kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ মাঘ ১৪২৭। ২৮ জানুয়ারি ২০২১। ১৪ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বাণিজ্যনীতিতে বড় পরিবর্তন আসছে

► ৬০টি আইন ও নীতিমালা সময়োপযোগী করার উদ্যোগ
► সংশ্লিষ্টদের নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বৈঠক আজ

এম সায়েম টিপু   

২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাণিজ্যনীতিতে বড় পরিবর্তন আসছে

বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের সক্ষমতা তুলে ধরতে এবং ২০২৪ সালে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের পর প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে দেশের বাণিজ্য আইন ও নীতিমালায় ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অন্তত ৬০টি আইন ও নীতিমালা সংশোধন বা সময়োপযোগী করার উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ১৩টি আইন সংশোধনের কাজ চলছে। আর ২৭টি নীতিমালা পর্যালোচনা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কমিটি।

বিষয়টি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আজ মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে খাতসংশ্লিষ্টদের নিয়ে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে বৈঠকের আয়োজন করেছে। মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সরকারের বাণিজ্যসংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান, শীর্ষ বাণিজ্য সংগঠন এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো আলোচনায় বসবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন উপস্থিত থাকবেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বের হয়ে আসার পর বাংলাদেশকে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে আরো অসম প্রতিযোগিতায় পড়তে হবে। তখন ব্যবসায় সহজীকরণ সূচকে উন্নতি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ যাতে আরো সহজ হয়, সে জন্য বাণিজ্য নীতিমালায় পরিবর্তন বা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; যাতে বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়বে।

জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাণিজ্য আইন ও নীতি সংশোধনে দেশে প্রথম একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ৬০টি বাণিজ্যনীতি ও আইন সংশোধনের মাধ্যমে বাণিজ্যনীতিতে আরো এক ধাপ এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ। সরকারের এমন বড় উদ্যোগের ফলে ব্যবসায় সহজীকরণ সূচকে উন্নতি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ আরো সহজ হবে। এই কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকে বসছি।’

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশ রিজিওনাল কানেকটিভিটি প্রকল্প-০১ বাণিজ্যসংক্রান্ত নীতিমালা ও আইন সংস্কার যুগোপযোগী করতে এই কর্মযজ্ঞের উদ্যোগ নিয়েছে। ন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্ট ফ্যাসিলিটেশন কমিটির (এনটিটিএফসি) সুপারিশক্রমে বাণিজ্যসংক্রান্ত ৬০টি নীতিমালা, আইন, বিধিবিধান পর্যালোচনা করার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে।

যেসব আইন ও নীতিমালা সংশোধন, সংযোজন ও পরিবর্তন হতে পারে এর মধ্যে রয়েছে আমদানি-রপ্তানি (নিয়ন্ত্রণ) আইন’১৯৫০, কম্পানি আইন ১৯৯৪, সিআইপি (রপ্তানি) পলিসি ২০১৩, দ্য অ্যাসেনশিয়াল আর্টিকেল আইন-১৯৫৩, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো আইন-২০১৫, ফরেন এক্সচেঞ্জ ট্রানজেশন গাইডলাইন ২০১৮, রেজিস্টার্ড এক্সপোর্টার সিস্টেম (রেক্স) বাস্তবায়ন গাইডলাইন ২০১৯, স্বর্ণ পলিসি ২০১৮, জাতীয় রপ্তানি ট্রফি নীতি-২০১৩, তৈরি পোশাক খাতের সাবকন্ট্রাক্টিং গাইডলাইন ২০১৯, নতুন কাস্টম আইন ২০১৮ এবং পুরাতন ১৯৬৯, ব্যাগেজ রুলস ২০১৮, টিসিবি অর্ডার ১৯৯২, ভ্যাট ও সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি আইন ২০১২, ট্যারিফ শিডিউল ২০১৭ (সব স্থলবন্দরের জন্য), জাতীয় আইসিটি পলিসি ২০১৮, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) আইন ২০১৬, ওয়ানস্টপ সার্ভিস আইন ২০১৮।

আরো আছে ট্রেডমার্ক আইন-২০০৯, জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন অব গুডস আইন ২০১৩, ন্যাশনাল ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি পলিসি ২০১৮, ট্রেড অর্গানাইজেশনাল অর্ডিন্যান্স ১৯৬১/রুলস ১৯৯৪ ও ২০১৮, অ্যান্টি ডাম্পিং পলিসি ২০১৪, কাউন্টারভেইলিং মেজার্স পলিসি ২০১৫, সেইফগার্ড মেজার্স পলিসি ২০১৪, এসএমই পলিসি ২০১৯, বিএসটিআই অ্যামেন্ডমেন্ট আইন ২০১৮, কোয়ারেনটাইন রেগুলেশন আইন ২০১৮, নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৮, কনজ্যুমার রাইট প্রটেকশন আইন ২০০৯, জাতীয় কৃষিনীতি ২০১৮ (খসড়া), জাতীয় মৎস্য নীতিমালা ১৯৯৮, জাতীয় ওষুধ নীতি ২০১৬, ড্রাগ কন্ট্রোল অর্ডিন্যান্স ২০০৬। এ ছাড়া জাতীয় শিপিং পলিসি, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ অর্ডিন্যান্স ১৯৭৬, বাংলাদেশ ইপিজেড লেবার অর্ডিন্যান্স-২০১৯, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল আইন ১৯৯৬, ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টিমোড ট্রান্সপোর্ট পলিসি ২০১৩, বাংলাদেশ অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেশন আইন ২০১২, জাতীয় পরিবেশ নীতি ২০১৮, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ এবং বিধি ২০০৮।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের সদস্য শাহ মো. আবু রায়হান আল বেরুনী কালের কণ্ঠকে বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইন ও নীতিমালা পরিবর্তনের এই উদ্যোগে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে সুফল আসবে এবং বাণিজ্য ঘাটতি পূরণে বড় ধরনের সুবিধা পাবে। এ ছাড়া করোনা মহামারির ধাক্কাও কাঠিয়ে উঠতে সহায়ক ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দেশের বাণিজ্যনীতি যুগোপযোগী হবে।

এই বিষয়ে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই সহসভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, সরকার দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরির ওপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অগ্রাধিকার রয়েছে। সেই আলোকে দেশের বাণিজ্য আইন ও নীতি পর্যালোচনা করে যুগোপযোগী করতে হবে। এটা করা গেলে বিশ্ববাণিজ্যে দর-কষাকষিতে সক্ষমতার পাশাপাশি এলডিসিতে উত্তরণের পরও বাংলাদেশ নিজেদের সক্ষমতা তুলে ধরতে পারবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা