kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে মোমেন ব্লিনকেন ফোনালাপ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



স্ট্র্যাটেজিক সম্পর্ক চায় বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের সঙ্গে নিবিড় ও টেকসই যোগাযোগ রেখে ওই দেশের সঙ্গে অংশীদারি সম্পর্ককে স্ট্র্যাটেজিক মাত্রায় উন্নীত করতে চায় বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গত মঙ্গলবার রাতে ওয়াশিংটন ডিসিতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গে ফোনালাপে এ কথা জানান।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই ফোনালাপে উভয় পক্ষ গণতন্ত্র, সুশাসন ও মানবাধিকার প্রসারে একসঙ্গে কাজ করতে একমত হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর আরো চাপ সৃষ্টির অনুরোধ জানান। তিনি মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং জিএসপি বাতিলেরও পরামর্শ দেন। মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ায় উদ্বেগ জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। 

অ্যান্টনি ব্লিনকেনের সঙ্গে বৈঠকসহ বেশ কিছু কর্মসূচি নিয়ে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। যাওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে বৈঠকসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কথা জানিয়েছিলেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফরের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাইডেন প্রশাসনের মনোভাব জানা এবং বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা। সফরের প্রথম দিকেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. মোমেনের টেলিফোনে আলাপ হয়েছে।

ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আলোচনার শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে ‘ক্রমবর্ধমান ও গভীর’ হিসেবে উল্লেখ করেন। কভিড-১৯ সংক্রান্ত বিধি-নিষেধের কারণে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে না পারায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

ওয়াশিংটন ডিসির কূটনৈতিক সূত্রগুলোও বলছে, কভিডসংক্রান্ত বিধি-নিষেধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাইরের কারো সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন না। টেলিফোন বা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠক বা সাক্ষাৎ হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নেড প্রাইস এক বিবৃতিতে বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে ব্লিনকেন আজ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন অর্থনৈতিক সহযোগিতা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো জোরদার করার উপায় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো অভিন্ন চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলায় একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, দুই নেতা ‘বার্মা’ (মিয়ানমার), রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের একটি টেকসই সমাধান এবং শ্রম ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার গুরুত্ব নিয়েও আলোচনা করেছেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিনকেন ২০২১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং উভয় নেতা দক্ষিণ এশিয়া ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

এদিকে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রেখে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে আবারও বৈশ্বিক নেতৃত্বে ফেরায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনকে অভিনন্দন জানান। কভিড মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের ভূমিকার তিনি প্রশংসা করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ে সফর বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন। এ প্রসঙ্গে তিনি শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বাংলাদেশ সফর প্রত্যাশা করেন। বাংলাদেশে আর্থসামাজিক অগ্রগতি দেখতে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে অংশ নিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই দেশের সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করার জন্য এবং বৈশ্বিক বিষয়ে সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য দুই নেতা সম্মত হন। তাঁরা কভিড পরিস্থিতি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা, বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানো, মানবাধিকার, শ্রম অধিকারসহ অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

মন্তব্য