kalerkantho

রবিবার। ২২ ফাল্গুন ১৪২৭। ৭ মার্চ ২০২১। ২২ রজব ১৪৪২

ইসি সচিব বললেন

আশা করি ভালো ভোট দেখবেন

বিশেষ প্রতিনিধি    

২৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আশা করি ভালো ভোট দেখবেন

আজ চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের ভোট। নগরীর স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়ামে রাখা নির্বাচনসামগ্রী গতকালই বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ভোট নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জ্যেষ্ঠ সচিব মো. আলমগীর বলেছেন, ‘আশা করি বুধবার (আজ) একটা ভালো নির্বাচন দেখবেন।’ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে চসিক নির্বাচনের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ আশার কথা জানান।

সচিব আরো বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের কাছে সব দায়িত্ব ন্যস্ত করা আছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, ভোট কর্মকর্তা এবং ইভিএমের কারিগরি সহায়তা দেওয়ার জন্য টেকনিক্যাল টিম সবাই এখন চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন। আমরা আশা করি একটা সুষ্ঠু এবং প্রতিযোগিতামূলক শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হবে। এ জন্য যা যা উদ্যোগ নেওয়া দরকার তা নেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং অফিসার এবং পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে যে পরিমাণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চাহিদা দেওয়া হয়েছিল ইসি তা পূরণ করেছে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। কেউ শাস্তিযোগ্য অপরাধ করলে তাঁকে শাস্তি দিতে প্রতি দুটি ওয়ার্ডের জন্য একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। বাইরের লোকজন ভোটকেন্দ্রে ঢুকে যাতে গণ্ডগোল করতে না পারে সে জন্য নগরের প্রবেশপথে পুলিশি পাহারা থাকবে।’

সহিংসতার আশঙ্কার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘এটা প্রথম দিকে হয়েছিল। তার পর সেখানে সবাই খুব সতর্ক। আমরা আশা করি ওই ধরনের কোনো ঘটনা আর ঘটবে না। যাতে না ঘটে তার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ১০ হাজারের ওপরে  আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সেখানে নিয়োজিত আছেন।’

সচিব বলেন, ‘সব সময় গোয়েন্দা সংস্থা থেকে আমাদের জানানো হয় কোন কোন কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ।  রিটার্নিং অফিসারও সেই কেন্দ্রগুলোর তালিকা দেন। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সাধারণ  কেন্দ্রগুলোতে ১৬ জন করে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ১৮ জন করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য থাকবেন। এ ছাড়া টহলও থাকবে। আইন-

শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কিছু কিছু এলাকা নিয়ে জোনের মতো করেও থাকবেন।’

করোনা পরিস্থিতিতে নির্দেশনা সম্পর্কে সচিব বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি যা মেনে চলা দরকার তার সব মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া আছে। ভোটার যখন লাইনে দাঁড়াবেন তখন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াবেন। ইভিএমে ভোট দেওয়া হবে, তাই ভোট দেওয়ার আগে এবং পরে হ্যান্ডওয়াশ করে নিতে হবে। সবাইকে মাস্ক পরে যেতে হবে। মাস্ক ছাড়া কেউ গেলে তাঁকে ভোট দিতে দেওয়া হবে না বা দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হবে না।’

নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন,  ‘অবশ্যই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তো লোক দেখে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করেন না।’

‘ভোটকেন্দ্রে নির্ভয়ে আসুন’

চট্টগ্রাম থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে এসে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিন। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে আসতে পারে, নির্বিঘ্নে ভোট দিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে পারে সেটা আমরা নিশ্চিত করেছি।’ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের জিমনেসিয়াম থেকে ভোটের সরঞ্জাম বিতরণের সময় তিনি এ সব কথা বলেন।

মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, চট্টগ্রাম নগরীকে নিরাপত্তার চাদরে আবৃত করা হয়েছে, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনার সুযোগ না থাকে। তিনি জানান, নির্বাচনে সাত হাজার ৭৭২ জন পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। ২৫ প্লাটুন বিজিবি, র‌্যাবের ৪১টি দল আছে। এ ছাড়া মোবাইল টিম থাকবে ৪১০টি। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে থাকবে ১৪০টি দল। ভোটে দায়িত্ব পালন করবে প্রতিটি ওয়ার্ডে র‌্যাব ও পুলিশের একটি করে টিম। আনসারের প্রায় তিন হাজার ৮০০ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ৬৯ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১ জন ভোটের দিন দায়িত্বে থাকবেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন ২০ জন।

ভোটের দিন সাধারণ ছুটি না থাকায় ভোটার উপস্থিতি কম হবে কি না জানতে চাইলে হাসানুজ্জামান বলেন, ‘এর আগে অনেকগুলো নির্বাচন হয়েছে এভাবে। ঢাকায় অনেকগুলো উপনির্বাচন, দেশে উপজেলা ও অনেকগুলো পৌর নির্বাচন হয়েছে। সেখানে যে সিস্টেমে হয়েছে চট্টগ্রাম সিটির ভোটও সেটাকে অনুসরণ করে হচ্ছে।’

 

মন্তব্য