kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

দেশেই তৈরি শুরু করোনার টেস্ট কিট

খরচ কমবে ৪০%

মাসুদ রুমী   

২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেশেই তৈরি শুরু করোনার টেস্ট কিট

করোনা মহামারির টিকা যখন হাজির, ঠিক সেই সময় আসছে দেশে উদ্ভাবিত ভাইরাসটির সংক্রমণ শনাক্তের কিট। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম মেনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে এই আরটি-পিসিআরভিত্তিক শনাক্তকরণ কিট।

বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর (ডিজিডিএ) গত ৩ জানুয়ারি এই কিট বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন ও সরবরাহ করার অনুমোদন দিয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানকে।

আমদানি করা কিটে ভোক্তাপর্যায়ে যে পরিমাণ খরচ হয়, এর চেয়ে ৩০-৪০ শতাংশ কম খরচে এই কিট দিয়ে পরীক্ষা করা যাবে বলে দাবি করেছেন উদ্ভাবক প্রতিষ্ঠান দেশীয় বায়োটেক কম্পানি ওএমসি হেলথকেয়ার (প্রা.) লিমিটেডের কর্মকর্তারা।

করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য বিশ্বে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য পদ্ধতির নাম রিভার্স ট্রান্সক্রিপশন পলিমারেজ চেইন রি-অ্যাকশন (আরটি-পিসিআর)। ওএমসিই প্রথম প্রতিষ্ঠান, যারা এই পদ্ধতিতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত করার কিট উদ্ভাবন করে ঔষধ প্রশাসনের অনুমোদন পেয়েছে।

দেশে করোনাভাইরাসের শুরুর দিকে যখন কিট সংকট হয়েছিল, তখনই দেশীয় প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসের পক্ষে শনাক্তকরণ কিট উদ্ভাবনের খবর দেন তাঁদের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা বিজন কুমার শীল। কিন্তু মানসম্মত হয়নি বলে নতুন করোনাভাইরাস পরীক্ষায় গণস্বাস্থ্যের কিট ব্যবহারের অনুমোদন দেয়নি ডিজিডিএ।

গণস্বাস্থ্যের পক্ষ থেকে তখন জানানো হয়েছিল, তাদের এই ‘জিআর কভিড-১৯ ডট ব্লট কিট’ দিয়ে পাঁচ মিনিটে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফল পাওয়া যাবে, খরচ হবে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় আরটি-পিসিআর, জিন এক্সপার্ট ও র‌্যাপিট এন্টিজেন টেস্ট মিলে মোট ১০ হাজার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। করোনা মহামারির ব্যাপক বিস্তারের সময় জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ১৮ হাজার পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হতো। প্রথম দিকে কিটের দাম ধরা হয়েছিল দুই হাজার ৭০০ টাকা, যা কয়েক দফায় কমে এখন ৯০০ থেকে এক হাজার টাকায় আমদানি করা হচ্ছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই আমদানি করেছে তিনটি প্রতিষ্ঠান।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের উপপরিচালক সালাহ উদ্দীন আহমেদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব নিয়ম-কানুন মেনে ওএমসি হেলথকেয়ার আবেদন করেছিল। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সব কিছু ঠিক থাকায় তাদের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।’

ওএমসি হেলথকেয়ারের কর্মকর্তারা বলছেন, মেডিক্যাল ডিভাইস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটি ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিট উৎপাদন করছে। করোনা সংক্রমণ শনাক্তকরণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশান (সিডিসি) নির্দেশিকা অনুযায়ী তৈরি করা কিটটি করোনাভাইরাসের রূপান্তরিত ধরনটিও শনাক্তকরণে সম্পূর্ণরূপে সক্ষম। কিটটি কার্যকর শনাক্তকরণ এবং ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে।

জানতে চাইলে ওএমসি হেলথকেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহুল কবির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ হাজার কভিড-১৯ আরটি-পিসিআর টেস্ট কিট উৎপাদন করার সক্ষমতা আছে। প্রয়োজনে এই সক্ষমতা বাড়ানো যাবে, কিটের সর্বোচ্চ গুণগতমান নিশ্চিত করতে আমরা স্বয়ংক্রিয় অটোমেটিক প্রডাকশন লাইন ব্যবহার করেছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা