kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রীর মৃত্যু

ময়নাতদন্তে যৌন হয়রানির আলামত মেলেনি

মারা গেলেন আরেক বন্ধু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ময়নাতদন্তে যৌন হয়রানির আলামত মেলেনি

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বন্ধুর বাড়ি থেকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যাওয়া একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। গতকাল সোমবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজে ওই ছাত্রীর ময়নাতদন্ত করা হয়। এ বিষয়ে গতকাল বিকেলে ওই হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সেলিম রেজা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা ধর্ষণের আলামত পেয়েছি এমনটা বলব না। তবে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্কের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। আর অতিরিক্ত মদ্যপানে ওই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে কি না, তা জানতে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।’

তিনি আরো বলেন, সুরতহালে মেয়েটির শরীরে বিষাক্ত মদের উপস্থিতির কথা বলা হয়েছিল। সে কারণে পরীক্ষার জন্য রক্তও নেওয়া হয়েছে।

এদিকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ছাত্রীটির দুই বন্ধু মর্তুজা রায়হান চৌধুরী ও নুজহাত আলম তাফসীকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল ঢাকা মহানগর হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভুইয়ার আদালত শুনানি শেষে রিমান্ডের এ আদেশ দেন।

গ্রেপ্তার রায়হানকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উত্তরার ব্যাম্বুসুট রেস্টুরেন্টে মদ পান করে মোহাম্মদপুরে বন্ধুর বাসায় যাওয়ার পর ছাত্রীটির সঙ্গে রায়হানের শারীরিক সম্পর্ক হয়েছিল। এতে প্রমাণ হয়, মদ্যপানের পর মেয়েটি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এই ঘটনায় অভিভাবকদের দায়িত্বহীনতা রয়েছে। সন্তানদের বিষয়ে তাঁদের আরো সচেতন হওয়া জরুরি।’

এ ঘটনায় আরো একজনের মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনা তদন্তের একপর্যায়ে আমরা জানতে পারি, ওই রেস্টুরেন্টে মদপানের পর আরাফাত নামে আরেক শিক্ষার্থী মারা গেছে। তার লাশ কোথায় দাফন করা হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

পরিবার যা বলছে : গতকাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই তরুণীর পরিবারের সঙ্গে কথা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে তার বাবা ঢাকায় আসেন। কালের কণ্ঠকে তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে মদ খাইয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়লে মেয়েকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু রায়হান আমাদের কাউকে কিছু জানায়নি।’ 

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে—উত্তরার ব্যাম্বুসুট রেস্টুরেন্টে মদ্যপানের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী তরুণী অসুস্থ বোধ করলে বন্ধু রায়হান তাঁকে মোহাম্মদপুরে তাঁর এক বান্ধবীর বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নুজহাতের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে একটি রুমে নিয়ে শারীরিক সম্পর্কে জড়ান রায়হান। এ সময় রায়হানের বন্ধুরাও রুমে ছিলেন। শারীরিক সম্পর্কের একপর্যায়ে রাতে ওই তরুণী অসুস্থ হয়ে বমি করলে রায়হান তাঁর আরেক বন্ধু অসিম খানকে ফোন দেন। সেই বন্ধু পরদিন এসে ওই তরুণীকে প্রথমে ইবনে সিনা ও পরে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। দুই দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর গত রবিবার ওই তরুণী মারা যান। এ ঘটনায় নিহত তরুণীর বাবা বাদী হয়ে চারজনসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো একজনের নামে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেছেন।

মামলার এজাহার থেকে আরো জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় মর্তুজা রায়হান ওই তরুণীকে নিয়ে মিরপুর থেকে আরাফাতের বাসায় যান। সেখান থেকে আরাফাত, ওই তরুণী ও রায়হান একসঙ্গে উবারে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ‘ব্যাম্বুসুট রেস্টুরেন্টে’ যান। সেখানে আগে থেকে আরেক আসামি নেহা এবং একজন সহপাঠী উপস্থিত ছিলেন। আসামিরা ওই তরুণীকে জোর করে অধিক মাত্রায় মদ্যপান করান।

 



সাতদিনের সেরা