kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৩ রজব ১৪৪২

বিএনপি

বড় নেতাদের দেখা নেই

চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বড় নেতাদের দেখা নেই

চট্টগ্রামে ভোট হলেই একসময় ভিড় জমাতেন বিএনপির বাঘা বাঘা সব নেতা। তবে এবারের ভোটের মাঠের ছবিটা ভিন্ন। যেন প্রভাবশালী নেতাদের কেউ নেই। ভোট সামনে রেখে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে এখনো দেখেনি চট্টগ্রাম। আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীই একমাত্র নামি-দামি নেতা, প্রচারণায় একাই যেন ধানের শীষ প্রতীক উঁচিয়ে ধরছেন। তিনিই চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিএনপির প্রচারণা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী। আরেক জনপ্রিয় নেতা বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল-নোমান দলীয় মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট। তাঁকেও দেখা যায়নি শাহাদাতের ভোটের মাঠে। তবে নোমান অসুস্থ থাকায় গত শনিবার মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হাসেম বক্করকে প্রধান নির্বাচনী এজেন্টের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এদিকে জামায়াতসহ জোটের শরিক দলগুলোর কোনো নেতাও নেই ধানের শীষ প্রার্থীর প্রচারণায়।

মেয়র প্রার্থীর ঘনিষ্ঠ কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করে জানান, নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর কয়েক দিন আগে নগর কমিটি ভেঙে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির পরিসর ছোট হওয়ার কারণে সদ্য বিলুপ্ত কমিটির সবাইকে পদে রাখা যায়নি। তাতে আগের কমিটির কিছু নেতা যাঁরা আহ্বায়ক কমিটিতে স্থান পাননি তাঁদের মধ্যে কাউকে কাউকে দেখা যাচ্ছে না প্রচারে। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি কম থাকলেও এবারের নির্বাচনে স্থানীয় নেতাদের বেশি সরব দেখা যাচ্ছে।

গত ৮ জানুয়ারি নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর এক সপ্তাহ আগে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামে এসে শাহাদাতের পক্ষে প্রচারণা শুরু করেন। খসরুর পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির কয়েকজন নেতা কয়েক দিন আগে মেয়র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নামলেও দু-এক দিন প্রচারণা চালিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে যান।

বিএনপিদলীয় নেতাদের অভিযোগ, এবারের নির্বাচন দল থেকে গুরুত্বের সঙ্গে নিলেও কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতি কম। নেতারা প্রচারণায় নামলে স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা আরো বেশি চাঙ্গা হতেন। দলের মহাসচিবসহ আরো কয়েকজন নেতা আসার কথা থাকলেও এখনো তা চূড়ান্ত হয়নি।

এছাড়া ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতারা এখনো বিএনপির মেয়র প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারণায় নামেননি। এ ছাড়া নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত বেশির ভাগ ওয়ার্ডে একক কাউন্সিলর প্রার্থী থাকলেও তাঁদের সঙ্গেও ঐক্যবদ্ধভাবে নেতাকর্মীদের দেখা যাচ্ছে না প্রচারণায়।

শরিকসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কম উপস্থিতির ব্যাপারে জানতে চাইলে বিএনপির মেয়র প্রার্থী ও নগর কমিটির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকেই মাঠে নেমেছেন। আরো আসবেন। জোটের শরিক দলগুলো আমাকে সমর্থন দিয়েছে। তারাও কাজ করছে।’

একই বিষয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মো. ইদ্রিস আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শরিক দলের কেন্দ্রীয় নেতারা না এলেও এসব দলের চট্টগ্রামের নেতারা এক সপ্তাহ আগে মেয়র প্রার্থীর সমর্থনে নাগরিক ঐক্য পরিষদের মতবিনিময় সভায় এসেছেন। তাঁরা আমাদের প্রার্থীদের সমর্থন দিয়েছেন। দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল-নোমান অসুস্থ থাকায় আসতে পারছেন না। তবে তাঁর দিকনির্দেশনায় নেতাকর্মীরা সবাই কাজ করছেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকে বিভিন্ন এলাকায় আমাদের প্রার্থীদের হয়রানি, মামলা-মোকদ্দমা ও হামলা করে আসছে প্রতিপক্ষ দলের সন্ত্রাসীরা।’

দলীয় সূত্রে জানা যায়, মেয়র প্রার্থী থেকে শুরু করে বেশির ভাগ কাউন্সিলর প্রার্থী মামলার বোঝা নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিভিন্ন কৌশলে তাঁরা প্রচারণা চালাচ্ছেন। সবাই নির্বাচনী মাঠে আছেন। জামায়াতে ইসলামীর নেতাদেরও এবার মাঠে দেখা যাচ্ছে না। সেই সঙ্গে জোটের শরিক ইসলামী দল ও সংগঠনগুলো প্রকাশ্যে নামেনি। তবে তাদের সমর্থন লাভের পাশাপাশি ভোটগুলো ধানের শীষে ও বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলরদের পক্ষে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। গত দুটি নির্বাচনে দলের ত্যাগী কোনো নেতা মেয়র পদে নির্বাচন করেননি। এবার দল থেকে মেয়র পদে মনোনয়ন দেওয়ায় নেতাকর্মীরা খুশি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা