kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

নতুন আলু ও টমেটোর আগুনদাম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নতুন আলু ও টমেটোর আগুনদাম

শীতে সরবরাহ বাড়লেও রাজধানীর বাজারে সবজির দামের তেজ কমছে না। এর মধ্যে নতুন আলু ও টমেটোর দামের আগুনে হাতই দিতে পারছেন না ক্রেতারা। ফলে ক্রেতাদের হাপিত্যেশ বাড়ছে। অথচ মাঠপর্যায়ের তথ্য বলছে, এ দুটি সবজির দাম রাজধানীতে যতটা বাড়তি, কৃষক পর্যায়ে ততটা বাড়েনি। কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কৃষক থেকে ভোক্তা পর্যায়ে দামের ফারাক বেশ কয়েক গুণ।

গতকাল রবিবার সরেজমিন রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, নতুন আলুর কেজি ১২০-১৫০ টাকা, কাঁচা টমেটোর কেজি ৬০ টাকা, পাকা টমেটো ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে গতকালই কৃষক পর্যায়ে নতুন আলু বিক্রি হচ্ছে রাজধানীর বাজারের অর্ধেক দামে।

বগুড়ার কৃষক ক্ষেত থেকে নতুন আলু তুলে বিক্রি করছেন ৮০ টাকা কেজিতে। নীলফামারীর কৃষক ৫১ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন আলু। রাজশাহীর কৃষক কাঁচা টমেটো বিক্রি করছেন প্রতি মণ এক হাজার ৩০০-এক হাজার ৪০০ টাকায়। সেই হিসাবে ৩২-৩৫ টাকা কেজি। তবে বাজারের সব পাকা টমেটোই ভারত থেকে আমদানি করা। দেশি পাকা টমেটো এ সপ্তাহেই বাজারে ঢুকবে।

বগুড়ায় আলুর ফলন এবারও বাম্পার : বগুড়ায় গত বছরের মতো এবারও আলুর ভালো ফলন হয়েছে। আগামজাতের নতুন আলু কৃষক ক্ষেতে বিক্রি করছেন ৮০ টাকা কেজিতে। আশানুরূপ দাম পেয়ে হাসি ফুটেছে চাষিদের মুখে। দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা আলুক্ষেত সঠিকভাবে পরিচর্যা করছেন।

বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সূত্র জানায়, বগুড়ায় গত মৌসুমে ৬১ হাজার ৩০৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল। ফলন পাওয়া গিয়েছিল ১১ লাখ ৩৪ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন। জেলায় গত বছর রেকর্ড পরিমাণ আলু উৎপাদন হয়েছিল। সে ধারাবাহিকতায় এ বছরও ভালো ফলন পাওয়ার আশা করা হচ্ছে। বগুড়ায় শীতের আগেই সদর উপজেলায় আগামজাতের আলুর আবাদ হয়ে থাকে। এখন আগাম জাতের শুধু লাল পাকরি আলু বাজারে ও হাটগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে।

বগুড়া সদরের শাখারিয়া গ্রামের কৃষক মনিরুল মিয়া জানান, ধান কাটার পর আগামজাতের আলু আবাদ শেষে বাজারে বিক্রি করা হয়েছে। নতুন আলু তাঁরা ক্ষেতে বিক্রি করছেন ৮০ টাকা কেজি হিসাবে। অর্থাৎ তিন হাজার ২০০ টাকা মণ।

আদমদীঘি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহাদুজ্জামান জানান, এবার এ উপজেলায় আলু চাষ হয়েছে চার হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে। আশা করা হচ্ছে, এ বছরও আলুর ভালো ফলন পাওয়া যাবে।

নীলফামারীতে নতুন আলু ৫১ টাকা কেজি : চড়া বাজারে নতুন আলু বিক্রি করে খুশি নীলফামারীর কৃষক। নতুন আলু কৃষকরা বিক্রি করছেন ৫১ টাকা কেজি দরে। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকায়। কৃষকের হাত বদল হয়ে ভোক্তার কাছে ওই আলু পৌঁছাতে প্রতি কেজিতে বাড়ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা।

জেলা সদরের কচুকাটা গ্রামের আলু ব্যবসায়ী জাপান আলী বলেন, এক সপ্তাহ ধরে এলাকা থেকে নতুন আলু ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানের আড়তে পাঠাচ্ছি। জমি থেকে আলু সংগ্রহ করে পরিবহন, শ্রমিক ও ঢাকার আড়তদারের কমিশনসহ কেজিতে পাঁচ টাকা খরচ আসে। তিনি বলেন, গত শুক্রবার কৃষকের কাছ থেকে প্রতি কেজি নতুন আলু ৫১ টাকা দরে কিনেছেন। খুচরা বাজারে বিক্রি হয়েছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা দরে।

রাজশাহীতে কাঁচা টমেটো প্রতি মণ এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা : রাজশাহীর গোদাগাড়ী রামনগর গ্রামের মাঝখানে হ্যালিপ্যাড মাঠ। টমেটো প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাতের জন্য এই হ্যালিপ্যাড এলাকার ১০টি স্থানে ব্যবসায়ীরা আস্তানা গেড়েছেন। তাঁরা অস্থায়ী বাড়ি করে বা বাড়ি ভাড়া নিয়ে ফাঁকা জমি বর্গা নিয়ে সেখানে কাঁচা টমেটো পাকিয়ে বাজারজাত করছেন। এভাবে গোদাগাড়ীর কমপক্ষে ৩০টি স্থানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা এসে এই টমেটো ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন।

গোদাগাড়ীতে টমেটো কিনতে যাওয়া ঢাকার ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন বলেন, গতকাল কাঁচা টমেটো কিনেছি প্রতি মণ এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা দরে। তবে ১ সপ্তাহ আগে আরো বেশি দামে কিনতে হয়েছিল। প্রথম দিকে কেনা টমেটোগুলো প্রক্রিয়াজাত করে হালকা লাল রঙে পরিণত করা হয়েছে। পুরোপুরি লাল হতে আরো দু-তিন দিন সময় লাগবে। এরপর বাজারজাত শুরু হবে। এখন পর্যন্ত পাকা টমেটো বাজারে যাচ্ছে না, বাজারে যেসব পাকা টমেটো রয়েছে সেগুলো ভারত থেকে আমদানি করা।

(প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন আমাদের স্থানীয় নিজস্ব প্রতিবেদক ও  প্রতিনিধিরা।)

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা