kalerkantho

শনিবার । ৯ মাঘ ১৪২৭। ২৩ জানুয়ারি ২০২১। ৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

সাধারণের ভাবনায় করোনার টিকা

স্বস্তি তবে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

শম্পা বিশ্বাস, সজিব ঘোষ ও মোবারক আজাদ    

৫ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



স্বস্তি তবে পাওয়া নিয়ে শঙ্কা

যুক্তরাজ্যে কয়েক দিনের মধ্যেই করোনাভাইরাসের টিকার প্রয়োগ শুরু হয়ে যাবে। এই খবরটি বিশ্বজুড়ে স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। বাংলাদেশেও টিকা প্রাপ্তি নিয়ে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের কথা শোনা যাচ্ছে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অনুমোদন পাওয়া বা অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা টিকা পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে উচ্চ ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো। এ প্রেক্ষাপটে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যোগ দিতে যাওয়া বাংলাদেশের মানুষের মধ্যেও টিকা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দেশে টিকা এলে আবার সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে উঠবে—এমন আশাবাদের পাশাপাশি টিকা প্রাপ্তির অনিশ্চয়তার কথাও উঠে আসছে। সাধারণ মানুষ মনে করছে, করোনার টিকা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে।

চাকরির খোঁজে থাকা মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. আল আমিন কালের কণ্ঠকে বলছিলেন, ‘করোনার ভ্যাকসিন (টিকা) এলে মানুষ স্বস্তি পাবে। আটকে থাকা চাকরির পরীক্ষাগুলো দিতে পারব আমি। সময়টা আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।’

নেত্রকোনার খোকন মিয়া ঢাকার অভিজাত এলাকা বারিধারায় রিকশা চালান। তাঁর কাছে করোনার টিকার খুব একটা গুরুত্ব নেই। তাঁর দাবি, টিকার দরকার অন্তত তাঁর নেই। খোকনের বদ্ধমূল ধারণা, ‘গরিব মাইনষ্যের করোনা অয় না।’

অনেকটা খোকন মিয়ার মতো করেই তেজগাঁও এলাকার রিকশাচালক আহাম্মেদ আলী বলছিলেন, তাঁর বাড়ি সাভারের হেমায়েতপুরের চর এলাকায়। সেখানে রোদ আছে। তাই ওই এলাকায় করোনা নেই এমন বিশ্বাসের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার টিকার দরকার নাই।’

ডিউক গ্লোবাল মেডিক্যাল ইনোভেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ৬৮০ কোটি ডোজ টিকার ক্রয়াদেশ এরই মধ্যে দিয়ে রেখেছে উচ্চ ও মধ্যম আয়ের কয়েকটি দেশ। আরো ২৮০ কোটি ডোজের ক্রয়াদেশ নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।

ধনী দেশগুলোর প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কেনার কারণে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে টিকা পেতে অনেক সময় অপেক্ষা করতে হবে। ২০২৩ বা ২০২৪ সালের আগে বিশ্বের সব মানুষের টিকা পাওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছে ডিউক গ্লোবাল মেডিক্যাল ইনোভেশন সেন্টার।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত চার লাখ ৭৩ হাজার ৯৯১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয় হাজার ৭৭২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর সুস্থ হয়েছে তিন লাখ ৯০ হাজার ৯৫১ জন।

সরকার এরই মধ্যে অক্সফোর্ডের টিকা আনার জন্য ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি করেছে। এর আওতায় তিন কোটি ডোজ টিকা আনবে সরকার, যা দেড় কোটি মানুষকে বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। টিকা দেওয়া হবে অগ্রাধিকারভিত্তিতে। সরকারের জন্য আনা টিকার প্রতি ডোজের দাম পড়বে পাঁচ ডলার (প্রায় ৪২৫ টাকা) করে। তবে ভারতকে এর চেয়ে কম দামে দিলে বাংলাদেশও কমে পাবে।

এর পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগেও টিকা আনার ব্যবস্থা হচ্ছে। অক্সফোর্ডের টিকা আনার জন্য বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড সেরামের সঙ্গে চুক্তি করেছে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের জন্য ১০ লাখ টিকার চাহিদার কথা সেরামকে জানানো হয়েছে। এ টিকার প্রতি ডোজের দাম পড়বে আট ডলার (প্রায় ৬৮০ টাকা) করে। সেখানে পরিবহন খরচ, সরকারি নীতি অনুযায়ী অন্যান্য খরচ মিলিয়ে দাম নির্ধারণ করা হবে। ফলে ক্রেতাদের কাছে কিছুটা বেশি পড়তে পারে।

দেশে অক্সফোর্ডের টিকা আসতে পারে আগামী জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে। অবশ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, জানুয়ারিতেই এ টিকা আসবে। ফাইজার বা মডার্নার মতো কম্পানির টিকা আমদানির বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্য ফাইজারের টিকা প্রয়োগ শুরু করবে কয়েক দিনের মধ্যে।

হাতিরঝিলে কথা হয় মোক্তার ও তাঁর বন্ধুদের সঙ্গে। তাঁরা মনে করেন, করোনার টিকা তাঁদের মতো মানুষের হাতে পৌঁছাবে না। এটা শুধু ধনীরাই পাবে।

রামপুরার বাসিন্দা সুমন বলেন, ‘আমি চাই টিকা আমার হাতে আসুক। তবে মানুষের অনুপাতে টিকার সরবরাহ যখন কম, তাই টিকা পাওয়া মানে ভাগ্যের ব্যাপার।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা