kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ হবে—এমন আশঙ্কায় আইনটি পাসের পর থেকেই নানা মহলে উদ্বেগ ছিল। এই আইনের মামলায় কারাগারে থাকা অবস্থায় লেখক মুশতাকের মৃত্যুর ঘটনায় সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো। সংবিধানস্বীকৃত বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী আখ্যায়িত করে এই আইন সংশোধনের দাবি উঠেছে

বিষয়টি মানুষের কাছে উপস্থাপন জরুরি

অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক

২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বিষয়টি মানুষের কাছে উপস্থাপন জরুরি

এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ঘটনা যে মুশতাক আহমেদ জামিন পাননি এবং পরবর্তী সময়ে তিনি মারা গেলেন। আমার মনে হয়, সরকারের পক্ষ থেকে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে তারা সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করবে। এরপর তা সাধারণ মানুষের কাছে উপস্থাপনের প্রয়োজন আছে। মুশতাক আহমেদের লেখার কারণে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সেখানে রাষ্ট্রবিরোধী কোনো বিষয় ছিল কি না তা তদন্ত কমিটি দেখবে। তাঁকে যথাযথ কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল কি না? জামিনটা তাঁকে কেন দেওয়া হয়নি? আর তিনি তো একবার-দুইবার নয়, ছয়বার জামিনের জন্য আবেদন করেছিলেন। এখন পুরো বিষয়টি সাধারণ মানুষের সামনে উপস্থাপন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আর এর সঙ্গে সরকারের ভাবমূর্তিও জড়িয়ে আছে।

সাধারণ মানুষের অধিকার আছে তারা আন্দোলন করবে, প্রতিবাদ করবে, দাবি জানাবে। এখানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শান্তভাবে সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এখন ঘটনা ঘটেছে, জলজ্যান্ত একজন মানুষ কারাগারে মারা গেছেন, মানুষ তো প্রতিবাদ করবেই। তবে প্রতিবাদীদের ওপর কোনোরূপ দোষারোপ করা বা আক্রমণ না করে তাদের বোঝানো উচিত। বলা উচিত, সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্তে কারোর কোনোরূপ দোষ-ত্রুটি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের সময়ে তথ্যটা যত দ্রুত সম্ভব সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় ততই সমস্যাটা সমাধানের দিকে যায়।

আমাদের দেশে এ ধরনের ঘটনা আমরা মাঝেমধ্যে লক্ষ করি। তবে আইনের শাসনের জন্য সরকার সচেষ্ট আছে। আইনের শাসন সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কিন্তু আইনের শাসনের সঙ্গে যারা যুক্ত, সরকারি প্রশাসনযন্ত্রের সেখানে বিভিন্ন স্খলন আমরা দেখি। আসলে সরকারের ভেতরের কিছু মানুষ এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করে, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করে।

(লেখক : সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

 

 

 

মন্তব্য