kalerkantho

শুক্রবার । ২০ ফাল্গুন ১৪২৭। ৫ মার্চ ২০২১। ২০ রজব ১৪৪২

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

নোয়াখালীতে নারী নির্যাতনের ধরন ভিন্ন

ডা. ফওজিয়া মোসলেম, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ

২২ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



নোয়াখালীতে নারী নির্যাতনের ধরন ভিন্ন

নোয়াখালীর সুবর্ণচর, বেগমগঞ্জ, হাতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক একই কায়দায় নারীর ওপর বর্বর নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। একই সঙ্গে এসব ঘটনার ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলছেন, সেখানে নারী নির্যাতনের ধরন ভিন্ন এবং নজরদারির বাইরে থাকছে। উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাওয়া যৌন সহিংসতা ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতার নীতি গ্রহণ সাপেক্ষে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার কথাও বলেছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক ফাতিমা তুজ জোহরা

 

কালের কণ্ঠ : মহিলা পরিষদ নোয়াখালী জেলাকে নারীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করতে কেন বলছে?

ডা. ফওজিয়া মোসলেম : নোয়াখালীর সুবর্ণচর, বেগমগঞ্জ, হাতিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় যেসব ঘটনা ঘটছে তাতে বলা যায়, সেখানে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই অনিরাপদ। আইনের কোনো প্রয়োগ নেই এবং এলাকার যিনি জনপ্রতিনিধি তিনিও কোনো নজর দেন না। প্রশাসন সক্রিয় নয়, জনপ্রতিনিধি ওয়াকিবহাল নয়। এ জন্য এই জায়গাগুলো অনিরাপদ হয়ে যাচ্ছে।    

 

কালের কণ্ঠ : নোয়াখালীকে নারীর জন্য যখন বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বলা হচ্ছে, দেশের কোনো জেলা কি আছে যেটি কম ঝুঁকিপূর্ণ?

ডা. ফওজিয়া মোসলেম : না। দেশের এমন কোনো জেলা নেই যেটি নারীর জন্য কম ঝুঁকিপূর্ণ।

 

কালের কণ্ঠ : তাহলে নোয়াখালীকে আলাদা করে দেখছেন কেন?

ডা. ফওজিয়া মোসলেম : নোয়াখালীকে আলাদা করে বলার প্রধান কারণ হলো, সেখানে নির্যাতনের ধরন ভিন্ন, যা অব্যাহত আছে। সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপ দৃশ্যমান নেই। ঘটনাগুলো ক্রমে ঘটেই চলেছে। সুষ্ঠু নজরদারির অভাব। বারবার মিডিয়ায় আসার পরও প্রশাসনকে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। ঘটনাগুলোতে দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব ঘটনায় জড়িত।

 

কালের কণ্ঠ : নোয়াখালীতে মহিলা পরিষদের কোনো কমিটি কাজ করছে?

ডা. ফওজিয়া মোসলেম : মহিলা পরিষদের কোনো কমিটি ওই জেলায় নেই। সম্প্রতি হাতিয়ার ঘটনার পর আমাদের ঢাকা কেন্দ্র থেকে প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলাম। সুবর্ণচরের ঘটনার পরও আমাদের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী টিম গিয়েছিল।  

 

কালের কণ্ঠ : তারা কী দেখেছে? নোয়াখালীর পরিস্থিতি কতটা খারাপ?

ডা. ফওজিয়া মোসলেম : বেগমগঞ্জের ঘটনার পর তদন্তকারী টিম কিছু বিষয় প্রত্যক্ষ করেছে। প্রথমত, এলাকাটি ছিল প্রান্তিক। সেখানে যোগাযোগের জন্য একটা ছোট সেতু তৈরি করা হয়েছে। ওই এলাকায় সবুজ বাহিনী বলে একটা সন্ত্রাসী গ্রুপ আছে। এই সেতুটা তাদের দখলে। সেতু দিয়ে সাধারণ মানুষ গেলেই তারা চাঁদা নেয়, ছিনতাই করে। এমনকি এই বাহিনী এ এলাকায় যিনি কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন তাঁর পক্ষে প্রচারও করেছে। সব মিলিয়ে তদন্তকারী টিম দেখেছে, প্রান্তিকতা (যোগাযোগের অব্যবস্থপনা), কাছাকাছি থানা নেই, ক্ষমতাকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসী গ্রুপগুলো এসব এলাকায় তৎপর থাকছে, থানা থেকে তেমন কোনো হস্তক্ষেপ নেই কিংবা করতে পারেও না। এ জন্য আইন-শৃঙ্খলা বাস্তবায়ন একেবারে হয় না। এগুলোই মূল কারণ।

 

কালের কণ্ঠ : বেগমগঞ্জে আপনাদের তদন্তকারী টিমের অভিজ্ঞতা কেমন?

ডা. ফওজিয়া মোসলেম : আমাদের টিমের সঙ্গে ভিকটিমকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। অনেকক্ষণ বসিয়ে রাখা হয় টিমকে। ওসির আচরণ দেখে বোঝা যায়, আসলে ভিকটিমের সঙ্গে আমাদের দেখা করতে দেওয়া হবে না। আমাদের সেখানে আপত্তি ছিল। ভিকটিম কেন থানাহাজতে থাকবে? ভিকটিম থাকবে নিরাপদ আশ্রয়ে। এই কথা বলার পর তাঁরা বলেছেন, ভিকটিমকে ভালোভাবে রাখা হয়েছে। তাঁকে খাওয়াদাওয়া, পরিধানের কাপড় এসব দেওয়া হচ্ছে। এরপর সেখানকার ওসিকে অন্য জায়গায় ট্রান্সফার করা হয়। এরপরের অগ্রগতি আমাদের হাতে নেই।  

 

কালের কণ্ঠ : এরপর মহিলা পরিষদ কোনো উদ্যোগ নিয়েছে?

ডা. ফওজিয়া মোসলেম : আমাদের নোয়াখালীতে কমিটি নেই। এ জন্য আলাদা করে কিছু করা সম্ভব হয়নি। আর এটা বন্ধ করা শুধু মহিলা পরিষদ কিংবা একা কোনো মানবাধিকার পরিষদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ জন্য সবাইকে মিলে দাঁড়াতে হবে। শুধু এলাকার ভিত্তিতে নয়, দেশব্যাপী একটি কর্মসূচির কথা ভাবছি। করোনা পরিস্থিতিতে আমাদের জনসমাবেশ করতেও সীমাবদ্ধতা আছে।

 

কালের কণ্ঠ : সরকারকে চাপ প্রয়োগ করার একটা বিষয় থাকে, সেটা করছেন?

ডা. ফওজিয়া মোসলেম : অবশ্যই আমরা সেটা করছি। আইজিপির (পুলিশের মহাপরিদর্শক) সঙ্গে গত সপ্তাহে দেখা করতে চেয়ে চিঠি দিয়েছি আমরা। তিনি আমাদের সময় দেননি। এর দু-তিন মাস আগেও চিঠি পাঠিয়েছি। সেখান থেকে বলা হয়েছে, আইজিপি খুবই ব্যস্ত আছেন। তিনি সময় দিতে পারবেন না। এর বাইরে আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে, আইন মন্ত্রণালয়ে ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিচ্ছি। জেলা পর্যায়েও যতটুকু আন্দোলন করা যায়, আমরা সেটা অব্যাহত রেখেছি।  

 

কালের কণ্ঠ : মন্ত্রণালয় থেকে স্মারকলিপির কোনো জবাব পেয়েছেন?

ডা. ফওজিয়া মোসলেম : না, কোনো মন্ত্রণালয় থেকে কোনো উত্তর দেয়নি। কখনো কখনো প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কিছু চিঠি আসে। কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই বরং কিছু চিঠি আসে, অন্য জায়গা থেকে কিছু আসে না।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা