kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১২ রজব ১৪৪২

বিশেষ লেখা

অর্ধকোটি মানুষের হাসি

খায়রুল বাশার শামীম

২৩ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অর্ধকোটি মানুষের হাসি

নির্বাচনের আগে প্রতিটি দলই ইশতেহার প্রকাশ করে। মার্কিন নির্বাচনের আগে ট্রাম্প, বাইডেন ক্ষমতায় গেলে কী করবেন তার ফিরিস্তি দিয়েছিলেন। খেয়াল করলে দেখা যাবে ট্যাক্স পলিসি, বর্ডার ওয়াল, বিদেশনীতি, চীন ইস্যুই তাঁদের কথাবার্তায় উঠে এসেছে। যেহেতু কভিড মহামারি চলছে—এ ইস্যুও তাঁরা খুব বড় করে দেখেছেন। চীনের দিকে তাকালে আমরা দেখব যে তাদের এখন মূল টার্গেট আমেরিকাকে টপকে বিশ্ব অর্থনীতির এক নম্বর জায়গাটি দখল করা। উন্নত বিশ্বের দেশগুলো তাদের দেশকে আরো কত সমৃদ্ধিশালী করতে পারে তার একটি রূপকল্প তারা করে রেখেছে। ২০১৯ সালে বিজেপি তাদের ইশতেহারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে দেখেছিল তাদের কৃষকদের আয়কে। কৃষকদের আয় দ্বিগুণ করার অঙ্গীকার করেছিল তারা।

২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের ইশতেহারের প্রথম লাইনটিই ‘আমার গ্রাম-আমার শহর : প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ।’ তারা তাদের ইশতেহার শেষ করেছে বদ্বীপ বা ডেল্টা পরিকল্পনা ২১০০ দিয়ে। এখানে তারা ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে সমৃদ্ধ দেশ গড়ার কথা বলেছে।

নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নই একটি সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আওয়ামী লীগ তাদের সরকারের এই যাত্রার দুই বছর পার করল এ মাসেই। ফলে আবার তারা একবার ইশতেহারে চোখ বোলানোর উপলক্ষ পেয়েছে। এর মধ্যে এক বছর গেল কভিড মোকাবেলায়ই। কী এক ভয়ানক যুদ্ধ! গোটা পৃথিবী তছনছ করে দেওয়া এই যুদ্ধে আমরাও কম ক্ষতির মুখোমখি হইনি। এ বছর আমাদের জাতির গর্বের মুজিববর্ষের বছর। বছরব্যাপী নানা পরিকল্পনা যদিও খুব বাধার মুখে পড়েছে। তবু কাটিয়ে উঠে নতুন করে পালনের চিন্তাও আছে। এ সময়েই আমরা এ সরকারের আরেকটি যুগান্তকারী কাজের দেখা পেলাম। অনেকটা নীরবেই এই কাজটি করে ফেলেছে আওয়ামী লীগ। মুজিববর্ষে (৩১ ডিসেম্বর ২০২১ পর্যন্ত সময়ে) আট লাখ ৮২ হাজার ঘর পাবে ভূমিহীন গৃহহীনরা। এর মধ্যে আজ ৭০ হাজার ঘরে উঠেছে লাখো মানুষ। সব কটি ঘর হয়ে গেলে বছর শেষে প্রায় অর্ধকোটি মানুষ একটি সুন্দর পরিবেশে মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে। আর এই পরিকল্পনা একজন ভূমিহীন, ঘরহীন থাকা পর্যন্ত এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

রাজধানী বা কোনো শহরে কিংবা গ্রামে বস্তিবাসী, ভবঘুরে বা হতদরিদ্ররা ফুটপাত, স্টেশন বা কারো বাড়ির আঙিনায়—এই দৃশ্য অনেকটা কমে এলেও চোখে পড়ে। মুজিববর্ষে আওয়ামী লীগ উন্নয়নের এমন মডেল যদি দাঁড় করাতে পারে, যদি তারা বলতে পারে ঘরহীন একটি পরিবারও দেশে নেই—এর চেয়ে ইশতেহার বাস্তবায়নের আর কোনো বড় উপলক্ষ হতে পারে না। না খেয়ে থাকার লোক দেশে নেই বহু বছর! এবার ঘরহীন লোকও আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

পদ্মা সেতু আমাদের জাতির সবচেয়ে বড় অর্জনের একটি। গত বৃহস্পতিবার সংসদে এক সদস্য সেতুর নাম শেখ হাসিনার নামে করার আবেদন জানিয়েছেন। অন্য সদস্যরা তাঁকে টেবিল চাপড়ে সমর্থন দিয়েছেন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী মাথা ও হাত নেড়ে তাঁর অসমর্থনের কথা জানান দিচ্ছিলেন। মুজিববর্ষে গৃহহীন-ভূমিহীনদের ঘর দিয়ে এ সরকার যে দৃষ্টান্ত (পৃথিবীর কোনো দেশই একসঙ্গে এত পরিবারকে ঘর করে দেয়নি) স্থাপন করল, একে চিহ্নিত করার জন্য হয়তো কোনো নাম দেওয়া হবে না। মিডিয়ায় প্রচারেও এমন বিরল ঘটনা পিছিয়ে। তবু এই উদ্যোগ দেশকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যাবে। পদ্মা সেতু আমাদের গৌরব, অহংকার, জেদ, আত্মমর্যাদা। অর্ধকোটি মানুষের মুখের হাসি এর চেয়ে বেশি বৈ কম নয়।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা