kalerkantho

বুধবার। ৬ মাঘ ১৪২৭। ২০ জানুয়ারি ২০২১। ৬ জমাদিউস সানি ১৪৪২

গোল্ডেন মনিরের দেড় হাজার কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ দুদকে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



গোল্ডেন মনিরের দেড় হাজার কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ দুদকে

রাজধানীর মেরুল বাড্ডা থেকে বিপুল অর্থ, অস্ত্র, মদ, সোনাসহ গ্রেপ্তার গোল্ডেন মনির হোসেনের দেড় হাজার কোটি টাকার সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মনিরের নামে রাজধানীর অভিজাত এলাকায় ২৬টি প্লট ও অস্থাবর সম্পদসহ ৬১০ কোটি টাকার তথ্য দুদকের হাতে। এর বাইরে প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশাল অঙ্কের বিনিয়োগ ও সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘গোল্ডেন মনিরের অঢেল সম্পদের তথ্য রয়েছে দুদকের হাতে। এ পর্যন্ত  সুনির্দিষ্টভাবে মনিরের নামে ৬১০ কোটি এবং তাঁর স্ত্রীর নামে প্রায় ছয় কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। আরো বেশ কিছু তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। এর জন্য স্ত্রীসহ মনিরের সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ ইস্যু করতে সুপারিশ করেছেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা।   

গোল্ডেন মনিরের নামে পাওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে—রাজধানীর বাড্ডায় আড়াই কাঠা জমিতে ছয়তলা ভবন, উত্তরা কমার্শিয়াল এলাকায় পাঁচ কাঠা জমি, উত্তরার জমজম টাওয়ারে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ, বারিধারা ব্লক-জে-এর প্রগতি সরণিতে চার কাঠার প্লট, বাড্ডার বারিধারা জে ব্লকে ২ নম্বর প্লটে সাড়ে চার কাঠা জমি, একই ব্লকের ১৩ নম্বর রোডে চার কাঠা জমি, ১ নম্বর রোডে চার কাঠার প্লট, বাড্ডার ১১ নম্বর রোডে ৪৪ নম্বর প্লটে আড়াই কাঠার প্লট, একই এলাকার ১০ নম্বর রোডে আড়াই কাঠার প্লট, একই এলাকায় ৪২ নম্বর প্লটে আড়াই কাঠা জমি, ৩২ নম্বর প্লটে আড়াই কাঠা জমি। একই এলাকায় ৩৭ নম্বর প্লট ও ৪১ নম্বর প্লটে মোট পাঁচ কাঠা জমি। ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ৩৩ শতাংশ জমি। বাড্ডা মৌজায় আড়াই কাঠা ও পৌনে তিন কাঠার প্লট। একই এলাকার ১০ নম্বর রোডে আড়াই কাঠা ও পৌনে তিন কাঠার প্লট, কেরানীগঞ্জে পৌনে চার কাঠার প্লট, কেরানীগঞ্জে মগর চোর মৌজায় সাড়ে ৭ শতাংশ জমি, উত্তরার হরিরামপুরে ৩৬ শতাংশ জমি, একই এলাকায় পাঁচ কাঠার প্লট, উত্তরার নলভোগ মৌজায় চার কাঠার প্লট, পূর্বাচল প্রকল্পে ৫ নম্বর সেক্টরে ১০ কাঠার প্লটসহ বিভিন্ন এলাকায় নামে-বেনামে শত শত কোটি টাকার জমি কিনেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মনির তাঁর স্ত্রী রওশন আক্তারের নামেও সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। ৫০০ থেকে ৬০০ ভরি স্বর্ণসহ বাড়ি গাড়ি ফ্ল্যাট গড়েছেন স্ত্রী এবং স্বজনদের নামে। স্ত্রী রওশন আক্তারের নামে বাড্ডায় রয়েছে পৌনে তিন কাঠার একটি প্লট, একই মৌজায় ১১ নম্বর রোডে আড়াই কাঠার প্লট, ভাটারা থানা এলাকায় আড়াই কাঠার প্লট, গুলশান-১-এর ৬ নম্বর রোডে প্রায় সাড়ে তিন হাজার স্কয়ার ফিটের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য পাঁচ কোটি টাকা। মনিরের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে মনির বিল্ডার্সের ৬০০ শেয়ার, মেসার্স গার্লস অটো কারস লিমিটেডের ১৬৫০টি শেয়ার, একটি সেডান কার, মিত্সুবিশি মডেলের একটি জিপ, একটি পিস্তল, ১২টি শটগানসহ অঢেল সম্পদ।

দুদকের অনুসন্ধানের সময় মনিরের আয়কর নথি, বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রকৃতপক্ষে তাঁর বৈধ আয়ের উল্লেখযোগ্য কোনো উৎস নেই।

৬১০ কোটি দুই লাখ ২৫ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ নিজের নামে রাখায় তাঁর বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ জারির সুপারিশ করেছেন দুদকের অনুসন্ধান কর্মকর্তা। একইভাবে তাঁর স্ত্রী রওশন আক্তারের নামে পাঁচ কোটি ৭৫ লাখ ৯২ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধেও সম্পদ বিবরণী চেয়ে নোটিশ ইস্যুর সুপারিশ করেছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা।

অন্যদিকে র‌্যাব মনির হোসেনের বাসা তল্লাশি করে একটি পিস্তল, চারটি গুলি, চার লিটার বিদেশি মদ, ৩১টি নকল সিল, ১০ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল, ৫০১ ইউএস ডলার, ৫০০ চায়নিজ ইয়েন, ৫২০ রুপি, এক হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার, দুই লাখ ৮০ হাজার জাপানি ইয়েন, ৯২ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ১০ দিরহাম, ৬৬০ থাই বাথ জব্দ করে। এগুলোর মূল্য আট লাখ ২৭ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৬০০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ এক কোটি ৯ লাখ টাকা জব্দ করা হয়েছে। আর তাঁর পরিবারের যে পাঁচটি গাড়ি পাওয়া গেছে সেগুলোর মূল্য প্রায় আট কোটি টাকা।

২০১২ সালের এপ্রিলে মনির হোসেনের বিরুদ্ধে এক কোটি ৬১ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছিল দুদক। দুদকের তত্কালীন উপপরিচালক হারুন অর রশীদ বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। আদালতে রিটসহ বিভিন্ন জটিলতায় মামলাটির তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। বর্তমানে দুদকের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন মৃধা এই মামলার তদন্ত করছেন।

মামলা ডিবিতে হস্তান্তর

অস্ত্র, মাদক ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকারসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ব্যবসায়ী মনির হোসেন ওরফে গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে করা তিনটি মামলা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল বিকেলে গোল্ডেন মনিরের বিরুদ্ধে করা তিনটি মামলা ডিবি পুলিশের গুলশান বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাড্ডা থানার ওসি পারভেজ ইসলাম। গত শুক্রবার (২০ নভেম্বর) রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ী গোল্ডেন মনিরের মেরুল বাড্ডার বাসায় অভিযান চালিয়ে নগদ এক কোটি ৯ লাখ টাকা, চার লিটার মদ, আট কেজি স্বর্ণ, একটি বিদেশি পিস্তল, কয়েক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে র‌্যাব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা