kalerkantho

রবিবার। ৫ বৈশাখ ১৪২৮। ১৮ এপ্রিল ২০২১। ৫ রমজান ১৪৪২

ইউএস-বাংলা থেকে এবার ৭ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার আটক ৮

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ইউএস-বাংলা থেকে এবার ৭ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার আটক ৮

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুবাই থেকে আসা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে সাত কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করেছেন কাস্টমস গোয়েন্দারা। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ক্যাটারিং সার্ভিসের আট কর্মীকে আটক করা হয়েছে। গতকাল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা বিএস৩৪২ ফ্লাইট সকাল ৭টায় বিমানবন্দরের ৪ নম্বর বোর্ডিং ব্রিজে অবতরণ করে। বিমানের উচ্ছিষ্ট খাবারের বাক্স ক্যাটারিং সার্ভিসের গাড়িতে তোলা হয়। এ সময় গাড়ি তল্লাশি করে স্বর্ণগুলো পাওয়া যায়।

আটক ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ক্যাটারিং সার্ভিসের আট কর্মী হলেন—ক্যাটারিং সহকারী মো. আলী রেজা, সাদ্দাম হোসেন, রাশেদুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাক, আবু সালেহ, হানিফ দেওয়ান, জাহেদুর রহমান ও ক্যাটারিং হেলপার আশরাফুল আলম। কাভার্ড ভ্যানের স্টোরেজে বিশেষভাবে স্বর্ণগুলো লুকানো ছিল। আটকরা স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করছেন কাস্টমস গোয়েন্দারা।

কাস্টমস গোয়েন্দারা বলছেন, দুবাই থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দরে আসে। ওই বিমান থেকে যাত্রীদের উচ্ছিষ্ট খাবারের বাক্স ক্যাটারিং সার্ভিসের গাড়িতে তোলার পর তল্লাশি চালানো হয়। ওই বাক্সে সাত কেজি ওজনের ৬০ পিস স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। যার আনুমানিক মূল্য চার কোটি ৮৭ লাখ  ২০ হাজার টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ইফতেখার আলম ভুঁইয়া জানান, এ ঘটনায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ক্যাটারিং সার্ভিসের আট কর্মীকে আটকের পাশাপাশি ওই গাড়িটি জব্দ করে বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

এর আগে, গত ২২ জানুয়ারি মাসকাট থেকে ইউএস-বাংলার একটি ফ্লাইটে আসা সারোয়ার উদ্দিন নামে এক যাত্রীর কাছ থেকে সাত কেজি ২৯০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউস। কাস্টমস কর্মকর্তারা বলেন, চোরাচালান প্রতিরোধে কাস্টম হাউস ঢাকার প্রিভেনটিভ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে নজরদারি করতে থাকে। পরে মাসকাট থেকে ইউএস-বাংলার ফ্লাইটে আসা ওই যাত্রীর কাছে থাকা কালো রঙের ছোট একটি ব্যাগে সাত কেজি ২৯০ গ্রাম ওজনের ৬২টি সোনার বার এবং ৯৮ গ্রাম স্বর্ণালংকার পাওয়া যায়। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।

কাস্টম সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে দুই কোটি ৩২ লাখ টাকার চার কেজি ৬৪০ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউস। সোনার বারগুলো কালো স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চোরাচালান প্রতিরোধে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট নম্বর বিএস৩১৬-এর যাত্রী অবতরণের সিঁড়ির নিচে ৪০টি সোনার বার পাওয়া যায়। একই বছরের ৩১ জুলাই একই বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার যাত্রী বহনকারী গাড়ির চালকের কাছ থেকে তিন কেজি ৭১২ গ্রাম সোনা উদ্ধার করে কাস্টম, যার মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা।

২০১৯ সালের ২২ নভেম্বর শাহজালালে তিনটি সোনার বারসহ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কাস্টমার সার্ভিস অ্যাসিস্ট্যান্ট ওমর ফারুককে আটক করে ঢাকা কাস্টম হাউস। বিদেশ থেকে সোনার বারগুলো নিয়ে আসা মামুন মিয়া নামে এক যাত্রীকেও আটক করা হয়। এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ১৭ লাখ ৪০ হাজার টাকা। কাস্টম হাউসের প্রিভেনটিভ টিম বিমানবন্দরের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে ট্রানজিট ও বোর্ডিং এলাকায় নজরদারি এবং তল্লাশি করে। আটক যাত্রী ও ইউএস-বাংলার কর্মীকে পুলিশে দেওয়া হয়।

একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে সোনা চোরাচালানে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ১০ কেজি সোনার বারসহ গ্রেপ্তার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু রোকেয়া শেখ মৌসুমী। পুলিশ দুই দিনের রিমান্ড শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে তাঁকে হাজির করে। এ সময় তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন বিচারক তোফাজ্জল হোসেন।

এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর সকালে এপিবিএন সদস্যরা মৌসুমীকে প্রায় ১০ কেজি সোনাসহ গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় এপিবিএনের এসআই হেলাল উদ্দিন বাদী হয়ে মৌসুমীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় সোনা চোরাচালান আইনে মামলা করেন। মামলায় ইউএস-বাংলা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে যোগ দেওয়া কেবিন ক্রু নেছার উদ্দিন, তাঁর স্ত্রী, যাত্রী সুহেল খাঁ, লাকী ও বাপ্পীকে আসামি করা হয়।

২০১৯ সালের ২০ এপ্রিল ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট থেকে প্রায় সাত কোটি টাকা মূল্যের ১৪ কেজি সোনা জব্দ করে শুল্ক গোয়েন্দা। ওই দিন বিকেলে ব্যাংকক থেকে শাহজালাল বিমানবন্দরে আসা ফ্লাইটের টয়লেটে ওই সোনা পাওয়ার কথা জানায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর শাহজালাল বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে চার কেজি ৬৪ গ্রাম ওজনের সোনার বার উদ্ধার করে ঢাকা কাস্টম হাউস। এয়ারলাইনসের (ফ্লাইট নম্বর বিএস৩২২) ১১এ ও ১১বি সিটের ভেতর থেকে ওই সোনা উদ্ধার করা হয়।

একই বছর ২৪ সেপ্টেম্বর শাহজালাল বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইট থেকে চার কেজি ৬৬৫ গ্রাম ওজনের সোনার বার উদ্ধার করে শুল্ক গোয়েন্দা। এয়ারলাইনসের (ফ্লাইট নম্বর বিএস২০২) থেকে ওই সোনা উদ্ধার করা হয়। এর মূল্য প্রায় দুই কোটি ৩০ লাখ টাকা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা