kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

খ্যাতিমান ব্যাংকার ইব্রাহিম খালেদের চিরবিদায়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খ্যাতিমান ব্যাংকার ইব্রাহিম খালেদের চিরবিদায়

খ্যাতিমান ব্যাংকার, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ মারা গেছেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চলতি মাসের শুরুতে তিনি শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হলেও নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। গত ২১ ফেব্রুয়ারি তাঁকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গতকাল বুধবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।

গত রাতে গোপালগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে ইব্রাহিম খালেদকে দাফন করা হয়েছে। এর আগে সকাল ১১টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় কচিকাঁচা ভবনে তাঁর প্রথম জানাজা, বাদ জোহর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা এবং বাদ এশা গোপালগঞ্জ শহরে তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, সংস্কৃতিজন ও তাঁর শুভানুধ্যায়ীরা অংশ নেন।

ইব্রাহিম খালেদ স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন।

বিএসএমএমইউর উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া সাংবাদিকদের জানান, খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ করোনায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। আরো কিছু জটিল সমস্যা ছিল। এ ছাড়া বয়সও হয়েছে।

ইব্রাহিম খালেদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেছেন, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সুষ্ঠু বিকাশে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ যে মেধা ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন, তা এ দেশের মানুষ আজীবন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

পৃথক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতের বিকাশে খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আরো শোক জানিয়েছেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদ, রেলপথ মন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম এবং সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আতাউর রহমান প্রধান। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) পক্ষ থেকেও শোক জানানো হয়।

১৯৪১ সালে গোপালগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভূগোলে স্নাতকোত্তর ও আইবিএ থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করে ১৯৬৩ সালে ব্যাংকিং পেশায় যুক্ত হন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ইব্রাহিম খালেদ ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ছিলেন সোচ্চার। তিনি সত্য প্রকাশ ও সত্য বচনে ছিলেন আপসহীন। অন্যায়ের সমালোচনা করতে গিয়ে কখনো দল ও ব্যক্তি বিবেচনা করতেন না। তাঁর বিদায়ে আর্থিক খাতে যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা পূরণ হওয়ার নয়।

ইব্রাহিম খালেদের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, তিনি ছিলেন ব্যাংক ও আর্থিক খাতের একজন দক্ষ, যোগ্য এবং সাহসী ব্যক্তিত্ব। অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক নিয়ে তাঁর বিশ্লেষণ ছিল জ্ঞানগর্ভ এবং বাস্তবমুখী। ইব্রাহিম খালেদ ছিলেন জ্ঞানী এবং গভীর বিশ্লেষক।

১৯৯৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ছিলেন ইব্রাহিম খালেদ। ২০০০ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি পূবালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। আর ২০২০ সালের ৯ ডিসেম্বর থেকে পূবালী ব্যাংক পরিচালনা পর্ষদে স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ১৯৯৬ সালে অগ্রণী ব্যাংক এবং ১৯৯৭ সালে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে শেয়ারবাজারের পতনের কারণ অনুসন্ধানে সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন তিনি।

ব্যাংকিং ও অর্থনীতি ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য ইব্রাহিম খালেদকে ২০০৯ সালে ‘খান বাহাদুর আহছানউল্লা স্বর্ণপদক’ ও ২০১৩ সালে ‘খান বাহাদুর নওয়াব আলী চৌধুরী’ জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হয়। ২০০০ সাল থেকে তিনি কেন্দ্রীয় কচিকাঁচার মেলার পরিচালক, নির্বাহী পরিষদের সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ২০১১ সালে বাংলা একাডেমি ইব্রাহিম খালেদকে সম্মানসূচক ফেলোশিপ দেয়।

 

মন্তব্য