kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ ফাল্গুন ১৪২৭। ২ মার্চ ২০২১। ১৭ রজব ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

আরো বেশি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



আরো বেশি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের চলচ্চিত্রশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সম্ভব সব কিছু করার আশ্বাস দিয়ে বিজয়ের ইতিহাস প্রজন্মান্তরে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য অধিক হারে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সঠিক ইতিহাস যাতে সবাই জানতে পারে। কারণ আমরা মুক্তিযুদ্ধে বিজয় অর্জনকারী বীরের জাতি। সেই বিজয়ের ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন মনে রাখতে পারে, সেই ধরনের চলচ্চিত্র আরো নির্মাণ হওয়া দরকার।’

পঁচাত্তরের ১৫ই আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্রে শিল্প ও সংস্কৃতি যেমন থাকবে, তেমনি বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য উপকরণও থাকতে হবে। পাশাপাশি, সেখানে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়, নীতি-আদর্শ এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার প্রতিফলন থাকাটা দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল রবিবার সকালে ‘জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার-২০১৯’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এ কথা বলেন। তিনি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

চলচ্চিত্রকে একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা রাজনীতিবিদরা যত কথাই বলি না কেন, একটি নাটক, সিনেমা বা গান বা কবিতা দিয়ে অনেক কথা বলা যায় এবং মানুষের অন্তরে প্রবেশ করা যায়। মনের গহিনে প্রবেশ করা যায়। সে জন্য এর একটা আবেদন রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের বিনোদনের একমাত্র মাধ্যম চলচ্চিত্র। অথচ এটি কিন্তু দিনে দিনে শেষ হয়ে যাচ্ছে। তা ছাড়া এই ডিজিটাল যুগে, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে না করা হলে এর আকর্ষণ যেমন থাকে না, তেমনি বাজারও পাওয়া যায় না।’ সে জন্যই বিএফডিসিকে উন্নত করায় তাঁর সরকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।

২০১৯ সালে ২৬টি ক্যাটাগরিতে ৩৩ জন শিল্পী ও কলাকুশলীকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহ্মুদ পুরস্কারজয়ীদের মাঝে পদক, রেপ্লিকা, সম্মাননার চেক ও সনদ বিতরণ করেন। তথ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। তথ্যসচিব খাজা মিয়া স্বাগত বত্তৃদ্ধতা করেন। পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে আজীবন সম্মাননা বিজয়ী মাসুদ পারভেজ সোহেল রানা নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করে বত্তৃদ্ধতা করেন।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, চলচ্চিত্রশিল্পে সংশ্লিষ্ট অভিনেতা-অভিনেত্রীসহ কলাকুশলীরা এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউসসহ গণভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের এই শিল্প নষ্ট হয়ে যাক, কখনো সেটা আমরা চাই না। আমাদের দর্শক টানতে হবে। মানুষ যাতে সিনেমা দেখে, তার ব্যবস্থা করতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রী সুস্থ ধারার চলচ্চিত্রের পাশাপাশি শিশুদের জন্য শিক্ষণীয় শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, পরিবার-পরিজন নিয়ে দেখা যায় তেমন সিনেমা যেমন তৈরি করতে হবে, তেমনি শিশুদের জন্য চলচ্চিত্র নির্মাণটাও একান্তভাবে জরুরি। কারণ এর মাধ্যমেই একটি শিশু তার জীবনটাকে দেখতে পারবে এবং আগামীর জন্য নিজেকে তৈরি করতে পারবে।

এই শিল্পের আধুনিকায়নে যা যা দরকার, তাঁর সরকার সব কিছুই করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও করে যাবে বলেও বঙ্গবন্ধুকন্যা উল্লেখ করেন। ঢাকার কাছে কালিয়াকৈরের কবিরপুরে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ফিল্ম সিটি’ নির্মাণের প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, সেখানে আধুনিক সিনেমা তৈরি করতে যা যা প্রয়োজন, সেই ধরনের সব সুবিধা রাখা হচ্ছে; যাতে আমাদের সিনেমাশিল্প উপযুক্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি, কেননা এখন ডিজিটাল যুগ। আমাদের চলচ্চিত্র কেবল দেশে নয়, বিদেশেও যাতে যেতে পারে, সেদিকে লক্ষ রেখেই আমরা সেন্সরসংক্রান্ত আইন ও বিধি আধুনিকভাবে তৈরি এবং সেগুলো কঠোরভাবে যেন মানা হয় সেদিকেও বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এক হাজার কোটি টাকার একটি ফান্ড আমরা তৈরি করব, যেখান থেকে অল্প সুদে টাকা নিয়ে সংশ্লিষ্টরা সিনেমা হল বা সিনেপ্লেক্স তৈরি করতে পারবে; যাতে ওই অঞ্চলের মানুষের বিনোদনের ব্যবস্থাটা হবে।’

তিনি বলেন, ‘অনেকগুলো সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। কাজেই সেগুলোকে পুনরায় চালু করা শুধু নয়, এর আধুনিকায়ন করা দরকার। কারণ ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে এখন অনেক উন্নত মানের সিনেমা তৈরি করা যায়। সেই দিকেই আমরা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিচ্ছি এবং সেভাবেই কাজ করে যাচ্ছি।’

তেজগাঁও আসনের সংসদ সদস্য থাকার সময় তিনি বিএফডিসির সড়কটি নির্মাণ করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর কাছেই থাকা কারওয়ান বাজারের পাইকারি বাজারও ধীরে ধীরে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবে সরকার। কাছেই থাকা হাতিরঝিলসহ আশপাশের এই এলাকাটাকেও সরকার সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চায়।

তিনি বলেন, এ জন্য ৩২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারের বিএফডিসি কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ চলমান।

পুরস্কার বিতরণ ও আলোচনা পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্রশিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও উপভোগ করেন। সূত্র : বাসস।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা