kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

সাক্ষাৎকার : শেখ ফজলে নূর তাপস, মেয়র, ডিএসসিসি

খাল বাঁচাতে নদীর প্রবাহ বাড়াতে হবে

২ মার্চ, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



খাল বাঁচাতে নদীর প্রবাহ বাড়াতে হবে

রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে গত ৩১ ডিসেম্বর ওয়াসার কাছ থেকে ঢাকার ২৬টি খালের দায়িত্ব বুঝে নেয় দুই সিটি করপোরেশন। দায়িত্ব নেওয়ার দিনই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ২ জানুয়ারি থেকে খাল পরিষ্কার এবং পারের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরুর ঘোষণা দেন। ঘোষণামতোই কাজও শুরু হয়। তবে খালের সংযোগস্থল হচ্ছে নদী। সেই নদীর নাব্যতা না থাকলে খাল পরিষ্কার অভিযান কতটা ফলপ্রসূ হবে সে বিষয়ে কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক শম্পা বিশ্বাস।

 

কালের কণ্ঠ : ঢাকা মহানগরীর খাল উদ্ধারের পাশাপাশি নদী নিয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

শেখ ফজলে নূর তাপস : খালের সঙ্গে নদী সম্পর্কযুক্ত। খালগুলো থেকে পানি নিষ্কাশিত হয়ে নদীতে যাচ্ছে। যেমন রামপুরা এবং জিরানী খাল দিয়ে বালু নদে পানি প্রবাহিত হয়। কিন্তু বালু নদ ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে পানির প্রবাহটা নেই। আমরা ভেতরের খাল পরিষ্কার করছি, পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করছি; কিন্তু সেটা যদি প্রবাহ না পায়, তাহলে পানিটা সঠিকভাবে নিষ্কাশিত হবে না। নগরীর খাল বাঁচাতে নদীর প্রবাহ বাড়ানোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এই সামগ্রিক বিষয়গুলো আমাদের পরিকল্পনার আওতায় এনেছি। এটা নিয়ে আমাদের ব্যাপক কর্মযজ্ঞ চলছে। আমাদের প্রচেষ্টা হলো আগামী বর্ষার আগেই ঢাকা নগরীর খাল ও কালভার্টের সংযোগটা পানিপ্রবাহের আওতায় নিয়ে আসা। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরই খাল থেকে বর্জ্য ও পলি অপসারণে স্বল্পমেয়াদি কাজ শুরু করেছি। এটা আমরা সম্পূর্ণ নিজেদের অর্থায়নে করছি। সেখানে প্রায় ১০৫ কোটি টাকা খরচ হবে। এর সঙ্গে আমরা মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়েছি, যেটার আওতায় আমরা খালগুলোকে রক্ষণাবেক্ষণ করব। খালের আশপাশের জায়গা যেন আবারও দখল না হয়ে যায় সে জন্য সুপ্রশস্ত যাতায়াত ব্যবস্থা করা, বিশেষ করে হেঁটে এবং সাইকেলে করে পথচলার ব্যবস্থা। যেসব জায়গা একটু প্রশস্ত, সেসব জায়গায় আমরা নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টি করব, যাতে নগরবাসী একটু নান্দনিকতা খুঁজে পায়। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য অবশ্যই একটি বড় বাজেটের প্রয়োজন। এ জন্য আমরা প্রাথমিকভাবে সরকারের কাছে ৯৮১ কোটি টাকার প্রকল্প জমা দিয়েছি। প্রকল্পটি যদি এ বছরই অনুমোদন হয় এবং আগামী সেপ্টেম্বর-অক্টোবর নাগাদ যদি আমরা কাজটি শুরু করতে পারি, তাহলে সেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দৃশ্যমান বাস্তবায়ন করতে পারব।

 

কালের কণ্ঠ : নদীগুলোকে কিভাবে দখলমুক্ত ও সচল করা যাবে? এছাড়া খাল নিয়ে আপনাদের মহাপরিকল্পনা কী?

শেখ তাপস : এটি নিয়ে তো আলাদা কমিটি আছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি কাজ করছে। আমাদের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নেতৃত্বেই সেই কমিটি এবং সেখানে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীসহ আমরা সিটি করপোরেশনও আছি। অনেক আগেই প্রধানমন্ত্রী এটির জন্য একটি কমিটি করে দিয়েছেন। তারা ঢাকা ও চট্টগ্রামের নদী নিয়ে কাজ করে। মূলত এই শহর দুটির পাশ দিয়ে যে নদীগুলো প্রবাহিত রয়েছে, সেগুলোর দূষণ রোধ এবং নাব্যতা বাড়ানোর কাজ করছে এই কমিটি। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা শহরের পাশ দিয়ে প্রবাহিত বুড়িগঙ্গা, বালু, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা নদী যাতে পরিপূর্ণভাবে নাব্যতা পায় সে বিষয়গুলো আমরা তুলে ধরছি কমিটির কাছে। সে বিষয়ে কার্যক্রমও নেওয়া হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : খাল গিয়ে নদীতে মিশেছে, সে ক্ষেত্রে নদীতে প্রবাহ না থাকলে খাল বাঁচবে কিভাবে?

শেখ তাপস : বর্ষা এলেই ঢাকাবাসী জলাবদ্ধতায় ভুগতে থাকে। এটার একটা বড় কারণ হলো, একসময় ঢাকা শহরে প্রাকৃতিকভাবে অনেক খাল ছিল। এই খাল দিয়েই মূলত নদীতে যেত পানি। পর্যায়ক্রমে এসব খাল দখল হয়ে গেছে। এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণও হয়নি। ফলে পানি নিষ্কাশন ঠিকভাবে হয়নি। এ কারণে মূল ঢাকায় এই জলাবদ্ধতা হয়ে থাকে। পাশাপাশি এটা অবশ্যই বাঞ্ছনীয় যে নদীর নাব্যতা না থাকলে শহরগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে। তবে বর্তমানে যে কমিটি আছে তাদের নেতৃত্বে ঢাকার চারপাশের নদীর নাব্যতা বাড়ানোর কাজ চলছে। সে বিষয়ে তাদের যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল, সেটা তারা দিয়েছে। তারাই মূলত এই বিষয়টি দেখছে।

 

কালের কণ্ঠ : এ বিষয়ে নৌ মন্ত্রণালয়ের কাছে আপনাদের কোনো সুপারিশ আছে কি?

শেখ তাপস : না। আলাদা কোনো সুপারিশ নেই। কারণ আমরা তো যথাযথভাবেই ওই সভায় থাকি এবং বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ করি। এর ভিত্তিতে কার্যক্রম নিয়ে থাকি। এটা নিয়ে আরো বিস্তারিত জানাতে পারবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কমিটি।

 

কালের কণ্ঠ : দায়িত্ব পাওয়ার পর ডিএসসিসি খাল নিয়ে যে কার্যক্রম শুরু করেছে, তা কত দূর এগিয়েছে? আপনি অঙ্গীকার করেছেন এ বছর রাজধানীবাসী জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবে, তিন মাসে সেটি সম্ভব কি না?

শেখ তাপস : এ পর্যন্ত আমরা খালের ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করেছি। এর মধ্যে প্রায় ১০ কিলোমিটার থেকে এক লাখ মেট্রিক টন বর্জ্য ও পলি মাটি সরিয়েছি। এই কাজের জন্য এরই মধ্যে ওয়াসা থেকে পাম্প স্টেশন এবং যন্ত্রপাতি পেয়েছি। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, সেই পাম্প স্টেশনগুলো অচল। এই পাম্প স্টেশনগুলো বসানো হয়েছে যাতে ঢাকার ভেতরের পানি বাইরে ফেলা যায়। এগুলো যদি আমরা সচল করতে না পারি, তাহলে আগামী তিন মাসে কাজ শেষ করা আসলে খুবই দুরূহ হবে। আমরা ওয়াসার অচল পাম্পগুলো সচল করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। যদি আমরা দেখি এপ্রিলের মধ্যে সেটা সম্ভব হচ্ছে না, তাহলে আমরা চেষ্টা করব ঢাকা শহরে যে পাম্পগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো দিয়ে পানিটা নিষ্কাশন করতে। অবশ্য মার্চের মাঝামাঝি সময়ে আমরা বুঝতে পারব, আমরা কোন পর্যায়ে রয়েছি।

 

কালের কণ্ঠ : ঢাকাকে আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে আপনার কোনো মাস্টারপ্ল্যান আছে কি না? এ ক্ষেত্রে আপনি কোন বিষয়কে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে মনে করছেন?

শেখ তাপস : ঢাকাকে ঘিরে আমাদের একটি বড় পরিকল্পনা হচ্ছে এখানে একটি সেন্ট্রাল বিজনেস ডিস্ট্রিক্ট (সিবিডি) করা। বাইরের দেশগুলোতে একটি শহর থাকে ফিন্যানশিয়াল ডিস্ট্রিক্ট হিসেবে। যেহেতু ঢাকা আমাদের রাজধানী, সে ক্ষেত্রে আমরা মনে করি, ফিন্যানশিয়াল ডিস্ট্রিক্ট ঢাকারই হওয়া উচিত। বর্তমানে যানজটের কারণে আমরা আসল ঢাকার রূপটা ওইভাবে উপলব্ধি করতে পারি না। তাই আমরা নদীর পার দিয়ে প্রশস্ত সড়ক ব্যবস্থা করতে চাই। তাহলেই আধুনিক ঢাকার রূপটা ফুটে উঠবে। আমাদের মহাপরিকল্পনা রয়েছে আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলকে পুনরুদ্ধার করার। সেটির পাশ দিয়ে কামরাঙ্গীর চরকে নিয়ে আধুনিক নগরী গড়ে তোলার একটি পরিকল্পনা করেছি। এ ছাড়া একটি মডেল টাউনশিপ তৈরি করতে চাই আমরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা