kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

কুষ্টিয়ায় ভাঙচুর করা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে গুলি

বিএনপি অফিসে হামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ও কুষ্টিয়া    

৬ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুষ্টিয়ায় ভাঙচুর করা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে গুলি

কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মাণাধীন ভাস্কর্য ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শুক্রবার রাত ২টার দিকে ভাস্কর্যটি ভাঙচুর করা হয়। এ ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা। সন্ধ্যায়ই কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে একদল বিক্ষুব্ধ মানুষ। আর রাত সাড়ে ৭টার দিকে বঙ্গবন্ধুর ভাঙচুর করা ভাস্কর্যে গুলিবর্ষণ করেছে দুর্বৃত্তরা।

গত নভেম্বর মাসের শুরুতে কুষ্টিয়া পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে জেলা শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধুর তিনটি ভাস্কর্য নির্মাণের কাজ শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের নিচের দিকে আগেই জাতীয় চার নেতার ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে। শহরের মজমপুরের অংশের দিকে নির্মাণাধীন ৭ই মার্চের ভাষণদানরত বঙ্গবন্ধুর একটি ভাস্কর্য তৈরির কাজ প্রায় শেষের দিকে। শুক্রবার রাতে এই ভাস্কর্যের বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করা হয়।

এদিকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা জানার পর পুলিশ জেলার সব ভাস্কর্যে নজরদারি শুরু করে। সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ একদল মানুষ শহরের এনএস রোডে জেলা বিএনপির অফিসে হামলা করে ভাঙচুর চালায়। রাত সাড়ে ৭টার দিকে একটি নোহা মাইক্রোবাস থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাঙচুর করা ভাস্কর্যে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে সেটি ঝিনাইদহের দিকে চলে যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। রাত ৯টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ লোক শহরের মজমপুর গেটে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহরাব উদ্দিনের ভাইয়ের মালিকানাধীন এসবি পরিবহনের অফিস ও কাউন্টার ভাঙচুর করে। এ সময় ছবি তুলতে গেলে দুজন সংবাদকর্মী হামলার শিকার হন।

কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম তানভীর আরাফাত বলেন, ‘ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। সেখানে রাত ২টার দিকে দুজনকে ভাস্কর্য ভাঙচুর করতে দেখা যাচ্ছে। তাদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।’

ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া : বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষক লীগ বিক্ষোভ মিছিল করেছে। মিছিলপূর্ব সমাবেশ থেকে ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

সম্প্রতি হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক মুজিববর্ষে ঢাকার দোলাইরপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তাঁরা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন হলে তা বুড়িগঙ্গায় ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। বিভিন্ন প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে হেফাজতের ভাস্কর্যবিরোধী এই অবস্থানের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। গত কয়েক দিনে জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টিসহ একাধিক দলের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙে ফেলার হুমকি দেওয়ায় হেফাজতের আমির জুনাইদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের গ্রেপ্তারের দাবি তোলা হয়। এরই মধ্যে কুষ্টিয়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল।

গতকাল সকালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তখন সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারে আছি। সব ব্যাপারে মাথা গরম করলে চলবে না। বিষয়টি হ্যান্ডল করছেন প্রধানমন্ত্রী।’

ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘আমরা সংঘাতে যাব না। যুক্তি-তর্ক দিয়ে বলব মূর্তি আর ভাস্কর্য এক নয়। আজ যারা ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে কথা বলে তারা কি জানে না সৌদি আরবসহ মুসলিম দেশগুলোতে ভাস্কর্য আছে?’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা