kalerkantho

শনিবার। ২ মাঘ ১৪২৭। ১৬ জানুয়ারি ২০২১। ২ জমাদিউস সানি ১৪৪২

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

বস্তিতে আগুন লাগলেই প্রশ্ন সামনে আসে

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন , মহাপরিচালক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর

২৭ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বস্তিতে আগুন লাগলেই প্রশ্ন সামনে আসে

কোথাও আগুন লাগলে তা নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কর্মীরা ছুটে যান সবার আগে। তবে এই অধিদপ্তরের উদ্ধারকাজ ও সক্ষমতা নিয়ে প্রায়ই অভিযোগ ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে ফায়ার সপ্তাহ পালন করেছে এই অধিদপ্তর। এর পরই এক দিনের ব্যবধানে রাজধানীতে তিন বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উঠে এসেছে নাশকতার অভিযোগ। তবে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসাইন বলেছেন, বস্তিতে আগুন লাগলেই এ ধরনের প্রশ্ন সামনে আসে। নাশকতা ঘটেছে কি না, সেটি খতিয়ে দেখবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে মহাপরিচালক বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও লোকবল বৃদ্ধির মাধ্যমে ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা বেড়েছে অনেক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এস এম আজাদ।

 

কালের কণ্ঠ : অগ্নিকাণ্ডের পর ফায়ার সার্ভিস কি শুধু অগ্নি নির্বাপণ করবে? ঘটনার তদন্ত করে সুপারিশ প্রণয়ন এবং অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস কী ধরনের কাজ করছে?

ব্রি. জে. সাজ্জাদ হোসাইন :  ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স শুধু অগ্নি নির্বাপণই করে না, বরং তারা বহুবিধ সেবা প্রদানে সব সময়ই মানুষের পাশে দাঁড়ায় সবার আগে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স যেকোনো অগ্নিকাণ্ডে তদন্তপূর্বক সুপারিশ প্রণয়ন করে। এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ, মাইকে সতর্কতা ও মহড়ার আয়োজন করে।

 

কালের কণ্ঠ : বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের পর কিছু সুপারিশের কথা শোনা যায়; যেমন—নিমতলী ঘটনার পরও কিছু সুপারিশ করা হয়েছিল। এগুলো বাস্তবায়নের কী অবস্থা? এ ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের ভূমিকা কতটুকু?

ব্রি. জে. সাজ্জাদ হোসাইন : বড় বড় অগ্নিকাণ্ডের পর যেসব সুপারিশ করা হয়, তার মধ্যে এই অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নযোগ্য সুপারিশ অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে অধিদপ্তর বাস্তবায়ন করে। যেমন—মহড়া ও গণসংযোগের মাধ্যমে সাধারণ জনগণের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি, প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক তৈরির কার্যক্রম ইত্যাদি।

 

কালের কণ্ঠ : সম্প্রতি কিছু অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেখা গেছে, অনেক ইউনিট কাজ করলেও দীর্ঘ সময় লেগেছে অগ্নি নির্বাপণ করতে। এর কারণ কী?

ব্রি. জে. সাজ্জাদ হোসাইন : আগুন নেভানোর সময়কাল সাধারণত নির্ধারণ হয় আগুনের তীব্রতা এবং অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রের যথাযথ ব্যবহারের ওপর। সম্প্রতি যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার কিছু কিছু নির্বাপণের সময় পরিলক্ষিত হয়েছে স্বাভাবিক কাজ করার পরিস্থিতি না থাকায়। বিশেষ করে বলব পানির স্বল্পতা, সরু রাস্তা, বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন, ঝুলন্ত ডিশের তার, অবৈধ/যত্রযত্র বৈদ্যুতিক সংযোগ ইত্যাদি। এ ছাড়া উত্সুক জনতার অযাচিত হস্তক্ষেপও আগুন নেভাতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।

 

কালের কণ্ঠ : বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা কতটুকু?

ব্রি. জে. সাজ্জাদ হোসাইন : ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক ও সক্ষম। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ২০০৯ সালে ক্ষমতা গ্রহণের সময় ফায়ার স্টেশনের সংখ্যা ছিল ২০৪। বর্তমানে আছে ৪৩৬টি।

 

কালের কণ্ঠ : বহুতল ভবন ও সরু গর্ত—এ দুই স্থানে উদ্ধারকাজ চালাতে আপনাদের সক্ষমতা বেড়েছে কতটুকু?

ব্রি. জে. সাজ্জাদ হোসাইন : ২০০৯ সালে যেখানে ফায়ার সার্ভিসের বহুতল ভবনে কাজ করার মতো একটি ৪৭ মিটারের পুরনো গাড়ি ছিল, সেখানে আমরা এই প্রতিষ্ঠানের জন্য বহুতল ভবনে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজের জন্য ২১টি উঁচু মইয়ের গাড়ি এনেছি। ফায়ার সার্ভিসের এখন ৬৪ মিটার বা ২০ তলা পর্যন্ত অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধারকাজ করার সক্ষমতা হয়েছে। এ ছাড়া ৬৮ মিটার উচ্চতার লেডার সংবলিত গাড়ি ফায়ার সার্ভিসের বহরে যোগ হওয়ার অপেক্ষায় আছে। অর্থাৎ আগামী বছর ফায়ার সার্ভিসের সক্ষমতা ২২ তলা পর্যন্ত সম্প্রসারিত হবে।

সরু গর্ত, অপ্রশস্ত জায়গা বা কনফাইন্ড স্পেসে ভিকটিম লোকেট করার জন্য আমরা সার্চ ভিশন ক্যামেরা সংগ্রহ করেছি। এমনকি আমরা প্রশিক্ষিত কুকুরের সমন্বয়ে ডগ স্কোয়াড তৈরি করেছি।

 

কালের কণ্ঠ : বস্তিতে বারবার আগুনের কারণ কী? বস্তিবাসী দখল ও উচ্ছেদের জন্য পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ করে, কিন্তু আপনাদের তদন্তে সেগুলো প্রমাণিত হয় না।

ব্রি. জে. সাজ্জাদ হোসাইন : বস্তিতে আগুন লাগার বিভিন্ন কারণ থাকে। এমনিতেই এখন আগুন বেশি লাগে। কারণ যখন শীত শুরু হতে থাকে, তখন জ্বালানি বা দাহ্য বস্তুগুলো রসহীন হয়ে শুকিয়ে যায়। দুর্ঘটনাস্থলে বিদ্যমান অবৈধ বা অপরিকল্পিত বৈদ্যুতিক স্থাপনা ও গ্যাসলাইন, খোলা বাতি ও মশার কয়েলের ব্যবহার, অসাবধানতা ও অসচেতনতা ইত্যাদি কারণে বস্তিতে বারবার অগ্নিদুর্ঘটনা সংঘটিত হয়। কিন্তু বস্তি দখল বা উচ্ছেদের জন্য পরিকল্পিতভাবে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে কি না বা কোনো নাশকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্য থাকে কি না—এ বিষয়গুলো অনুসন্ধান করা আমাদের কার্যপরিধির অংশ নয়।

 

কালের কণ্ঠ : অতি সম্প্রতি আপনারা ফায়ার সপ্তাহ পালন করেছেন। ফায়ার সার্ভিসের উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য পরিকল্পনা কী আছে?

ব্রি. জে. সাজ্জাদ হোসাইন : ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ পালন করার মাধ্যমে আমরা মূলত দুর্যোগ ঝুঁকি কমিয়ে আনতে সচেতনতা বৃদ্ধি, আমাদের কাজে জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন কর্মসূচি প্রণয়নের মাধ্যমে আমাদের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার উদ্যোগ নিয়ে থাকি। প্রধানমন্ত্রী এই অধিদপ্তরকে ঢেলে সাজানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের সানুগ্রহ নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ছাড়া অধিদপ্তরের সকল সদস্যকে চৌকস কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধু ফায়ার একাডেমি নির্মাণের অনুমতি দিয়েছেন। আমি এ জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অধিদপ্তরের পক্ষে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

মন্তব্য