kalerkantho

সোমবার । ৬ বৈশাখ ১৪২৮। ১৯ এপ্রিল ২০২১। ৬ রমজান ১৪৪২

অপপ্রয়োগে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে

হাসানুল হক ইনু

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অপপ্রয়োগে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে

এখন ডিজিটাল যুগ। ডিজিটালব্যবস্থায় নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করা জরুরি। তাই সরকার ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের ডিজিটাল নিরাপত্তার স্বার্থে আইন প্রণয়ন করছে। সাইবার তথা ডিজিটাল অপরাধের কবল থেকে রাষ্ট্র এবং জনগণের জান, মাল ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান এ আইনের অন্যতম লক্ষ্য। কিন্তু এখন অভিযোগ উঠেছে, আইনের অপপ্রয়োগ হচ্ছে। এই অভিযোগ আমলে নেওয়া দরকার। অভিযোগ তদন্ত করে দেখা দরকার। প্রয়োজনে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে আইনের ফাঁক-ফোকরগুলো চিহ্নিত করা দরকার। এরপর আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে অপপ্রয়োগের পথ বন্ধ করতে হবে।

বর্তমান সরকার সারা দেশকে ডিজিটালব্যবস্থার আওতায় এনেছে। ডিজিটাল বিষয়টি আগে না থাকায়, ডিজিটাল নিরাপত্তার বিষয়টিও ছিল না। এখন সর্বক্ষেত্রে ডিজিটালব্যবস্থা চালু হয়েছে। এতে কিছু সমস্যা ও সংকটও দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনলাইনে যখন একজন সাংবাদিকের চরিত্র হনন করা হয়, একজন গৃহিণীকে যখন অপবাদ দেওয়া হয়, একজন সাধারণ মানুষ যখন ডিজিটাল আক্রমণের শিকার হন, তিনি কোন আইনে প্রতিকার পাবেন? তখন কোন আইনের বলে তিনি নিরাপত্তা পাবেন? সে জন্যই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন।

রাষ্ট্র ও সমাজে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সবার গোপনীয়তা রক্ষার বিধান থাকা দরকার। নারী-শিশু থেকে সাধারণ মানুষ যাতে ডিজিটালব্যবস্থায় হয়রানির শিকার না হন, সেটাও দেখা সরকারের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব থেকে আইনটি করা হয়। সেখানে নারী-শিশুসহ সবার ব্যক্তিগত এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আইনে সাইবার অপরাধী ও হ্যাকারদের হাত থেকে ডিজিটাল জগতের নিরাপত্তার স্বার্থ অগ্রাধিকার পেয়েছে। এ  ক্ষেত্রে আইনটি কার্যকর ভূমিকাও রাখছে।

তবে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে আইনটির অপপ্রয়োগ ও তার মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ আনা হয়েছে। এমনকি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দি লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই মৃত্যু অনাকাঙ্ক্ষিত, দুঃখজনক। লেখক মুশতাক, কার্টুনিস্ট শিশির—এঁরা তো দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার লোক নয়, তাহলে তাঁদের কেন জামিন দেওয়া হলো না। কেন তাঁদের জামিন বারবার নামঞ্জুর হয়, সেটাও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তথ্য মন্ত্রণালয়ের নয়, এটা তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের। এই আইনের কোনো ধারায় গণমাধ্যম বা গণমাধ্যমকর্মীদের কথা বলা হয়নি। সংবিধানের ৩৯ ধারা, তথ্য অধিকার আইন, সম্প্রচার আইন, গণমাধ্যমকর্মী আইন—এসব আইন সমুন্নত রেখেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন কাজ করবে—এটাই আমরা আশা করি। কিন্তু আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কারা-কিভাবে এই আইনের অপপ্রয়োগ করছে, সেটা দেখা দরকার। এটা নিয়ে আমরা আগামী দিনে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আলোচনা করব। অপপ্রয়োগের পথ বন্ধ করে আইনটিকে আরো কিভাবে জনস্বার্থে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সুপারিশ তুলে ধরব।

(লেখক : সভাপতি, তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা