kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ ফাল্গুন ১৪২৭। ৯ মার্চ ২০২১। ২৪ রজব ১৪৪২

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

আস্থার সংকটে পড়ারা পরিবেশ নষ্ট করছে

আ জ ম নাছির উদ্দীন সাবেক মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি

১৫ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



আস্থার সংকটে পড়ারা পরিবেশ নষ্ট করছে

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের দ্বন্দ্বের জের ধরে সহিংসতা এবং দলে অন্তঃকোন্দলের বিষয়টি এখন বহুল আলোচিত। এসব নিয়ে কালের কণ্ঠ কথা বলেছে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব আ জ ম নাছির উদ্দীনের সঙ্গে। তিনি বিদায়ি মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন নিজস্ব প্রতিবেদক নূপুর দেব।

 

কালের কণ্ঠ : চট্টগ্রাম মহানগরে আওয়ামী লীগের অন্তঃকলহ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত বিষয়। বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখেন?

আ জ ম নাছির উদ্দীন : আগেও রাজনীতিতে বিভক্তি-বিভাজন ছিল; তবে তখন নেতাদের মধ্যে নীতি-আদর্শ ছিল। নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শ লালন করার কারণে দল সমৃদ্ধ এবং জনগণ উপকৃত হয়েছে।

কিন্তু এখন শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনে নয়, সমাজজীবনেও নীতি-নৈতিকতার অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। রাজনীতিতে নীতি-নৈতিকতা ও শিষ্টাচার না থাকা এবং রাজনৈতিকচর্চা কমে যাওয়ায় বিভক্তি তৈরি হচ্ছে। আমি মনে করি, এখন রাজনৈতিক দলে বিভক্তি-বিভাজন আগের মতো নেই।

 

কালের কণ্ঠ : কেউ কেউ বলছেন, চট্টগ্রাম নগরে আওয়ামী লীগ দুই ভাগ, আবার কেউ কেউ বলছেন, তিন ভাগে বিভক্ত। এ বিষয়ে আপনার অভিমত কী?

নাছির : আসলে বাইরে থেকে বলাটা যত সহজ, আর বিষয়গুলো যাঁরা বলছেন, তাঁরাই এর উত্তর দিতে পারবেন। আমি মনে করছি, চট্টগ্রাম মহানগরের রাজনীতিতে দলের বৃহত্তর স্বার্থে সবাই একমত ও ঐক্যবদ্ধ থাকেন। কেউ কেউ যদি নিজেদের স্বার্থে বিভিন্ন পক্ষ ভাগ করে রাজনীতিকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করেন, তাঁদের কাছ থেকে রাজনীতিতে ভালো কিছু পাওয়া যাবে না। এখানে বিভক্তির সুযোগ নেই।

 

কালের কণ্ঠ : আসন্ন সিটি নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই বিভিন্ন এলাকায় কাউন্সিলর পদে দল সমর্থিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে সংঘাত-সহিংসতা বাড়ছে। এ নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে দুজন প্রাণ হারিয়েছেন। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। নিজেদের মধ্যে কেন এ সহিংসতা, আপনি কী মনে করছেন?

নাছির : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রথমবারের মতো মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে। মেয়র পদে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে সবাই ঐক্যবদ্ধ। কিন্তু দল সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থীর বাইরে যাঁরা (বিদ্রোহী) এখনো দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনী মাঠে আছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে আজকে (গতকাল) কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। প্রার্থীদের ভোটারদের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস থাকতে হবে। ভোটারদের মন জয় করতে হবে। কিন্তু আস্থা সংকটের কারণে প্রার্থীর অতি উৎসাহী কর্মীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছেন।

 

কালের কণ্ঠ : অভিযোগ উঠেছে যে দলের বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে আপনার অনুসারীও আছেন। এ কারণে তাঁরা মাঠ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না। এ সম্পর্কে আপনার বক্তব্য কী?

নাছির : আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী। বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাসী এবং জননেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একজন কর্মী। নির্বাচনে বিদ্রোহীদের মধ্যে কে আমার অনুসারী কিংবা কে অন্যের অনুসারী তা আমাদের বিবেচ্য বিষয় নয়। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে যাঁরা কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করছেন, আমি কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিই নাই। কখনো দিবও না। বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

কালের কণ্ঠ : আপনি সফলতার সঙ্গে সর্বশেষ গত পাঁচ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন। দ্বিতীয়বার মনোনয়ন না পাওয়ায় আপনার মনঃকষ্ট আছে কি?

নাছির : ২০১৫ সালে আমাকে যখন নেত্রী মেয়র পদে নির্বাচন করার জন্য মনোনীত করেছিলেন, তখন আমাদের দলের সাবেক তিনবারের সফল মেয়র, আমাদের নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীও (প্রয়াত) দল থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তিনি তখন নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আমি সাধারণ সম্পাদক। কিন্তু নেত্রী আমার ওপর আস্থা রেখে মেয়র পদে নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছিলেন। আমাকে মনোনয়ন দেওয়ার পর সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করেছিলেন। একইভাবে মাননীয় নেত্রী এবার আমাদের দল থেকে এম রেজাউল করিম চৌধুরীর ওপর আস্থা রেখেই মেয়র পদে তাঁকে মনোনয়ন দিয়েছেন। সভানেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে আবার চট্টগ্রামের মেয়র পদটি উপহার দিতে আমরা সবাই কাজ করছি। এখন এম রেজাউল করিম চৌধুরীকে বিজয়ী করার জন্য মাঠে নেমেছি। 

 

কালের কণ্ঠ : ভোটের মাঠে আলোচনা চলছে আওয়ামী লীগের মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিজয়ী করার ক্ষেত্রে আপনি ফ্যাক্টর। আপনার অগ্রণী ভূমিকায় দল মনোনীত ও সমর্থিতরা বিজয়ী হবেন। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কী?

নাছির : দলের মনোনীত মেয়র প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী, ৪০টি সাধারণ ওয়ার্ড ও ১৪টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে দল থেকে নেত্রী ও মনোনয়ন বোর্ড যাঁদের সমর্থন দিয়েছে প্রত্যেককে বিজয়ী করার জন্য আমি এ নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ চট্টগ্রামকে ঘিরে ১২ বছরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করেছেন। এর সুফল নগরবাসী পাচ্ছেন। উন্নয়নের সুফল ও আমার নির্বাচনী অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নেতাকর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে আমাদের সব প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত করার জন্য আমি কাজ করছি।

 

কালের কণ্ঠ : নির্বাচনে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও অংশ নিয়েছে। ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষকে কিভাবে দেখছেন? বিজয়ের ক্ষেত্রে ফ্যাক্টর কী হতে পারে?

নাছির : এ নির্বাচন আমার ও আমাদের দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়া ও দেখার সুযোগ নেই। আমাদের সরকারের আমলে চটগ্রামে যে উন্নয়ন হয়েছে এবং এখনো অনেক উন্নয়নকাজ চলমান আছে। এসব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড অতীতে অন্য কোনো সরকারের আমলে হয়নি। বিএনপি বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালালেও আমরা আমাদের প্রার্থীদের বিজয়ী করার জন্য চট্টগ্রামে উন্নয়নের সুফল ভোটারদের কাছে তুলে ধরছি। ভোটাররা সচেতন। তাঁরা উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পক্ষে নৌকা প্রতীকে ভোট দিয়ে উন্নয়নের চলমান এই ধারাকে অব্যাহত রাখবেন। চট্টগ্রামবাসী উন্নয়নের ধারাবাহিকতা চায়।

মন্তব্য