kalerkantho

সোমবার । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৭। ৮ মার্চ ২০২১। ২৩ রজব ১৪৪২

ট্রাম্পের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের যাত্রা

► প্রথম কর্মদিবসে ১৭ নির্বাহী আদেশে সই প্রেসিডেন্ট বাইডেনের
► প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফিরছে যুক্তরাষ্ট্র

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ট্রাম্পের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের যাত্রা

হোয়াইট হাউসে তাঁর আগমন বড় দেরিতে। বয়সেও প্রবীণ। তবে ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে এতটুকু দেরি করলেন না জো বাইডেন। তাঁর এই কর্মতৎপরতার সঙ্গে ‘নবীন’ বিশেষণই শুধু মানানসই।

অভিষেকের পর হোয়াইট হাউসের পথে যাওয়ার সময় বাইডেনের করা টুইটে এই ঝোড়ো কর্মতৎপরতার কারণ স্পষ্ট হয়। তিনি বলেন, ‘যে সংকটগুলোর মুখে পড়েছি আমরা, তা মোকাবেলার ক্ষেত্রে নষ্ট করার সময় নেই।’ সংকটের কারণ যে তাঁর পূর্বসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত নানা পদক্ষেপের ফল, তা-ও স্পষ্ট করলেন তিনি প্রথম কর্মদিবসে ১৭টি নির্বাহী আদেশে সই করে। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্পের বিপরীতে জোর কদমে হাঁটা শুরু করলেন বাইডেন। অবশ্য এমন প্রতিশ্রুতি তিনি আগেই দিয়েছিলেন।

প্রেসিডেন্ট বাইডেন যে ১৭টি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন, এর মধ্যে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় কেন্দ্রীয় সরকারের আরো তৎপর হওয়ার বিষয়টি সবার আগে রয়েছে। অন্যান্য আদেশের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ও অভিবাসনের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনের আগের অবস্থানও উল্টে দিয়েছেন তিনি।

এ ব্যাপারে হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের গুরুতর ক্ষতিগুলো কাটিয়ে উঠতেই নয়, দেশের অগ্রযাত্রা শুরু করতেও প্রেসিডেন্ট বাইডেন পদক্ষেপ নেবেন।’

বিবৃতিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের চার লাখের বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবেলায় ধারাবাহিক কিছু পদক্ষেপ কার্যকর করা হবে। এর মধ্যে আছে কেন্দ্রীয় সরকারের সব দপ্তর ও স্থাপনায় মাস্ক পরা এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বাধ্যবাধকতা।

মহামারি মোকাবেলায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো সমন্বয় করতে নতুন একটি দপ্তর স্থাপন করা হবে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াও স্থগিত করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইকে তাঁর প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাইডেন। তাঁর সই করা নির্বাহী আদেশের একটি ২০১৫ সালের প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে ফেরার প্রক্রিয়া শুরু করার বিষয়ে। গত বছর এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন ট্রাম্প।

বিতর্কিত কিস্টোন এক্সএল পাইপলাইনের ক্ষেত্রে দেওয়া অনুমোদনও প্রত্যাহার করে নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। যুক্তরাষ্ট্রের আদিবাসী ও পরিবেশবাদীরা এক দশকের বেশি সময় ধরে এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছিল।

হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব জেন সাকি জানিয়েছেন, প্রথম বিদেশি নেতা হিসেবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে শুক্রবার ফোন করবেন বাইডেন। সে সময় কিস্টোন পাইপলাইনের বিষয়টি নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করবেন। প্রস্তাবিত পাইপলাইনটি আট বিলিয়ন ডলারে নির্মাণের কথা ছিল। এর মাধ্যমে কানাডার আলবার্টা থেকে নেব্রাস্কায় দৈনিক আট লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল ভারী অপরিশোধিত তেল নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।

২০১৫ সালে এই পাইপলাইন স্থাপনে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেস অনুমোদন দিলেও তাতে ভেটো দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তবে ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর ওমাবার সিদ্ধান্ত উল্টে দেন।

অভিবাসনের ক্ষেত্রে মেক্সিকো সীমান্ত বরাবর দেয়াল নির্মাণে তহবিল ছাড়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘জরুরি ঘোষণা’ও বাতিল করেছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন। এর পাশাপাশি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ কিছু দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে ট্রাম্প প্রশাসনের দেওয়া নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাঁর অন্য নির্বাহী আদেশগুলো বর্ণ ও লিঙ্গসমতা বিষয়ে।

এর আগে অভিষেক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে জো বাইডেন বলেন, সহিংসতা ও বিভাজনের রাজনীতি ও সংস্কৃতির বিপরীতে গণতান্ত্রিক যুক্তরাষ্ট্র ও ঐক্যের প্রকল্প হাজির করবেন তিনি।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রথম দিনেই প্রেসিডেন্ট বাইডেনের নেওয়া পদক্ষেপে এর ছাপ স্পষ্ট। বাইডেন প্রশাসনের প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনেও প্রায় একই বার্তা দেওয়া হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব জেন সাকি বলেন, আমেরিকানদের আস্থা ফিরিয়ে আনাই বাইডেন প্রশাসনের মূল লক্ষ্য। পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে এক জবাবে প্রেসসচিব জানান, প্রেসিডেন্ট বাইডেন শুরুতে বন্ধু দেশগুলোর প্রধানদের ফোন করবেন। তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ডাকা প্রথম কনফারেন্সে প্রেসিডেন্ট বাইডেন নিজ প্রশাসনের সবার কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। তিনি সবার কাছে সততা ও শালীনতা প্রত্যাশা করে বলেন, ভুল হয়তো তিনি করবেন, তা ধরিয়ে দিতে তাঁরা যেন তাঁকে সহায়তা করেন।

শপথ নেওয়ার আগেই বাইডেন ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলারের প্রণোদনার পরিকল্পনা সামনে নিয়ে আসেন।

বাইডেনকে লেখা ট্রাম্পের চিঠি : ওভাল অফিসে বাইডেনের উদ্দেশে চিঠি লিখে রেখে গেছেন বিদায়ি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ ব্যাপারে হোয়াইট হাউসের প্রেসসচিব জানান, ট্রাম্পের চিঠি খোলার সময় বাইডেনের সঙ্গেই ছিলেন তিনি। চিঠির ভাষা ‘উদার ও অমায়িক’। তবে বাইডেন তাঁর উদ্দেশে লেখা ব্যক্তিগত চিঠির বিষয়ে কোনো তথ্য দেবেন না। পূর্বসূরির কাছ থেকে এমন বার্তা পাওয়া অবশ্য প্রত্যাশিতই ছিল।

বাইডেনের শপথ থেকে শুরু করে কোনো আনুষ্ঠানিকতায় ট্রাম্পের নাম উচ্চারিত হয়নি। বলাই বাহুল্য, ট্রাম্পও একবারও বাইডেনের নাম মুখে নেননি।

ট্রাম্পের সহযোগীদের বিরুদ্ধে চীনের নিষেধাজ্ঞা : এদিকে বিদায় নেওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সসহ ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় ২৮ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে চীন। দেশটির বিরুদ্ধে লাগাতার ‘পক্ষপাতমূলক আচরণ ও ঘৃণা প্রদর্শনের’ অভিযোগ এনে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা জানিয়েছে বেইজিং।

এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কিছু বিষয়ে চীনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নেয়। সর্বশেষ ট্রাম্প তাঁর শেষ দিন উইঘুর মুসলিমদের বিরুদ্ধে জেনোসাইড চালানোর অভিযোগে চীনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যান।

পেন্স ছাড়া চীনের নিষেধাজ্ঞায় থাকা ট্রাম্পের সহযোগীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টা স্টিভেন নাভারো, সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রবার্ট ওব্রায়ান প্রমুখ। সূত্র : এএফপি, বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা