kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

করোনায় বিসিএসেও জট

শরীফুল আলম সুমন   

৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



করোনায় বিসিএসেও জট

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরি বা বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) নিয়োগ পরীক্ষায়ও জট লেগে গেছে। সাধারণত দেড় বছরের মধ্যে একটি বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি থেকে ফল প্রকাশ করা হয়। কিন্তু ২৭ মাসেও ৪০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষারই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। আর প্রায় এক বছর আগে ৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও এখনো প্রিলিমিনারি পরীক্ষাই নেওয়া সম্ভব হয়নি। এর পরও ৪২ ও ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)।

এই চারটি বিসিএসের কার্যক্রম এখন একসঙ্গে চলবে। এগুলো কবে নাগাদ শেষ করতে পারবে, সেটাও পিএসসি বলতে পারছে না। শীতের এ সময়ের করোনা পরিস্থিতির কারণে কোনো পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা গেছে।

বিসিএসে জট লেগে যাওয়ায় সরকারি দপ্তরগুলোতে নিয়মিত ক্যাডার কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে না। বিশেষ করে প্রতিটি বিসিএসে সবচেয়ে বেশি প্রায় ৮০০ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয় শিক্ষা ক্যাডারে। যাঁদের মূলত সরকারি কলেজগুলোতে শিক্ষক হিসেবে পদায়ন করা হয়। নতুন ৩০২টি কলেজ জাতীয়করণ হওয়ায় কলেজগুলোতে ব্যাপক শিক্ষক সংকট রয়েছে। প্রতিটি বিসিএস থেকে নিয়মিতভাবে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব না হলে কলেজগুলোতে শিক্ষক সংকট বাড়বে।

পিএসসির চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘৪০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার খাতা দেখা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এখন তৃতীয় পরীক্ষকের খাতা দেখা বাকি আছে। যদি প্রয়োজন না হয় তাহলে আমরা এবার তৃতীয় পরীক্ষক পর্যন্ত যাব না। করোনার মধ্যে খাতাপত্র আনা-নেওয়ার সমস্যার কারণেই মূলত ফল প্রকাশে দেরি হচ্ছে। ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষাও করোনার কারণে আটকে আছে। এখন আমরা অপেক্ষা করছি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার জন্য। তারা যদি নেয়, তাহলে আমরাও পরীক্ষা নিয়ে নেব।’

কমিশনের নতুন এই চেয়ারম্যান আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘শিগগিরই হয়তো ভ্যাকসিন চলে আসবে। আর শীতটা কমলে করোনার প্রকোপও কমে যাবে। তখন আমরা সব বিসিএসের কার্যক্রমই দ্রুততার সঙ্গে শেষ করার চেষ্টা করব।’

পিএসসি সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর এক হাজার ৯০৩টি পদের জন্য ৪০তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ২০১৯ সালের ৩ মে এই বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। একই বছরের ২৫ জুলাই ফলাফল প্রকাশ করে পিএসসি। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি থেকে লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়। এতে অংশ নেন ২০ হাজার ২৭৭ জন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ৪০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর আগেই শেষ হয়। এর পরও প্রায় আট মাসে সেই ফল প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। অথচ করোনার মধ্যে এসএসসি ও সমমানের প্রায় ১৭ লাখ পরীক্ষার্থীর খাতা দেখে ফল প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার খাতা দুজন পরীক্ষক দেখেন। কেবল অসংগতি থাকলে তখন তৃতীয় পরীক্ষকের কাছে পাঠানো হয়। এর পরও লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশে এত দেরি করা যুক্তিযুক্ত নয়। আর লিখিত পরীক্ষা শেষ হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়াটাও অসম্ভব নয়।

সূত্র জানায়, গত বছরের ২৭ নভেম্বর দুই হাজার ১৩৫টি পদের জন্য ৪১তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে পিএসসি। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হয়। আবেদন করেন রেকর্ডসংখ্যক চার লাখ ৭৫ হাজার প্রার্থী।

৪০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রার্থী জিয়াউল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিসিএস পরীক্ষার জন্য অন্য কোনো চাকরিতে চেষ্টা করিনি। কিন্তু এক বিসিএস নিয়েই প্রায় আড়াই বছর ধরে আটকে আছি। সব পরীক্ষার প্রস্তুতিও একসঙ্গে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষাগুলো দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন।’

গত সোমবার প্রকাশ হয় ৪২ ও ৪৩তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি। এর মধ্যে ৪২তম বিসিএসটি বিশেষ এবং ৪৩তমটি সাধারণ। ৪২তম বিসিএসের মাধ্যমে চিকিৎসক নেওয়া হবে দুই হাজার। আর ৪৩তম বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে এক হাজার ৮১৪ জন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। অনলাইনের মাধ্যমে ৪২তম বিসিএসের আবেদন আগামী ৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। আর ৪৩তম বিসিএসের আবেদনও অনলাইনে আগামী ৩১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে।

নতুন দুই বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করায় চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা গেছে। কিছু চাকরি প্রার্থী বেশ খুশি। নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা না হলে অনেকের চাকরির বয়স পার হয়ে যেত। এতে অনেকেরই আবেদনের সুযোগ সৃষ্টি হলো। আবার করোনার কারণে যাঁদের পরীক্ষা আটকে আছে, তাঁরা বেশ অখুশি। কারণ তাঁদের পক্ষে এই বিসিএসে অংশ নেওয়া সম্ভব হলো না।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একসঙ্গে চারটি বিসিএস নিয়ে বেশ হিমশিম খেতে হবে পিএসসিকে। ৪২তম যেহেতু বিশেষ বিসিএস, তাই এটা আগে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ৪১তম বিসিএসের প্রিলিমিনারিই এখনো বাকি। ফলে সেটা আগে শেষ না করে ৪৩তম ধরার সুযোগ নেই। আর এখন যেহেতু একেকটি বিসিএসে প্রায় পাঁচ লাখের কাছাকাছি আবেদন পড়ছে, তাই ইচ্ছা করলেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরীক্ষা নেওয়াটা কষ্টসাধ্য। আবার পরীক্ষা নিতে পারলেও বড় ধরনের জটের মধ্যে পড়তে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা