kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

জি২০ সম্মেলন

সবার কাছে টিকা পৌঁছানোর প্রত্যয়

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সবার কাছে টিকা পৌঁছানোর প্রত্যয়

শিল্পোন্নত জি২০ দেশগুলোর নেতারা করোনাভাইরাসের টিকা বিশ্বজুড়ে ‘ন্যায়সংগত’ বিতরণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে তাঁরা দরিদ্র, ঋণগ্রস্ত দেশগুলোকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির হাতে আসা জি২০ সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণার একটি খসড়ায় এসব প্রত্যয়-প্রতিশ্রুতির কথা বলা হয়েছে। তবে প্রতিশ্রুতিগুলো কিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে সে ব্যাপারে স্পষ্ট কোনো দিকনির্দেশনা নেই।

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দুই দিনের এক ভার্চুয়াল সম্মেলনে এই বিষয়গুলো উঠে আসে। জি২০ভুক্ত সব দেশের নেতারা এই সম্মেলনে বক্তব্য দেন। গত শনিবার শুরু হওয়া সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয়ই ছিল করোনাভাইরাস। একই সঙ্গে উঠে আসে জলবায়ু পরিবর্তন প্রসঙ্গ। এর আগেই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ঘাটতি মেটাতে জি২০ভুক্ত দেশগুলোর প্রতি আশু ৪৫০ কোটি ডলার দেওয়ার আহ্বান জানান ইউরোপীয় এবং অন্যান্য দেশের নেতারা।

খসড়ায় বলা হয়, ‘স্বাস্থ্যসংক্রান্ত গবেষণা, উন্নয়ন, নির্মাণ ও বিতরণের জন্য জরুরি ভিত্তিতে যে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন তা মেটাতে সহায়তার উদ্যোগ নিয়েছি আমরা। এর আওতায় কার্যকর কভিড-১৯ শনাক্তকরণ, চিকিৎসা প্রদান এবং টিকার ব্যবস্থা করা হবে।’ এতে আরো বলা হয়, ‘এই উদ্যোগ যেন সবার সাধ্যের মধ্যে থাকে এবং সবার কাছে পৌঁছায় তার জন্য সম্ভব সব ধরনের চেষ্টা করা হবে।’ তবে এই উদ্যোগগুলোর বাস্তবায়ন কী করে করা হবে সে সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা এই খসড়ায় নেই। গতকাল রবিবার রাতেই জি২০ সম্মেলনের চূড়ান্ত ঘোষণাপত্র স্বাগতিক রিয়াদের পক্ষ থেকে প্রকাশ করার কথা ছিল। শেষ মুহূর্তে এতে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সম্মেলনে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ শনিবার বলেন, করোনাভাইরাস জি২০ দেশগুলোর জন্য একটি পরীক্ষা। তিনি আরো বলেন, বৈশ্বিকভাবে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব নয়।’ জি২০ভুক্ত দেশগুলোর তরফ থেকে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দুই হাজার ১০০ কোটি ডলার চাঁদা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এই ভাইরাসে এরই মধ্যে পাঁচ কোটি ৬০ লাখের বেশি লোক আক্রান্ত হয়েছে। মারা গেছে ১৩ লাখের বেশি মানুষ। এই ভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে সংকট দেখা দিয়েছে তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এখন পর্যন্ত ১১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

জি২০ সম্মেলনে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও যেসব দেশ ঋণগ্রস্ত তাদের ঋণ মওকুফের বিষয়ে কোনো বক্তব্য নেই। যদিও এ নিয়ে তাদের ওপর চাপ বাড়ছে। এর আগে তারা আগামী বছর জুলাই পর্যন্ত ঋণসংক্রান্ত সব বিষয় স্থগিত রাখার কথা বলেছিলেন। জাতিসংঘ মহাসচিব এই প্রক্রিয়া ২০২১ সালের শেষ পর্যন্ত সম্প্রসারিত করার কথা বলেছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে খসড়ায় কোনো উল্লেখ নেই। আগামী বসন্তে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব ব্যাংকের বৈঠক হওয়ার কথা। ঋণের সময় আরো ছয় মাস বাড়ানো হবে কি না সে ব্যাপারে তখন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

করোনাভাইরাস ও জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের তরফ থেকে আরো বেশি সহায়তা পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘যুক্তরাষ্ট্রই সর্বাগ্রে’ নীতির কারণে নানাভাবেই ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে বিশ্বকে। প্যারিস চুক্তি থেকেও ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেন। জি২০ সম্মেলনে ট্রাম্প বক্তব্য রাখলেও করোনাভাইরাসসংক্রান্ত আলোচনায় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। ওই সেশনে গলফ খেলতে চলে যান তিনি। তাঁর নিজ দেশে এই ভাইরাসে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা সর্বাধিক। কিন্তু ট্রাম্প কখনোই করোনাকে বড় ধরনের সংকট হিসেবে মেনে নেননি। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা