kalerkantho

শুক্রবার । ৩ বৈশাখ ১৪২৮। ১৬ এপ্রিল ২০২১। ৩ রমজান ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন

প্রতিবেশীদের মধ্যে সমস্যার সমাধান আলোচনাতেই

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

৫ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিবেশীদের মধ্যে সমস্যার সমাধান আলোচনাতেই

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গতকাল গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর। এ সময় তাঁর বাবা কৃষ্ণস্বামী সুব্রামানিয়ামের লেখা দুটি বই প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দেন তিনি। ছবি : সংগৃহীত

প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সমস্যা থাকতে পারে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমেই সেগুলোর সমাধান হওয়া উচিত।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইউএনবি জানায়, এলডিসি গ্রুপ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জয়শঙ্কর। তিনি বলেছেন, এটি বিরাট এক অর্জন। বাংলাদেশের অগ্রগতি বিস্ময়কর।

কভিড-১৯ মহামারি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসক, প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যসহ সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশ কভিড মোকাবেলায় ও কভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দ্রুত উদ্যোগ নিয়েছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ গত মাসে দেশজুড়ে টিকা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবাইকে টিকা দেওয়ার কর্মসূচির আওতায় আনতে ধাপে ধাপে টিকা দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী কভিড-১৯ টিকার ক্ষেত্রে ভারতের সহযোগিতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, কভিড মহামারি, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে চলছে। এই সময়ে রেমিট্যান্সপ্রবাহ বেড়েছে। মহামারির মধ্যে কৃষিকেই বাংলাদেশের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আরো খাদ্যশস্য উৎপাদনের ওপর আমরা জোর দিয়েছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, কঠিন এই সময়ে বিদেশ থেকে আসা প্রবাসীদেরও সরকার সহযোগিতা দিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, কভিড-১৯ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে ভারত অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘এই অঞ্চলের আমরা সবাই কভিড-১৯ মহামারির কারণে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি।’

ড. জয়শঙ্কর বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে অংশ নিতে পারা ভারতের জন্য বিশাল সম্মানের বিষয়। সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে অংশ নিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলেও শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ড. জয়শঙ্কর তাঁর বাবা কৃষ্ণস্বামী সুব্রামানিয়ামের লেখা দুটি বই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দেন। বই দুটির একটির নাম ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’, আরেকটি ‘বাংলাদেশ ও ভারতের নিরাপত্তা’। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিষয়ে গোয়েন্দা শাখার গোপনীয় নথি নিয়ে লেখা ১৪ খণ্ড বইয়ের সাত খণ্ড ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উপহার দেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিকবিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, বাংলাদেশে ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী উপস্থিত ছিলেন।

 

 

মন্তব্য