kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

অর্থপাচারকারীদের নাম এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না

এ এম আমিন উদ্দিন, অ্যাটর্নি জেনারেল

১৮ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অর্থপাচারকারীদের নাম এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না

বিদেশে অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের নাম-পরিচয় এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থপাচার রোধে যেসব সংস্থা কাজ করছে, তাদের সমন্বয়ে গঠিত ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের এগমন্ট গ্রুপের অনুমতি প্রয়োজন। গ্রুপের সদস্য হিসেবে এরই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। এই বাস্তবতায় আমাদের এখন অপেক্ষা করতে হবে। অর্থপাচারকারী অনেকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। প্রচলিত মানি লন্ডারিং আইনের যথাযথ প্রয়োগেই দেশ থেকে অর্থপাচার রোধ সম্ভব। গতকাল বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা জানান অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন কালের কণ্ঠ’র বিশেষ প্রতিনিধি কাজী হাফিজ।

 

কালের কণ্ঠ : হাইকোর্টের নির্দেশ অনুসারে বিদেশে অর্থপাচার সম্পর্কে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুদক, বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটসহ (বিএফআইইউ) বিভিন্ন সংস্থা তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে অর্থপাচারের সঙ্গে কারা জড়িত, কী পরিমাণ অর্থপাচার হয়েছে—এসব তথ্য কি পাওয়া গেছে?

এ এম আমিন উদ্দিন : অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িতদের নাম-পরিচয় এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থপাচার রোধে যেসব সংস্থা কাজ করছে, তাদের সমন্বয়ে গঠিত ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্ট ইউনিটের এগমন্ট গ্রুপের অনুমতি প্রয়োজন। ওই গ্রুপের সদস্য হিসেবে এরই মধ্যে বাংলাদেশ থেকে এ বিষয়ে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি পাওয়া গেলে আদালতকে জানিয়ে দেওয়া হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের মিশনগুলোকে লিখেছে তদন্ত করে নাম জানাতে। এই বাস্তবতায় আমাদের এখনো অপেক্ষা করতে হবে। তবে অর্থপাচারের অভিযোগে যেসব মামলা হয়েছে, তা আদালতকে জানানো হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : হাইকোর্ট বিদেশে অর্থপাচারকারীদের সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য দিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দিলেন। একই সঙ্গে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে এসব সংস্থার নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করলেন। বিষয়টি সরকারের জন্য বিব্রতকর মনে করেন? 

আমিন উদ্দিন : এটা অন্যভাবে দেখার বিষয় না। একজন মন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই ব্যবস্থা নিয়েছেন। এতে বিব্রত হওয়ার কিছু নেই। সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও নিষ্ক্রিয় নয়। তারা যেসব তথ্য পেয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট অন্য সব সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করেছে। ওই সব তথ্যের ভিত্তিতে অনেকগুলো মামলা হয়েছে। ২০১৫ সাল থেকে এটা চলছে। অপরাধীদের ধরার চেষ্টা হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না বা হবে না।

 

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশ থেকে কী পরিমাণ টাকা কোন কোন দেশে পাচার হয়েছে—এ বিষয়ে কোনো ধারণা পাওয়া গেছে কি না?

আমিন উদ্দিন : অনুমানভিত্তিক কিছু বলা সম্ভব না। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান।

 

কালের কণ্ঠ : অর্থপাচার রোধ প্রচলিত আইনেই সম্ভব, নাকি আরো কার্যকর আইন প্রয়োজন? প্রচলিত আইনে সম্ভব হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত?

আমিন উদ্দিন : দেশে যে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন আছে, তাতেই সব কিছু কাভার করা সম্ভব। এই আইনে কিভাবে অর্থপাচার বন্ধ করা যাবে, বিদেশে পাচার করা টাকা কিভাবে জব্দ করা যাবে, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যাবে—সব বলা আছে। বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ হলে অর্থপাচার বন্ধ করা অসম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সঠিক পদক্ষেপই নিচ্ছে।

 

কালের কণ্ঠ : কয়েক দিন আগে সরকারের এসব সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আপনার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে তাঁরা কি কোনো প্রতিবন্ধকতার কথা বলেছেন?

আমিন উদ্দিন : সে ধরনের কোনো বৈঠক হয়নি। ওদেরকে শুধুমাত্র আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, যথাসময়ে প্রতিবেদন দাখিল না করলে বিব্রত হতে হয়।

 

কালের কণ্ঠ : কোনো সীমাবদ্ধতা বা প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল কি?

আমিন উদ্দিন : ওদের কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। কেবল বিএফআইইউ জানিয়েছিল, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এগমন্ট গ্রুপের অনুমতি ছাড়া কারো নাম-পরিচয় প্রকাশ করা যাবে না। এগমন্ট গ্রুপের অনুমতির জন্য তারা আবেদন করেছে।

 

কালের কণ্ঠ :  দুদকের প্রতিবেদনে কি কারো নাম জানানো হয়েছে?

আমিন উদ্দিন :  হ্যাঁ, দুদক কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা হিসেবে দেশ থেকে অর্থপাচার হওয়া আপনি কিভাবে দেখেন?

এ এম আমিন উদ্দিন : যাঁরা এ ধরনের কাজ করেন তাঁরা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে, দেশের অর্থনীতির বিরুদ্ধে, দেশের মানুষের বিরুদ্ধে কাজ করেন।

 

মন্তব্য