kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

জাবি ও গেরুয়া গ্রামের বিরোধ

নেতাদের উদ্ধারে গিয়ে বিপাকে শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নেতাদের উদ্ধারে গিয়ে বিপাকে শিক্ষার্থীরা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পাশের গেরুয়া গ্রামে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় এক যুবককে তুলে নিয়ে মারধর ও দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। খবর পেয়ে ওই যুবককে উদ্ধার করতে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের অবরুদ্ধ করে গেরুয়া গ্রামবাসী। অবরুদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানালে তাঁদের উদ্ধারে এগিয়ে যান আশপাশের গ্রামগুলোতে ভাড়া থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক শ সাধারণ শিক্ষার্থী। আর এই নেতাদের উদ্ধার করতে গিয়েই বিপাকে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৪০ জন শিক্ষার্থী আহত হন। ফলে যে শিক্ষার্থীরা গেরুয়া গ্রামে থাকতেন বাধ্য হয়ে তাঁদের ছাড়তে হচ্ছে ওই গ্রাম।

ঘটনার দিন শুক্রবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী পিয়াস ইজাদ্দার বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত একটি ফেসবুক গ্রুপে অবরুদ্ধের বিষয়টি জানান। এর পরই সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাঁদের উদ্ধারে গেলে গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

অন্যদিকে প্রায় এক বছর ধরে হলসহ বন্ধ রয়েছে ক্যাম্পাস। এতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা গেরুয়া ও ইসলামনগর এলাকায় অস্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এতে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে তাঁদের সখ্য গড়ে ওঠে, কিন্তু একটা সময় প্রভাব বিস্তারসহ নানা ইস্যুতে স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মনোমালিন্য সৃষ্টি হয়।

আবার গেরুয়া গ্রামের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিপাকে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। নিরাপত্তাহীনতা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে গেরুয়া গ্রাম ছেড়ে তাঁরা বাধ্য হন জোর করে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে উঠতে। কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক হল খোলা নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব হল থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে সিলগালা করে দেয়। একদিকে হল বন্ধ, অন্যদিকে গেরুয়া গ্রামে নিরাপত্তাহীনতার উভয় সংকটে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। হঠাৎ এ রকম পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী গেরুয়া গ্রাম ছেড়ে চলে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন অন্য এলাকায়, কিন্তু ওই এলাকাগুলোয় রয়েছে আবাসনসংকট।

স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী শহীদুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এতটা অনিশ্চয়তা আর ঝুঁকি নিয়ে গেরুয়া গ্রামে থাকার মানে হয় না। এভাবে ঝুঁকি নিয়ে থেকে পড়াশোনায় মন দেওয়া অসম্ভব। কয়েক দিন ধরে উদ্বাস্তুর মতো আছি। হলে গেলে বের করে দেয়, গেরুয়া গ্রামে যাই না কখন কী হয়। এ অবস্থায় ভাবছি, ইসলামনগর কিংবা আমবাগান এলাকায় চলে যাব।’

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাদ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ভেবেছিলাম, এ রকম সংকটকালীন পরিস্থিতিতে আমাদের কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন হলগুলো খুলে দেবে। উল্টো আমরা যারা গেরুয়া গ্রাম ছেড়ে হলে উঠেছিলাম তাদের বের করে দিয়ে হল সিলগালা করে দিয়েছে। বাধ্য হয়ে আবার অনিরাপদ গেরুয়া গ্রামে ফিরে এসেছি। এত ঝুঁকি নিয়ে থাকা অসম্ভব।’

করোনার কারণে গত বছর ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় চলছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ টিউশন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উত্তোলন, পার্টটাইম জব, চাকরির পড়াশোনা কিংবা অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় নেট সুবিধা পেতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া করে অবস্থান করছেন। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে আমবাগান, গেরুয়া, ইসলামনগর, পানধোয়া, কলাবাগান, জামসিং। বর্তমানে এসব গ্রামে দুই থেকে আড়াই হাজার শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন। এর মধ্যে শুধু গেরুয়া গ্রামেই অবস্থান করছেন পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী।

মন্তব্য