kalerkantho

সোমবার। ৪ মাঘ ১৪২৭। ১৮ জানুয়ারি ২০২১। ৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

খালের দায়িত্ব পাচ্ছে সিটি করপোরেশন

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



খালের দায়িত্ব পাচ্ছে সিটি করপোরেশন

রাজধানীর খাল ও নর্দমা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব ছিল ঢাকা ওয়াসার। ওয়াসার মালিকানায় থাকা ২৬টি খালের পানিপ্রবাহ ধরে রাখতে অনেকটা ব্যর্থ হয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানটি। ফলে খাল ও নর্দমা ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছিলেন খোদ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়ররা। অবশেষে সেই দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।

জলাবদ্ধতা নিরসনে নর্দমা ও খালগুলোকে সচল রেখে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনে হস্তান্তরের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় (এলজিআরডি)। গতকাল বৃহস্পতিবার এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে খালগুলো সিটি করপোরেশনের নিকট ন্যস্তকরণ’ সংক্রান্ত এক পরামর্শসভা শেষে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। খাল হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে একটি কারিগরি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।

জানা গেছে, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ ইবরাহিমকে কমিটির আহ্বায়ক এবং উপসচিব মোহাম্মদ সাঈদ উর রহমানকে এই কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে। কারিগরি কমিটিতে দুই সিটি করপোরেশনের চারজন করে আটজন এবং ওয়াসার চারজন প্রতিনিধিকেও রাখা হবে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘টেকনিক্যাল কমিটি এক মাসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন দেবে এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে। আইনে যেভাবে আছে সিটি করপোরেশন পানি নিষ্কাশনের কাজ করার জন্য দায়বদ্ধ। ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সংস্কার করাও তাদের কাজ। কিন্তু একটি সময় মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ওয়াসার কাছে এই দায়িত্বটা হস্তান্তর করা হয়েছিল। সে জন্য কাজটি ওয়াসা এরই মধ্যে করে আসছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমানে সিটি করপোরেশনের দুজন মেয়র জনগণের কল্যাণে আন্তরিক। উনারা চান এ কাজটি যদি ওঁনারা করেন ভালো করতে পারবেন। ড্রেনেজ সিস্টেমটা সিটি করপোরেশনের কাছে গেলে তারা ভালো করতে পারবে।’

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেটি আমরা চেয়েছিলাম, তাই বাস্তবায়নের জন্য নীতিগতভাবে একমত হয়েছি এবং এখানে যেহেতু টেকনিক্যাল অনেক ব্যাপার আছে, তাই জনগণের পাশে থেকে জনগণের দুর্ভোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য যে সভা হয়েছে তাতে আমরা একমত পোষণ করেছি। জনগণকে জলাবদ্ধতা থেকে রক্ষার জন্য আমরা চেষ্টা করব।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ‘দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা নিরসনে একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

তবে জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকা ওয়াসার কোনো ব্যর্থতা দেখেন না প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিম এ খান। তিনি বলেন, ‘এ কাজ সিটি করপোরেশনকে দেওয়ার জন্য অনেকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু তারা নেয়নি। এটা আমাদের ব্যর্থতা নয়।’

 

মন্তব্য