kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিদেশি এনজিওদের তদবির

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৪ ডিসেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিদেশি এনজিওদের তদবির

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নেওয়া ঠেকাতে রীতিমতো আটঘাট বেঁধে নেমেছিল আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (আইএনজিও) ও মানবাধিকার সংস্থা। আগ্রহী রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরের উদ্যোগের বিরোধিতা করে তারা নিজেরা শুধু বিবৃতিই দেয়নি, বিভিন্ন পশ্চিমা দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে তদবিরও চালিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ সরকার তাদের ভাসানচরের বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি। রোহিঙ্গাদের ভাসানচর পরিস্থিতি সম্পর্কে পুরোপুরি না জানিয়ে বা জোর করে নেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের জোর করে ভাসানচরে নেওয়ার অভিযোগ নাকচ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ভাসানচরে কাউকে জোর করে নেওয়া হচ্ছে না। যারা সরকারের আহ্বানে সাড়া দিয়েছে, তাদেরই শুধু স্থানান্তর করা হচ্ছে। 

মন্ত্রী বলেন, ভাসানচরে গেলে এনজিওগুলোর লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে—এই ভয়ে অনেকেই যাচ্ছে না। অনেকে মনে করে, তাদের সুযোগ-সুবিধাও কমে যাবে। আসলে এমন কিছুই না, ভাসানচরে আরো অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে এনজিওগুলোর জন্য। আর রোহিঙ্গাদের যারা যাচ্ছে সেখানে, তাদের কাউকেই জোর করে নিয়ে যাচ্ছি না। যারা যাচ্ছে স্বেচ্ছায় যাচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘকে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে স্বচ্ছ হওয়ার আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, জাতিসংঘ গত বুধবার এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা স্থানান্তর বিষয়ে অবগত থাকার কথা উল্লেখ করে জানায়, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে তারা যুক্ত নয়। এ ছাড়া ভাসানচর বিষয়ে জাতিসংঘ খুব কমই জানে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, রোহিঙ্গা জেনোসাইড ঠেকাতে জাতিসংঘ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। মিয়ানমারের সংকট সমাধানেও তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। উল্টো বাংলাদেশের ওপর প্রত্যাশার চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ এর আগে মিয়ানমারবিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার ইয়াংহি লিকে ভাসানচর সরেজমিন পরিদর্শনের সুযোগ দিয়েছে এবং সেখানে তাঁর আসা-যাওয়ার জন্য হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা করে। অথচ তিনি মিয়ানমারে ঢোকার অনুমতিই পাননি। একইভাবে বেশ কিছু আইএনজিও ও মানবাধিকার সংস্থা মিয়ানমারে কাজ না করে বাংলাদেশের ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বোঝা সৃষ্টি করলেও তাদের মানবিক সহায়তা দেওয়া সংস্থা বা এনজিওগুলোর জন্য বিশাল সুযোগ সৃষ্টি হয়। সীমান্তবর্তী কক্সবাজার নিয়েও তাদের অনেকের অতিমাত্রায় আগ্রহ রয়েছে।

শরণার্থী নিয়ে কাজ করা একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার সমালোচনা করে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কূটনীতিক বলেন, ওই সংস্থার কাজ বিপদের সময় শরণার্থীদের উদ্ধার এবং পরবর্তী সময়ে তাদের প্রত্যাবাসনে সহায়তা করা। কিন্তু শরণার্থীদের উদ্ধারে যতটা আগ্রহ দেখা যায়, প্রত্যাবাসনে ততটা দেখা যায় না। কারণ এর সঙ্গে ওই সংস্থার কর্মীদের জীবিকাও জড়িত। একইভাবে এনজিওদেরও অনেকে এই সংকট সমাধান কতটা চায় তা নিয়েও প্রশ্ন আছে।

জানা গেছে, বিভিন্ন মহলের নানামুখী বাধা সত্ত্বেও অন্তত ২২টি এনজিও ভাসানচরে কাজ শুরু করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা