kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

আওয়ামী লীগ প্রার্থী : মো. রেজাউল করিম চৌধুরী

নৌকাতেই আস্থা ভোটারদের

২৬ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নৌকাতেই আস্থা ভোটারদের

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে প্রচারণার শেষ দিন ছিল গতকাল। সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী মো. রেজাউল করিম চৌধুরী ও বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন চট্টগ্রাম অফিসের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মুস্তফা নঈম ও নূপুর দেব

 

কালের কণ্ঠ : প্রথমবার নির্বাচন করছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় কেমন সাড়া পেলেন?

মো. রেজাউল করিম চৌধুরী : গণসংযোগে ব্যাপক সাড়া পেয়েছি, নগরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। ৮ জানুয়ারি প্রচারণা শুরুর পর

থেকে আমি যেখানে গেছি, সেখানে নৌকা ছাড়া আর কিছু নেই। নৌকার জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে জনসমর্থনহীন বিএনপির প্রতি চট্টগ্রামবাসীর কোনো আস্থা নেই। তারা জনগণের রায়কে ভয় পায়। নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হওয়ায় তাতে নিশ্চিত পরাজয় দেখে বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে সন্ত্রাসী জড়ো করছে। নির্বাচনে সন্ত্রাস, অরাজকতা করে ইস্যু তৈরির ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি। নৌকা প্রতীকে জনগণের আস্থা। নৌকাকে বিজয়ী করে নগরবাসী উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবে।

 

কালের কণ্ঠ : বিএনপির মেয়র প্রার্থীর অভিযোগ নির্বাচন সামনে রেখে ধানের শীষ এজেন্ট থেকে শুরু করে তাঁদের বিভিন্ন নেতাকর্মীকে আটকসহ নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আপনি এ ব্যাপারে কী বলেন?

মো. রেজাউল করিম চৌধুরী : আপনারা দেখেছেন, বিভিন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগে ও পরে এবং নির্বাচনের দিনও বিএনপি অনেক অভিযোগ করে। প্রায়ই দেখা যায়, তাদের এসব অভিযোগ মিথ্যা। গতকাল (রবিবার) রাতে বাকলিয়া এলাকায় আমাদের দল সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর নির্বাচন কার্যালয়ে বিএনপি প্রার্থীর লোকজন হামলা চালিয়েছে। তার পরও বলছি, বিএনপির কোনো অভিযোগ থাকলে তারা নির্বাচন কমিশনকে বলতে পারে।

 

কালের কণ্ঠ : বিএনপি ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ নিয়ে কারচুপির আশঙ্কা করছে। আপনি কিভাবে দেখছেন?

মো. রেজাউল করিম চৌধুরী : বিএনপি এমন একটি দল, যারা আজ পর্যন্ত দেশ ও সরকারের কোনো ভালো কাজ ও সফলতা নিয়ে প্রশংসা করেনি। ১৯৭০ সালে যখন প্রথম ভোট হয়, তখন জনগণ সিল মারতে জানত না। এর পর থেকে আস্তে আস্তে জনগণ অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। ইভিএম পদ্ধতিও ধীরে ধীরে মানুষের আস্থা অর্জন করছে। এই পদ্ধতিতে শতভাগ স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট সম্ভব। বিএনপি রাজপথে অভিযোগ করার পরও তারা তো ইভিএম ভোটেই অংশ নিচ্ছে। এই পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণে ভোটাররা খুশি।

 

কালের কণ্ঠ : বিএনপি বলছে, অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনের মতো এবার চসিক নির্বাচনেও ভোটকেন্দ্র এবং আশপাশে ক্ষমতাসীন দলের লোকজন প্রভাব বিস্তার করবে। আপনি কী মনে করেন?

মো. রেজাউল করিম চৌধুরী : বিএনপি একটি নালিশি পার্টিতে পরিণত হয়েছে। তারা গত চসিক নির্বাচনে অংশ নিয়ে হঠাৎ ভোটের দিন কয়েক ঘণ্টা না যেতেই সরে দাঁড়ায়। এবারও জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে—এ শঙ্কা বিএনপিতে আছে। বিভিন্ন নির্বাচনে কেন্দ্র দখল তারাই করেছিল। আওয়ামী লীগ সব সময় জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এ কারণেই গণরায় নিয়ে আমাদের দল টানা তিনবার সরকার গঠন করেছে।

 

কালের কণ্ঠ : ধানের শীষের মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনকে ভোটে কেমন প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবছেন?

মো. রেজাউল করিম চৌধুরী : এবার মেয়র পদে মোট প্রার্থী সাতজন। ভোটের মাঠে সব প্রার্থী সমান। খেলার (ভোট) মাঠে সবাইকে আমরা সমান গুরুত্ব দিচ্ছি। তবে বিএনপি অতীতেও বিভিন্ন অজুহাতে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল। তারা বলছে, নির্বাচন আন্দোলনের অংশ। বিএনপি এখনো স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতকে ছাড়তে পারেনি। তাদের দুঃশাসন চট্টগ্রামের মানুষ ভুলে যায়নি। তাদেরকে ভোটে চট্টগ্রামবাসী প্রত্যাখ্যান করবে।

 

কালের কণ্ঠ : নিজের জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী?

মো. রেজাউল করিম চৌধুরী : জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। কারণ অতীতের অন্য কোনো সরকারের আমলে চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে কেউ এগিয়ে আসেনি। একমাত্র মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দীর্ঘদিনের এই সমস্যা থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে ১২ হাজার কোটি টাকারও বেশি তিনটি মেগাপ্রকল্প দিয়েছেন। দেশের প্রথম টানেল চট্টগ্রামে নির্মিত হচ্ছে। মিরসরাইয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল হচ্ছে। লালখানবাজার থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ চলছে। উন্নয়ন ও অগ্রগতির কারণে দেশের একমাত্র জনপ্রিয় দল হিসেবে নৌকাকেই ভোট দেবে চট্টগ্রামের মানুষ।

 

কালের কণ্ঠ : নির্বাচিত হলে বাণিজ্যিক রাজধানীর জন্য আপনার করণীয় কী হতে পারে?

মো. রেজাউল করিম চৌধুরী : দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কোনো দিন অর্থ-বিত্তের পেছনে ছুটিনি। আমার অর্থ-বিত্তের কোনো লোভ নেই। কেউ কোনো দিন আমার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগও আনতে পারবেন না। আপনারা দেখেছেন, আমি দলীয় রাজনীতির পাশাপাশি চট্টগ্রামের জলবদ্ধতা, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ নাগরিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। সব সময় সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে ছিলাম। আজ অনেক নাগরিক সমস্যার সমাধান হয়েছে। এখন যে সমস্যাগুলো আছে তা চিহ্নিত করে আমরা সমাধান করব। নির্বাচিত হলে দল-মত-নির্বিশেষে সব শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি নিয়ে নগরবাসীর একজন সেবক হিসেবে নিজেকে নিয়োজিত রাখব।

 

কালের কণ্ঠ : নির্বাচিত হলে কোন প্রকল্প বা কাজ অগ্রাধিকার দেবেন?

মো. রেজাউল করিম চৌধুরী : জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে আমি প্রথমে কাজ করব। ১০০ দিনের অগ্রাধিকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করব। এ ছাড়া সুন্দর, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত, যানজটমুক্ত নগর হিসেবে গড়ে তুলতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতিনিধি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করব।

 

কালের কণ্ঠ : আপনি নির্বাচিত হলে ট্যাক্স বাড়বে, নাকি কমাবেন। এ ব্যাপারে আপনার মত কী?

মো. রেজাউল করিম চৌধুরী : আমি এক বাক্যে বলতে চাই, ট্যাক্স জনগণের নাগালের মধ্যে থাকবে। সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা