kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

দেশি শিল্পকে এগিয়ে নিতে ট্যারিফ সুবিধা ও প্রণোদনা লাগবে

মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন

২১ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



দেশি শিল্পকে এগিয়ে নিতে ট্যারিফ সুবিধা ও প্রণোদনা লাগবে

ট্যারিফ সুবিধা ও প্রণোদনা দিয়ে দেশীয় শিল্পকে উৎসাহিত করতে হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, প্রণোদনা না দিলে নতুন উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসবেন না। এ ছাড়া বর্তমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশের রপ্তানিবাজার টিকিয়ে রাখতে ট্যারিফসংক্রান্ত সিদ্ধান্তগুলো গবেষণাভিত্তিক হতে হবে বলেও মনে করেন তিনি। এ জন্য ট্যারিফ কমিশনকে আরো শক্তিশালী করতে জনবল বাড়াতে হবে। কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর এসব অভিমত তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র নিজস্ব প্রতিবেদক রোকন মাহমুদ সরকারের সচিব মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি ভূমি সংস্কার বোর্ডে চেয়ারম্যান, যানবাহন অধিদপ্তরের পরিবহন কমিশনার ও স্থানীয় সরকার বিভাগে যুগ্ম সচিব হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই স্কাউটের সঙ্গে জড়িত। রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে স্কাউটের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘সিলভার টাইগার’ অর্জন করেন এ বছর।

দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিয়ে থাকে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন। একই সঙ্গে চাল, ডাল, তেলসহ ১৭টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার যাতে জনসাধারণের নাগালে থাকে এ ব্যাপারেও সরকারের কাছে সুপারিশ করে। আমদানি-রপ্তানি শুল্কহার, কোন পণ্যে কেমন শুল্ক হবে সে বিষয়ে বিশ্লেষণ করে সুপারিশও দিয়ে থাকে কমিশন। সেগুলো সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে পাঠানো হয়। যাতে এর ভিত্তিতে বাজেটে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ বলেন, ‘আমাদের তৈরি পোশাক শিল্পের উজ্জ্বল অগ্রগতির পেছনে আমাদের প্রণোদনা দেওয়ার পরামর্শ ছিল। এ ছাড়া বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তিতে দেশের স্বার্থ রক্ষায় ট্যারিফ কমিশন সুপারিশ দিয়ে থাকে।’

মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদের মতে, দেশের উন্নয়নের জন্য, শিল্পায়ন খুব জরুরি। আমাদের উৎপাদিত কিছু পণ্য নিজেদের চাহিদা মিটিয়েও উদ্বৃত্ত থাকে, যা রপ্তানি করে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা আয় করতে পারি। রপ্তানি বাড়লে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানও হয়। সেই সঙ্গে বহির্বিশ্বেও আমাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়। এসব বিবেচনায় সরকার রপ্তানি খাতকে উৎসাহিত করে। এ জন্য বিভিন্ন সময় প্রণোদনা দিয়ে থাকে। যদিও প্রণোদনার হার খুব বেশি নয়।

তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের দেশ থেকে রড, সিমেন্ট ইত্যাদি রপ্তানি হচ্ছে। অনেক দেশ আমাদের কাছ থেকে এসব পণ্য আমদানি করছে। এ ধরনের শিল্প-কারখানা যদি কেউ স্থাপন করতে চায়, সে ক্ষেত্রেও সরকার আমদানির ওপর সুবিধা দিয়ে থাকে। সেটা ইপিজেডেই হোক বা বাইরেই হোক। এই সুবিধাগুলো দেওয়াতেই উদ্যোক্তারা উৎসাহিত হয়।’

লোকবল সংকট ট্যারিফ কমিশনের বড় সমস্যা বলে জানালেন মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, নতুন আইন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কমিশনের দায়িত্ব ও কাজের গতি বেড়েছে। তবে সব কাজ শুরু করতে কিছুটা সময় লাগবে। এ ক্ষেত্রে আরো লোকবল প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘নতুন আইন অনুসারে প্রতিটি জেলা-উপজেলায় দ্রব্যমূল্য মনিটরিং কমিটি করা হয়েছে। তারা বাজার মনিটর করছে। এ ছাড়া বিভিন্ন পণ্য নিয়ে গবেষণা হচ্ছে। এর মধ্যেই আলু, পেঁয়াজ, চালসহ বেশ কয়েকটি নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ে গবেষণা কাজ শেষ হয়েছে।’

আগামী অর্থবছরের জন্য সুস্পষ্ট এবং বৃহৎ আকারে বাজেট মতামত দেওয়ার কথা জানালেন মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, এতে আমদানি-রপ্তানির ট্যারিফগুলো যেমন থাকবে, তেমন অভ্যন্তরীণ বাজারের বিষয়গুলোও থাকবে। আশা করি এসব মতামত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হবে।

তিনি জানান, যেকোনো কমিশনই স্বাধীনভাবে কাজ করে। ট্যারিফ কমিশন ভবিষ্যতে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি। এটা দেশীয় শিল্পায়নের স্বার্থেই প্রয়োজন।

ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, “বর্তমানে ট্যারিফ পলিসি নিয়ে এনবিআর কাজ করে। তবে আমাদের কাছ থেকেও মতামত নেওয়া হয়। তবে এগুলো ট্যারিফ কমিশনেরই করা উচিত। এনবিআর ট্যাক্স ও ট্যারিফ কী হবে না হবে সে বিষয়ে সার্কুলার ইস্যু করে। তবে এর পেছনে তাদের কোনো গবেষণা থাকে না। তাদের সে ক্যাপাসিটি বা বিভাগ নেই। ফলে তারাও এ বিষয়ে ‘থিংট্যাংক’ হিসেবে ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন থেকে গবেষণাগুলো নিতে পারে। দেশের স্বার্থেই সিদ্ধান্তগুলো গবেষণাভিত্তিক হওয়া দরকার। তা না হলে সিদ্ধান্তের মধ্যে অনেক ঘাটতি থেকে যায়।”

তিনি মনে করেন, ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন যত বেশি শক্তিশালী ভূমিকা পালন করতে পারবে, এনবিআরের কাজ তত সহজ হবে।

স্কাউটিংটা ভালো মানুষ গড়ার আন্দোলন বলে মনে করেন মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ। তিনি বলেন, “আমি একজন ‘উড ব্যাজার’। এটি হতে অনেক ধাপ পার করে আসতে হয়। গত বছর  রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে আমি স্কাউটের সর্বোচ্চ দ্বিতীয় পুরস্কার ‘সিলভার ইলিশ’ অর্জন করেছি। এবার রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে স্কাউটের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘সিলভার টাইগার’ অর্জন করেছি। আমার ফ্যামিলিও স্কাউট ফ্যামিলি। আমার স্ত্রী নিজেও একজন উড ব্যাজার।”

 

মন্তব্য