kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

খালেদার বিদেশে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা বাদ চায় বিএনপি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



খালেদার বিদেশে যাওয়ার নিষেধাজ্ঞা বাদ চায় বিএনপি

দেশে থাকার যে শর্তে দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত খালেদা জিয়াকে সাময়িক মুক্তি দেওয়া হয়েছে, এখন বিদেশে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ দিতে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে তাঁর দল বিএনপি। গতকাল সোমবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে এই দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা যতটুকু জানি তিনি (খালেদা জিয়া) দারুণভাবে অসুস্থ। তাঁর সুচিকিৎসা প্রয়োজন, যেটা এখানে সম্ভব নয়। এমনকি যে হাসপাতালে তিনি ছিলেন, সেখানেও সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনে সুচিকিৎসার জন্য তাঁর বাইরে যাওয়া হয়তো দরকার হবে। এ ব্যাপারে সরকারের একটা নিষেধাজ্ঞা আছে। আমরা দাবি জানাব, এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হোক এবং খালেদা জিয়ার এই মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হোক, যেন তিনি তাঁর চিকিৎসার প্রয়োজনে যখন যেখানে চান যেতে পারেন।’

গত বছরের ২৫ মার্চ থেকে সরকার নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাস স্থগিত করে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার পর থেকে তিনি গুলশানে নিজের বাসা ‘ফিরোজা’য় আছেন। প্রথম দফার পর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরো ছয় মাস সাজা মওকুফ করা হয়, যার মেয়াদ আগামী ২৪ মার্চ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গুলশানের বাসায় খালেদা জিয়ার ভাই-বোন ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ছাড়া অন্য কেউই দেখা করতে পারেন না। দলের পক্ষ থেকে খালেদা জিয়া ‘গৃহবন্দি’ বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

গত শনিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলোও সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরা হয়।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এ দেশের ইতিহাস বলে, অসুস্থতার কারণে রাজনৈতিক নেতাদের বাইরে যাওয়ার বহু দৃষ্টান্ত আছে। এমনকি জেলে থাকা অবস্থায়ও বাইরে যাওয়ার দৃষ্টান্ত আছে। কিন্তু খালেদা জিয়ার এ ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে রাখা হয়েছে। এই অযৌক্তিক ও অমানবিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার দরকার। তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে যে কখন কোথায় চিকিৎসার জন্য যেতে চান।’

সরকারের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে বিএনপি এখন কী করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি না। এটা রাজনৈতিক বিষয় না, এটা তাঁর চিকিৎসার বিষয়।’

খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিতাদেশের দ্বিতীয় দফার মেয়াদও ফুরিয়ে আসায় বিএনপি এখন কী প্রত্যাশা করছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘এটা অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। আমরা তো বারবার বলেছি, আমরা তাঁর নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করি। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, তাঁকে সাজাই দেওয়া হয়েছে অন্যায়ভাবে, বিনা অপরাধে। খালেদা জিয়ার চেয়েও বেশি দণ্ডপ্রাপ্ত, তাঁদেরও মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কেন দেওয়া হয়েছে, সেটা আপনারাও জানেন। কারণ এটা খালেদা জিয়ার জন্য প্রযোজ্য না। তিনি সরকারের আপনজন না, প্রতিপক্ষ। সরকার তাঁর প্রতি যে আচরণ করছে, যেটা প্রতিপক্ষের না, শত্রুর আচরণ। আমরা মনে করি, সরকার সবার সরকার হওয়া উচিত।’ খালেদা জিয়া বর্তমানে কেমন আছেন জানতে চাইলে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এ ব্যাপারে তাঁর যারা চিকিৎসক টিম এবং তাঁর আত্মীয়-স্বজনদের বক্তব্য আপনারা বিভিন্ন সময়ে জানছেন এবং প্রকাশও করছেন। এর বাইরে তো বলার কিছু নেই। কারণ আমরা তো তাঁর সঙ্গে দেখাই করতে পারি না। খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার ব্যত্যয় হলে বোঝা যাবে সরকার তাঁর সুচিকিৎসা চায় না।’

স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সম্প্রতি নড়াইলের আদালতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি, বরিশালে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সমাবেশে যোগদানে নেতাকর্মীদের বাধা প্রদান এবং সিলেটের সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীসহ তাঁর সহকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। সেই সঙ্গে বগুড়ায় ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য ও জেলার আহ্বায়ক জি এম সিরাজসহ নেতাকর্মীদের ওপর সরকারি দলের হামলা এবং নোয়াখালীর বসিরহাটে ক্ষমতাসীন দলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে গুরুতর আহত সাংবাদিক মোজাক্কির বোরহান উদ্দিন মারা যাওয়ার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান বিএনপির এই নেতা।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিনকে আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটিতে নিয়োগ করায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। বৈঠকে বলা হয়েছে, একটি সাংবিধানিক পদের অধিকারীকে দলীয় পদে নিযুক্ত করা দেশের ইতিহাসে একটি নতুন ঘটনা এবং নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার কার্যালয়কে নগ্ন দলীয়করণের অপচেষ্টা ও একটি অত্যন্ত মন্দ দৃষ্টান্ত। দেশের বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তার পদের নিরপেক্ষতা যাতে প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অ্যাটর্নি জেনারেলের উচিত হয় দলীয় পদ কিংবা অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে পদত্যাগ করা।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা