kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

মিয়ানমারে অভ্যুত্থান

ভারত সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৬ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারত সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ছে

ছবি: ইন্টারনেট

মিয়ানমারের রাজপথে গণতন্ত্রকামীদের ওপর জান্তা সরকারের দমন-পীড়ন অব্যাহত আছে। গতকাল শুক্রবারও মান্দালয় শহরে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে প্রাণ গেছে আরো এক বিক্ষোভকারীর। দমন-পীড়নের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টাও করছেন অনেকে।

এদিকে মিয়ানমার ইস্যুতে গতকাল রাতে বৈঠক হওয়ার কথা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে। আর মিয়ানমারে রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া অভ্যুত্থানের পর নিউ ইয়র্কের রিজার্ভে রক্ষিত ১০০ কোটি ডলার সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করেছিল জান্তা সরকার। কিন্তু বাইডেন প্রশাসন সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে গত এক মাসে মিয়ানমারের রাজপথে অন্তত ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে গত বুধবার এক দিনেই মৃত্যু হয় ৩৮ জনের। তবে মৃত্যুর ভয় উপেক্ষা করে প্রতিদিনই বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে গণতন্ত্রকামীরা।

গতকাল দেশটির বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে বিক্ষোভ করেন কয়েক শ প্রকৌশলী। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর চলাচলে বাধা সৃষ্টি করতে ব্যারিকেড বানাচ্ছিলেন এক বিক্ষোভকারী। কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা গুলি চালালে ওই বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়।

গতকাল বিক্ষোভ হয়েছে বাগো শহরেও। কয়েক হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন ইয়াঙ্গুনের সান চুয়াং শহরের রাজপথেও। তবে এসব শহরে প্রাণহানির কোনো খবর তাত্ক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

গতকাল মিয়ানমারের বিভিন্ন শহরে বিদ্যুৎ ছিল না। সরকারি বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, ‘অবকাঠামোগত ত্রুটির’ কারণে অনেক জায়গায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে জান্তা সরকার ইচ্ছা করেই বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রেখেছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মিয়ানমারের জান্তা সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের চাপও অব্যাহত আছে। মিয়ানমার ইস্যুতে গতকাল শুক্রবার রাতে বৈঠকে বসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বৈঠকের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানা যায়নি।

মিয়ানমারে রপ্তানির ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়া ও চীনে স্পর্শকাতর পণ্য কিংবা প্রযুক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে যেসব কঠোর নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়, মিয়ানমারের ক্ষেত্রেও এখন থেকে তা প্রযোজ্য হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন বলেছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর জান্তা সরকারের দমন-পীড়নের প্রতিবাদেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতা দখলের পর গত ৪ ফেব্রুয়ারি নিউ ইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভে রক্ষিত এক বিলিয়ন ডলার সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করে মিয়ানমারের জান্তা সরকার। কিন্তু তাদের এই চেষ্টা আটকে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নির্বাহী আদেশে ওই তহবিল এখন অবরুদ্ধ রয়েছে।

দমন-পীড়নের মুখে মিয়ানমারের অনেকেই ভারতে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে একাধিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১৯ পুলিশ সদস্যও রয়েছেন। ভারতের পুলিশ জানিয়েছে, গত বুধবার মিয়ানমার থেকে অন্তত ৯ জন মিজোরাম সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছেন। ‘দ্য হিন্দু’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বুধবার থেকে গতকাল পর্যন্ত অন্তত ২০ জন আশ্রয়ের জন্য ভারতে প্রবেশ করেছেন।

সম্প্রতি জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে নিযুক্ত মিয়ানমারের দূত কায়া মোয়ে তুং। এ ঘটনার পর তাঁকে বরখাস্ত করে জান্তা সরকার। এরপর তাঁর সহকারী তিন মং নায়িংকে নতুন দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু গতকাল মং নায়িং পদত্যাগ করে জানান, মোয়ে তুং এখনো মিয়ানমারের দূত। এ জন্য তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জাতিসংঘের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, জান্তা সরকারের কোনো স্বীকৃতি নেই। এ কারণে মোয়ে তুংকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয়। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স।

মন্তব্য