kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

বিশ্ব বাণিজ্যের ৬৫% ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সমুদ্র দিয়ে : শ্রিংলা

প্রতিবেশীদের উৎসাহ দিচ্ছে ভারত

কূটনৈতিক প্রতিবেদক    

২২ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতিবেশীদের উৎসাহ দিচ্ছে ভারত

‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ কৌশলের বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোকেও উৎসাহিত করছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সাম্প্রতিক এক বক্তব্যে বিষয়টি উঠে এসেছে। শ্রিংলা গত ৩ নভেম্বর যুক্তরাজ্যের লন্ডনে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভারতের ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ কৌশল বা লক্ষ্য ব্যাখ্যা করেন।

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা জানান, ভারতীয় একজন সমুদ্র বিশ্লেষক ১৯৯০-এর দশকেই ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। ভূ-রাজনৈতিক অভিধানে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ তুলনামূলক সাম্প্রতিক সংযুক্তি। বিগত দশকে এটি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও যুক্তরাজ্য নয়, অংশীদার অনেক দেশের সঙ্গে যৌথ বিবৃতিতে ভারত ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ শব্দকোষ ব্যবহার করেছে। ভারতের আসিয়ান মিত্রদের সঙ্গে বৈঠক এবং ‘কোয়াড’ আলোচনা এগিয়ে নিতেও ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ ভূমিকা রেখেছে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ইন্দো-প্যাসিফিক ও ওশেনিয়া ডিভিশন নামের দুটি নতুন বিভাগ চালু করেছে। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাকে সেগুলোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এগুলো এই অঞ্চলের প্রতি ভারতের অঙ্গীকারের প্রতিফলন বলে জানিয়েছেন হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেন, ভারত শুধু ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’ ভাবনাকে মূলধারায় নিয়ে যায়নি, বরং এই ভাবনার ব্যাপ্তি বুঝতে ও সংজ্ঞায়িত করতে অন্যদেরও উৎসাহিত করেছে। ভারতের কাছে ইন্দো-প্যাসিফিক হলো একটি বিশাল সমুদ্রসীমা, যা উত্তর আমেরিকার পশ্চিম উপকূল থেকে আফ্রিকার পূর্ব উপকূল পর্যন্ত প্রসারিত।

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা জানান, অনেক দেশই এখন ভারতের সঙ্গে মিলিয়ে ‘ইন্দো-প্যাসিফিক’কে সংজ্ঞায়িত করছে। ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক লক্ষ্য বুঝতে হলে প্রথমে জানতে হবে কেন তারা এভাবে এটি সংজ্ঞায়িত করছে। শীতল যুদ্ধের সময় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলকে বেশ কটি প্রভাববলয়, সামরিক মঞ্চে ভাগ করে নির্দিষ্ট চিন্তাধারার অধীন করে তোলা হয়েছিল। ভারতের কাছে এটি যৌক্তিক ছিল না।

শ্রিংলা জানান, ভারতের ধর্মীয় ঐতিহ্য যেমন ‘বুড্ডিজম’ ইন্দো-প্যাসিফিকজুড়ে আছে। একুশ শতকে আন্তঃসংযুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক পূর্ণ সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। এটি বাণিজ্য ও সমৃদ্ধির কেন্দ্র। বিশ্বের মোট বাণিজ্যের ৬৫ শতাংশ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সমুদ্র দিয়ে হয়ে থাকে। এ ছাড়া ভারতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশই হয় ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের জলপথ দিয়ে।

ভারতের পররাষ্ট্রসচিবের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০১৮ সালে সিঙ্গাপুরে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘ভারতের ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের’ কথা জানান। তিনি একে বলেছিলেন ‘সাগর মতবাদ’ হিসেবে। এর পূর্ণ রূপ হলো ‘সিকিউরিটি অ্যান্ড গ্রোথ ফর অল ইন দ্য রিজিওন’।

হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা জানান, ভারত তার ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলের আওতায় অ্যাডেন উপসাগরে নিরাপত্তা প্রদানকারী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই অঞ্চলজুড়ে বিভিন্ন অংশীদার দেশকে ভারত প্রশিক্ষণ ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম দিয়েছে। বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, সিসিলি, মরিশাসকে ভারত উপকূলীয় নজরদারি ব্যবস্থা দিয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিকের আওতায় অবকাঠামো উন্নয়নেও ভারত সহায়তা দিচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা