kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

ব্যক্তিকেন্দ্রিক মোবাইল কোর্ট করে লাভ হবে না

ফরহাদ হোসেন, প্রতিমন্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

বাহরাম খান   

২০ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ব্যক্তিকেন্দ্রিক মোবাইল কোর্ট করে লাভ হবে না

কালের কণ্ঠ : করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার কী করছে?

ফরহাদ হোসেন : করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় আমাদের বড় অস্ত্র প্রথম ধাক্কার সময় অর্জিত অভিজ্ঞতা। প্রথমে যে ধরনের আতঙ্ক ছিল, সেটা অনেকটা কেটে গেছে। চিকিৎসা খাতে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। একদিকে চিকিৎসক ও নার্সরা রোগী ব্যবস্থাপনায় তাঁদের অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন; অন্যদিকে হাসপাতালগুলোতে নানা সরঞ্জামের যে ঘাটতি ছিল, সেগুলো অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।

 

কালের কণ্ঠ : করোনা পরীক্ষায় পর্যাপ্ততা এত দিনেও আসেনি। দ্বিতীয় ধাক্কায় আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হলে কী হবে?

ফরহাদ হোসেন : শুরুতে মাত্র একটি আরটি-পিসিআর মেশিন ছিল। এখন সারা দেশে ১২১টি মেশিন আছে। এ ছাড়া যক্ষ্মার পরীক্ষার জন্য যে মেশিন প্রতিটি উপজেলায় আছে, সেখান থেকেও করোনা টেস্টের ব্যবস্থা করছি আমরা।

 

কালের কণ্ঠ : মাস্ক ব্যবহার ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে জোর দিচ্ছে সরকার। মানুষ তো এসব কথা কানে তুলছে না। কী করবে সরকার?

ফরহাদ হোসেন : এটা অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের জায়গা থেকে সরকারি অফিসে মাস্ক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যায়। যে ব্যক্তি মাস্ক পরে সেবা নিয়ে বাইরে গিয়ে মাস্কটা আবার খুলে পকেটে ঢুকিয়ে ফেলেন, সেখানে সরকার কিছু করতে পারে না। এই জায়গাটাতে সচেতনতা দরকার। কারণ মানুষ যে বিষয়টি নিজে প্ররোচিত হয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ না করবে, সেই জায়গায় অভিযান চালিয়ে সফলতা অর্জন করা যায় না। আমরা চাচ্ছি মানুষের মধ্যে সচেতনতার মাত্রাটা ওই পর্যায়ে পৌঁছাতে।

 

কালের কণ্ঠ : সেটা কিভাবে সম্ভব?

ফরহাদ হোসেন : আমাদের একটা ভাবনা হলো ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক’ মোবাইল কোর্ট করে লাভ হবে না। মাঠ প্রশাসনকে আমরা বলব, সংশ্লিষ্ট সব পর্যায়ের স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলতে। ওই সব স্টেকহোল্ডার তাঁদের নিজ নিজ জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উদ্যোগ নেবেন।

 

কালের কণ্ঠ : যেমন?

ফরহাদ হোসেন : মনে করেন জেলা-উপজেলায় যে বাসস্ট্যান্ডগুলো আছে সেখানকার কমিটির নেতাদের নিয়ে স্থানীয় প্রশাসন বসে স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে। এরপর ওই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাস্ক পরার বিষয়টি তাদের কমিটিই নিশ্চিত করবে। এর পরও যদি স্বাস্থ্যবিধি মানতে গুরুতর অবহেলা দেখা যায়, তাহলে ওই কমিটির নেতাদের জবাবদিহি করতে বলা হবে। প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

কালের কণ্ঠ : তাঁদের কথা মানুষ কেন মানবে?

ফরহাদ হোসেন : যাঁরা যেখানকার মানুষ তাঁরা সেখানকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কিভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হয়, সেটা ভালো জানেন। তাই এই উদ্যোগটা তাঁদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন হলেই সফল হওয়া সম্ভব। স্থানীয় ক্লাব, সংগঠন, এনজিওসহ সব ধরনের স্টেকহোল্ডারদের সহযোগিতা চাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী নিজেও সব অনুষ্ঠানে মাস্ক পরা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছেন।

 

কালের কণ্ঠ : করোনা উপলক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে কোনো সহযোগিতা চাননি কেন?

ফরহাদ হোসেন : সব রাজনৈতিক দল তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে মানুষকে স্বাস্থ্য সচেতন করতে কাজ করছে। এ ছাড়া স্থানীয় প্রশাসনও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সহযোগিতায় কাজ করছে। সরকারি দলের কর্মী হিসেবে আমি নিজেও আমার নির্বাচনী এলাকায় এক লাখের বেশি মাস্ক বিতরণ করেছি। এটা আমাদের সবার দায়িত্ব। এর জন্য কারো আমন্ত্রণের অপেক্ষার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। তবে প্রধানমন্ত্রী যখন সবার সহযোগিতা চান, তখন তো তিনি দলের থাকেন না। প্রধানমন্ত্রী দেশের সব জনগণের।

 

কালের কণ্ঠ : এত কিছুর পরও মানুষ কেন সচেতন হচ্ছে না। মাঠ প্রশাসন থেকে কী ধরনের তথ্য পাচ্ছেন?

ফরহাদ হোসেন : গ্রামের দিকে করোনা রোগীর সংখ্যা খুবই কম। ওই সব এলাকায় মানুষ স্বাস্থ্যবিধির নিয়ম-কানুন মানতে চায় না। যিনি আক্রান্ত হন, তিনি করোনার মর্ম বোঝেন। আমি নিজে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলাম। আমার মধ্যে তেমন লক্ষণ ছিল না। কিন্তু করোনা নেগেটিভ আসার পরও কিছু দুর্বলতা ও অন্যান্য সমস্যায় ভুগেছি। এই বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে যে আপনি আক্রান্ত হলে পুরো পরিবার আক্রান্ত হতে পারে

 

কালের কণ্ঠ : সরকার এত কিছু করছে, সারা দেশের মানুষকে কিছু মাস্ক কিনে দিতে পারত...

ফরহাদ হোসেন : এ বিষয়ে একটা উদ্যোগ চলছে। ১৫০ কোটি টাকার মাস্ক কেনার একটি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। অনেক সচেতন মানুষ আছেন, যাঁরা মাস্ক সঙ্গে রাখলেও ব্যবহার করেন না। পকেটে বা নাকের নিচে ঝুলিয়ে রাখেন। আবার একজন রিকশাওয়ালা সারা দিনে হয়তো ২০-৫০ টাকা সিগারেটের পেছয়ে ব্যয় করেন; কিন্তু ১৫ টাকা দিয়ে একটি মাস্ক কিনে মাসের পর মাস ব্যবহার করতে পারেন।

 

কালের কণ্ঠ : মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলছেন অনেকে ...

ফরহাদ হোসেন : মানুষকে সচেতন করতে হবে। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় এখন সচেতনতাই বড় ভ্যাকসিন। মোবাইল কোর্ট বড় কোনো সমাধান নয়। সচেতনতা নিশ্চিত করতে সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ জন্য আমরা শহরকেন্দ্রিক ভলান্টিয়ার তৈরি করা যায় কি না সে বিষয়ে চিন্তা করছি। এ ছাড়া মসজিদ, ক্লাব, শিক্ষকদের মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা চলছে। আমরা সচেতনতার মাধ্যমে জঙ্গিবাদের মতো বিষবাষ্পকে প্রতিরোধ করেছি। আশা করি, করোনাভাইরাসও মোকাবেলা করতে সক্ষম হব।

 

কালের কণ্ঠ : আপনাকে ধন্যবাদ।

ফরহাদ হোসেন : কালের কণ্ঠ এবং যাঁরা আমার কথা পড়বেন, তাঁদের অগ্রিম ধন্যবাদ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা