kalerkantho

বুধবার । ১৮ ফাল্গুন ১৪২৭। ৩ মার্চ ২০২১। ১৮ রজব ১৪৪২

দাপট সংঘর্ষ বর্জনের ভোট

পৌর নির্বাচনে নৌকার মেয়র প্রার্থীদের একচেটিয়া জয়

বিশেষ প্রতিনিধি   

১৭ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ১০ মিনিটে



দাপট সংঘর্ষ বর্জনের ভোট

ভোট শেষে গাইবান্ধায় পূর্ব কোমরনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের বাইরে পুলিশের ওপর হামলা চালায় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আনোয়ার সরওয়ারের সমর্থকরা। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবহার করা একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর সমর্থকদের দাপট, বিক্ষিপ্ত হাঙ্গামা, ধাওয়াধাওয়ি আর কয়েকটি এলাকায় বিএনপির মেয়র প্রার্থীদের ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার শেষ হয় দ্বিতীয় ধাপের ৬০ পৌরসভার নির্বাচন। এসব পৌরসভার মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা একচেটিয়া বিজয়ের হাসি হেসেছেন।

তবে এই নির্বাচন সম্পর্কে খোদ নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বলেছেন, ‘এটাকে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন বলা যায় না।’ অন্যদিকে এই নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভালো ছিল বলে দাবি করেছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর।

অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী গতকাল কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বেশির ভাগ পৌরসভায় সরকারি দল ও প্রশাসন যৌথভাবে বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি ও মিথ্যা মামলা দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। ভোটকেন্দ্র থেকে ধানের শীষের পক্ষের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। নেতাকর্মীদের কোথাও দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি।

অনিয়মের অভিযোগ এনে রাজশাহীর ভবানীগঞ্জ, বাগেরহাটের মোংলা, সিরাজগঞ্জ, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর, কুষ্টিয়ার মিরপুর ও পাবনার ঈশ্বরদীর বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা সকাল ১১টার পর ভোট বর্জন করেন। পরে ভোট বর্জন করেন মেহেরপুরের গাংনীতে বিএনপি ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী।

এদিকে ফল ঘোষণার পর গতকাল রাতে সিরাজগঞ্জে প্রতিপক্ষ সমর্থকদের হামলায় নিহত হয়েছেন বিএনপি সমর্থিত বিজয়ী কাউন্সিলর তারিকুল ইসলাম (৪৫)। গাইবান্ধায় ভোট শেষে পূর্ব কোমরনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ব্যালট ও জিনিসপত্র নিয়ে ফেরার সময় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়েছে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আনোয়ার সরওয়ারের সমর্থকরা। পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট ও র‌্যাবের আরো তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করে তারা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভোটগণনা না করেই ব্যালট ও সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তাই বিক্ষুব্ধ জনতা এই ঘটনা ঘটায়।

ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের চেষ্টা হয়েছে রাজশাহীর বোয়ালমারী ও কিশোরগঞ্জে। এই কারণে দুটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিতও করা হয়েছে। ফেনীর দাগনভূঞায় একটি কেন্দ্রে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আনসার সদস্যসহ কয়েকজন আহত হয়েছে।

দ্বিতীয় ধাপে ৬০ পৌরসভার মধ্যে পাবনার ভাঙ্গুড়া, পিরোজপুর ও নারায়ণগঞ্জের তারাবতে ক্ষমতাসীন দলের একক প্রার্থী থাকায় তাঁরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র নির্বাচিত হন। বাকি ৫৭ পৌরসভার মধ্যে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে বিএনপির কোনো প্রার্থী নেই। মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ছিলেন সাতজন নারী। ২৯টিতে ইভিএমএ এবং ৩১টিতে ব্যালট পেপারে ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।

যাঁরা বিজয়ী : নোয়াখালীর বসুরহাটে আবদুল কাদের মির্জা (আওয়ামী লীগ), বগুড়ার শেরপুরে জানে আলম খোকা (বিএনপি বিদ্রোহী), সারিয়াকান্দিতে মতিউর রহমান (আওয়ামী লীগ) ও আদমদীঘির সান্তাহারে তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু (বিএনপি), মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ (আওয়ামী লীগ) ও কমলগঞ্জে জুয়েল আহমেদ (আওয়ামী লীগ), বাগেরহাটের মোংলা পোর্টে শেখ আব্দুর রহমান (আওয়ামী লীগ), খাগড়াছড়িতে নির্মলেন্দু চৌধুরী (আওয়ামী লীগ), কুমিল্লার চান্দিনায় শওকত হোসেন ভূইয়া (আওয়ামী লীগ), ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে সেলিম রেজা লিপন (আওয়ামী লীগ), নরসিংদীর মনোহরদীতে মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ সুজন (আওয়ামী লীগ), নওগাঁর পত্নীতলার নজিপুরে মো. রেজাউল কবির চৌধুরী (আওয়ামী লীগ), চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে মোক্তাদের মাওলা সেলিম (আওয়ামী লীগ), ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় মো. বিল্লাল হোসেন সরকার (আওয়ামী লীগ) ও ফুলবাড়িয়ায় মো. গোলাম কিবরিয়া (আওয়ামী লীগ),  সুনামগঞ্জে নাদের বখত (আওয়ামী লীগ), সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে আব্দুল্লাহ আল পাঠান (আওয়ামী লীগ), কাজিপুরে আব্দুল হান্নান তালুকদার (আওয়ামী লীগ), বেলকুচিতে সাজ্জাদুল হক রেজা (স্বতন্ত্র) ও উল্লাপাড়ায় এস এম নজরুল ইসলাম (আওয়ামী লীগ), কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে সৈয়দ হাসান সারোয়ার মহসীন (আওয়ামী লীগ), নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় মো. আসাদুল হক ভূঁইয়া (আওয়ামী লীগ), দিনাজপুরে সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম (বিএনপি), বিরামপুরে আক্কাস আলী (আওয়ামী লীগ) ও বীরগঞ্জে মোশারফ হোসেন বাবুল (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী), হবিগঞ্জের মাধবপুরে হাবিবুর রহমান মানিক (বিএনপি) ও নবীগঞ্জে ছাবির আহমদ চৌধুরী (বিএনপি),  মাগুরায় খুরশীদ হায়দার টুুটুল (আওয়ামী লীগ), নাটোরের নলডাঙ্গায় মনিরুজ্জামান মনির (আওয়ামী লীগ), গোপালপুরে রুখসানা মোর্তজা লিলি (আওয়ামী লীগ) ও গুরুদাসপুরে শাহনেওয়াজ আলী মোল্লা (আওয়ামী লীগ), গাজীপুরের শ্রীপুরে মো. আনিছুর রহমান (আওয়ামী লীগ), ঝিনাইদহের শৈলকুপায় কাজী আশরাফুল আজম (আওয়ামী লীগ), মেহেরপুরের গাংনীতে আহম্মেদ আলী (আওয়ামী লীগ), নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে লতিফুর রহমান রতন (আওয়ামী লীগ), কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে মোহাম্মদ হোসেন ফাকু (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) এবং শরীয়তপুরে পারভেজ রহমান জন (আওয়ামী লীগ) বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ পৌরসভায় এগিয়ে আছেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. পারভেজ মিয়া। সেখানে একটি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত রয়েছে।

ভোটের চিত্র : সিরাজগঞ্জের বেলকুচির একটি কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের পক্ষে জোর করে ব্যালটে সিল মারার অভিযোগ উঠেছে। এই পৌরসভায় সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিশ্বাসের স্ত্রী সাবেক মেয়র আশানুর বিশ্বাস ক্ষমতাসীন দলের মেয়র প্রার্থী। স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সাজ্জাদুল হকের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট বেলকুচি উপজেলা চেয়ারম্যান নূরুল ইসলাম রেজা অভিযোগ করেন, কামারপাড়া আলহাজ লতিফা শাজাহান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আশানুর বিশ্বাসের মেয়ে রুমা বিশ্বাসকে এজেন্টের দায়িত্ব পালনের সময় নিজ হাতে ব্যালটে নৌকা প্রতীকে সিল মারতে দেখা যায়। তাঁদের নির্বাচনী এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়।

কিশোরগঞ্জে ভোটগ্রহণ দুপুর পর্যন্ত নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ছিল। দুপুরে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ কেন্দ্রে কাউন্সিলর প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। ওয়ালী নেওয়াজ কলেজ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মারামারি হয়। এই ঘটনার জেরে একটি কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত হয়ে যায়।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিএনপির মেয়র প্রার্থী নুরুল মিল্লাত দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তাঁর এজেন্টদের মারধর, কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং জোর করে কেন্দ্রের ভেতর ভোটারদের নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে খোঁজ নিতে গেলে পুলিশের এক পরির্দশকসহ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাঁকে লাঞ্ছিত ও কেন্দ্র থেকে বের করে দেন।

বগুড়ার শেরপুরে ডিজে হাই স্কুল ভোটকেন্দ্রে সকালে ভোটার সেজে জাল ভোট দিতে গিয়ে আবু সাঈদ সরকার (৪০) নামের এক যুবককে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালত সাত দিনের বিনা শ্রম কারাদণ্ড দেন। সারিয়াকান্দিতে ইভিএমে ভোট দিতে গিয়ে ভোটাররা বিড়ম্বনায় পড়েন বলে অভিযোগ ওঠে।

কুষ্টিয়ায় ভোট চলাকালে ভোটারদের দুপুরের খাবারের জন্য ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী রবিউল ইসলাম রবি কেন্দ্রের পাশেই ১০ মণ চালের বিরিয়ানি রান্না করেছিলেন। খবর পেয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেই খাবার নিয়ে বিভিন্ন এতিমখানায় দিয়ে দেয়। কুমারখালীর তেবাড়িয়া জয় বাংলা প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেওয়ার সময় মামুন ও সজল নামের দুই কিশোরকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়।

মাগুরা শহরের ভিটাসাইর কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে শাওন মীর (২০) নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশ। তবে বিএনপির মেয়র প্রার্থীসহ একাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে তাঁদের এজেন্টদের শহরের ভিটাসাইর প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং ঢুকতে না দেওয়ার অভিযোগ করেন। তাঁরা বলেন, প্রতিটি কেন্দ্র সকাল থেকে যুবলীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দখলে রেখেছেন। এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি। যেসব কেন্দ্রে এজেন্টরা ঢুকেছিলেন, তাঁদেরও বের করে দেওয়া হয়েছে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে ভোটকেন্দ্রে প্রতিপক্ষের কর্মী-সমর্থকদের হাতে অপদস্থ হওয়ার পর ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলাম। দুপুর দেড়টার দিকে পৌরসভার পূর্ব টেংরি এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তিনি এই ঘোষণা দেন।

মেহেরপুরের গাংনীতে ইভিএমে কারসাজি, বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া, ভোটারদের কেন্দ্রে ঢুকতে না দেওয়াসহ নানা অভিযোগ তুলে দুপুরেই নির্বাচন বর্জন করেন বিএনপি প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র আশরাফুল ইসলাম। ভোটারদের উপস্থিতি ছিল কম। কোনো কেন্দ্রেই ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর এজেন্টকে পাওয়া যায়নি।

বাগেরহাটের মোংলায় কেন্দ্র দখলসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে ভোট শুরুর দুই ঘণ্টার মাথায় বিএনপির মেয়র ও কাউন্সিলর প্রর্থীরা ভোট বর্জন করেন। সকাল ১০টায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী মো. জুলফিকার আলী নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন ডেকে ভোট বর্জনের কথা জানান। এ সময় বিএনপি সমর্থিত সব কাউন্সিলর উপস্থিত ছিলেন। বিএনপির মেয়র প্রার্থী জুলফিকার আলী জানান, ভোটের আগের দিন রাতভর তাঁর কর্মী-সমর্থকদের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা হামলা ও মারধর করেছে। কাউন্সিলর প্রার্থী মো. হোসেন ও আলাউদ্দিন বলেন, ভোটারদের উপস্থিতি ভালো থাকলেও তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি। জোর করে তাঁদের ভোট নেওয়া হয়েছে।

টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ইভিএমে ভোট চলকালে দুপুর ১২টার দিকে ধনবাড়ী সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা ধাওয়াধাওয়ি হয়েছে। এ সময় পাঁচজন আহত হয়। কেন্দ্রের পাশেই উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মশিউর রহমান মিন্টু ও আওয়ামী লীগের কর্মী আবু কাউছারের বাড়িতে হামলা চালায় বিএনপির মেয়র প্রার্থীর সমর্থকরা। এ সময় সোহেল নামে আওয়ামী লীগের আরেক কর্মীর একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। ওই কেন্দ্রের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর এজেন্ট রাশেদুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আমার সামনেই আওয়ামী লীগের লোকজন জোর করে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে নিচ্ছিল। বাধা দিলে আমাকে তারা বের করে দেয়।’ এ ব্যাপারে জানতে ওই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার সুজন নাথের অফিসে গেলে তাঁর কক্ষটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। কক্ষের সামনে পাহারায় থাকা আনসার সদস্য বলেন, ‘স্যার বাইরে তালা দিয়ে ভেতরে বসে আছেন।’ বিএনপির প্রার্থী এস এম এ ছোবহান বলেন, ‘ধনবাড়ী সরকারি ডিগ্রি কলেজে ৮ নম্বর কেন্দ্রসহ কয়েকটি কেন্দ্রে ভোটারদের আঙুলের ছাপ নিয়ে বের করে দিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়া হয়।’ একই অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মনিরুজ্জামানও।

কুমিল্লার চান্দিনায় দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন আহত হয়। এর মধ্যে একজনকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের হারং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের পাশে ভোট শুরু হওয়ার আগেই এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ফেনীর দাগনভূঞায় ভোট চলাকালে একটি কেন্দ্রে পর পর দুটি ককটেল বিস্ফোরণে আনসার সদস্যসহ ছয়জন আহত হয়েছে। এ ছাড়া কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্ন হাঙ্গামার ঘটনাও ঘটে। সকাল ১০টার দিকে দাগনভূঞা পৌরসভার গনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের সামনে কে বা কারা পর পর দুটি ককটেল ছুড়ে মারে। তা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ককটেলের স্প্লিন্টারে আনসার সদস্য ওমর ফারুক আহত হন। দৌড়াতে গিয়ে আহত হন আরো কয়েকজন ভোটার।

রাজশাহীর বাগমারার ভবানীগঞ্জ কেন্দ্রে বিএনপির নেতাকর্মীদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাককে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। এ ছাড়া আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এস এম মামুনুর রশিদ মামুনকে ভোট দিতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ভোট দিতে না পেরে বাড়িতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শাহ আলমকে দুপুর ২টার সময় আটক করে থানায় নেওয়া হয়। নওগাঁর পত্নীতলার নজিপুরে ইভিএমে ভোটারদের নৌকা প্রতীকে ভোট দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ মিলেছে।

[প্রতিবেদনে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিরা।]

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা