kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

লেখক মুশতাকের মৃত্যু

‘কালাকানুন’ বাতিল দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘কালাকানুন’ বাতিল দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত

কারাবন্দি অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর প্রতিবাদে সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত আছে। রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে গতকাল তোলা। ছবি : শেখ হাসান

লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে গত শুক্রবার রাজধানীর শাহবাগে বিক্ষোভের সময় আটক সাতজনের বিরুদ্ধে পুলিশ হত্যাচেষ্টার মামলা করেছে। গতকাল শনিবার আদালত তাঁদের কারা ফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দিয়েছেন। পুলিশের করা রিমান্ড আবেদন নাকচ করে দিয়ে ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়া এ আদেশ দেন।

লেখক মুশতাকের মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত ও বিচার, বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের হামলার বিচার, গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবিতে গতকালও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলো বিক্ষোভ করেছে।

রাজধানীর রমনা মডেল থানায় গত বছর ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন লেখক মুশতাক আহমেদ। গত বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান। এ ঘটনায় বিভিন্ন সংগঠন ক্ষোভ প্রকাশ করে। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দিনভর শাহবাগ ও জাতীয় প্রেস ক্লাব এলাকায় বিক্ষোভ করে বিভিন্ন সংগঠন। সন্ধ্যায় শাহবাগে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো মশাল মিছিল বের করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে ও লাঠিপেটা করে তাদের  ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় সাতজনকে আটক করা হয়। রাতে শাহবাগ থানায় উপপরিদর্শক (এসআই) মিন্টু মিয়া বাদী হয়ে তাঁদের নাম উল্লেখ করে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন। এই সাতজন হলেন তামজীদ হায়দার, নজিব আমিন চৌধুরী জয়, এ এস এম তানজিমুর রহমান, আকিব আহম্মেদ, আরাফাত সাদ, নাজিফা জান্নাত ও জয়তী চক্রবর্তী। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১০০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকালে সাতজনকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক শহীদুল ইসলাম প্রত্যেক আসামির সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সাতজনকে কারা ফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তাঁদের জামিন শুনানির জন্য আগামী বুধবার দিন ধার্য করেন।

জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ মামুন অর রশীদ বলেন, মামলার বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বিক্ষোভ অব্যাহত : বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো গতকাল সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করে। এ সময় তাদের চারপাশে পুলিশের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়া দুপুরে শাহবাগ থানার সামনের রাস্তা দিয়ে মিছিল করেছেন বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। তাঁরা মিছিল নিয়ে টিএসসিতে আসেন। মিছিলটি শাহবাগ থানার ফটক অতিক্রম করার সময় ফটকটি বন্ধ ছিল। সামনে অবস্থান করছিলেন ১৫-২০ জন পুলিশ সদস্য। মিছিলটি রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে পরীবাগ মোড় পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।

রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোটের সমন্বয়ক ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের (বাসদ) কেন্দ্রীয় সভাপতি আল কাদেরী বলেন, ‘শুক্রবার আমাদের শান্তিপূর্ণ মশাল মিছিলে পুলিশের হামলায় ৩০-৪০ জন আহত হয়েছেন। বিনা উসকানিতে আমাদের সাতজন নেতাকর্মীকে পুলিশ আটক করেছে। আমরা অবিলম্বে তাঁদের মুক্তি দাবি করছি। তাঁদের মুক্তি না দেওয়া হলে ছাত্ররা বসে থাকবে না। আমরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তুলব।’

আল কাদেরী আরো বলেন, “লেখক মুশতাক আহমেদের কারাগারে ‘নির্মম হত্যাকাণ্ডের’ বিচার, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার থাকা ব্যক্তিদের মুক্তি ও আইনটি বাতিলের দাবি জানাচ্ছি আমরা। এসব দাবিতে আগামী সোমবার সারা দেশে বিক্ষোভ হবে। ঢাকায় সেদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করব আমরা। এতেও দাবি আদায় না হলে শুধু মন্ত্রণালয় নয়, গণভবন ও বঙ্গভবন ঘেরাও করব আমরা।”

একই দাবিতে গতকাল সকাল ১১টার দিকে গণসংহতি আন্দোলনের ছাত্রসংগঠন ছাত্র ফেডারেশনও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। মিছিলটি টিএসসি থেকে শুরু হয়ে রোকেয়া হলের সামনে দিয়ে রাজু ভাস্কর্য হয়ে শাহবাগের দিকে যায়। সেখান থেকে আবার টিএসসিতে এসে রাজু ভাস্কর্যের সামনে সমাবেশ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

‘বাংলাদেশের প্রতীকী লাশ’ নিয়ে মিছিল : গতকাল বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে ‘মুশতাকসহ সব গুম-খুন-হত্যার প্রতিবাদে খাটিয়া মিছিল’ শীর্ষক এক কর্মসূচি শুরু হয়। খাটিয়ায় ‘বাংলাদেশের প্রতীকী লাশ’ নিয়ে ‘বাংলাদেশের জনগণ’ ব্যানারে মিছিলটি হয়। এই কর্মসূচিতে ‘মৌলিক বাংলা’ নামের একটি সংগঠনের নেতাকর্মীসহ লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন ব্যক্তি অংশ নেন। কলেমা শাহাদাত পাঠ করতে করতে খাটিয়া নিয়ে মিছিলটি টিএসসি থেকে শাহবাগে পৌঁছলে পুলিশ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা উপেক্ষা করেই মিছিলটি এগিয়ে যায়। কিন্তু মিছিলটি বাংলামোটর পর্যন্ত যেতে চাইলে পুলিশ আবার বাধা দেয়। পরে পরীবাগ মোড় ঘুরে শাহবাগ হয়ে টিএসসিতে ফিরে আসেন মিছিলকারীরা। কর্মসূচির অন্যতম আয়োজক লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট আবু মোস্তাফিজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রতীকী লাশ নিয়ে আমরা খাটিয়া মিছিলটি করলাম, যাতে জনগণ তাদের অধিকার ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সচেতন ও সজাগ হয়।’

মন্তব্য