হাসান   

৯ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



তিস্তা চুক্তিতে বাগড়া দেবেনই মমতা

ছবি: ইন্টারনেট

কোনো রাখঢাক না রেখেই পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী জনসভায় তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে বিরোধিতার কথা জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরের প্রাক্কালে তিস্তা নিয়ে বাগড়া দিয়েছিলেন মমতা। গত প্রায় ১০ বছরেও যে এই ইস্যুতে মমতা তাঁর মনোভাব বদলাননি, তা আরো স্পষ্ট হয়েছে গত রবিবার তাঁর বক্তৃতায়। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারকে না জানিয়েই ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তিস্তার পানিচুক্তি করার উদ্যোগ নিয়েছিল। তিনি এটি মেনে নেবেন না। পশ্চিমবঙ্গের চাহিদা মিটিয়ে পানি থাকলে পরে বাংলাদেশকে তিনি দেবেন।

নয়াদিল্লি ও কলকাতার সূত্রগুলো বলছে, প্রায় এক দশক ধরেই তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তিকে ইস্যু বানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মমতা যত দিন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আছেন, তত দিন তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি অনিশ্চিত। এর পেছনে অনেক সমীকরণ জড়িত।

বাংলাদেশ ও ভারতের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিটি সফরেই আলাপ-আলোচনায় অমীমাংসিত ইস্যু হিসেবে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গ ওঠে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই চুক্তির ব্যাপারে ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ। বাংলাদেশের প্রত্যাশা ও চুক্তির বিষয়ে ভারত অবগত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য ছাড়া ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে এককভাবে ওই চুক্তি করা সম্ভব নয়।

২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নয়াদিল্লি সফরের সময় বৈঠকে হায়দরাবাদ হাউসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনেই নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, কেবল তাঁর ও শেখ হাসিনার সরকারই তিস্তার পানিবণ্টন সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম। মোদির সেই সরকারের মেয়াদে তিস্তাচুক্তি হয়নি। নরেন্দ্র মোদি আগামী ২৬ ও ২৭ মার্চ বাংলাদেশ সফরে আসছেন। এই সফরেও তিস্তাচুক্তি নিয়ে অগ্রগতির সম্ভাবনা নেই বললেও চলে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এ মাসেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন শুরু হচ্ছে। এটি চলবে আগামী ২ মে পর্যন্ত। এই নির্বাচনের ফলাফলের সঙ্গেও তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি আবারও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ক্ষমতায় আসেন, তবে তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে তাঁর মনোভাব রাতারাতি দূর হয়ে যাবে এমনটি আশা করা কঠিন। আবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদল হলে সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলে সেটিও দেখতে হবে। তবে মমতার দলের বাইরে অন্য কেউ সেখানে ক্ষমতায় এলে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তিস্তা ইস্যুতে তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ভারতের লোকসভা নির্বাচনগুলোর মতো পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারণায় বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কিত ইস্যু আসছে। যেমন দায়িত্বশীল একজন নেতা বলেছেন, তাঁর দল ওই রাজ্যে ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশ থেকে একটি পাখিকেও সেখানে ঢুকতে দেওয়া হবে না।

ওই কূটনীতিক বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নির্বাচনী প্রচারণায় অনেক সময়ই অনেক কিছু বলা হয়ে থাকে। কিন্তু নির্বাচন শেষে সরকার গঠনের পর, বিশেষ করে বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বেশ সহনশীল ও যৌক্তিক নীতি অনুসরণ করতে দেখা যায়। নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে শুরুর দিকে বাংলাদেশের অস্বস্তি ছিল। এর কারণ ভারতের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তিনি অনেকটাই অচেনা ছিলেন। কিন্তু তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশের সঙ্গে আস্থার সম্পর্ক গড়তে মোটেও সময় নেননি। মোদির সরকারের আমলেই বাংলাদেশের সঙ্গে সাত দশকের পুরনো স্থলসীমান্ত সমস্যার সমাধান হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সীমান্ত লাগোয়া ভারতের পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে আসাম ও ত্রিপুরায় ক্ষমতায় বিজেপি, মেঘালয়ে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি, মিজোরামে মিজু ন্যাশনাল ফ্রন্ট। ২০১১ সাল থেকে পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায়। বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে ক্ষমতায় আসার জোর চেষ্টা চালাচ্ছে।

 

 

মন্তব্য