kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

নির্মাণ খাতে করোনার প্রভাব

রাজধানীতে ভবনের নকশা অনুমোদন ৭০% কমেছে

নকশা অনুমোদনের সংখ্যা ডিসেম্বরে ৭৭২ জানুয়ারিতে ৬৪৪
এপ্রিল-আগস্ট পাঁচ মাসে ১১৮২

শাখাওয়াত হোসাইন   

১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজধানীতে ভবনের নকশা অনুমোদন ৭০% কমেছে

বাংলাদেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার আগে গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে গড়ে ৭৮৩টি ভবন তৈরির নকশা অনুমোদন দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), কিন্তু এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত গড়ে মাসে মাত্র ২৩৬টি ভবনের নকশার অনুমোদন দিয়েছে সংস্থাটি। সে হিসাবে গত পাঁচ মাসে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে নকশা অনুমোদন ৭০ শতাংশ কম হয়েছে। করোনায় কর্মকর্তারা নিয়মিত অফিস না করার কারণে নকশা অনুমোদন কম হয়েছে বলে দাবি করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন (রিহ্যাব)। এদিকে ৬৬ দিন সাধারণ ছুটি এবং করোনাভাইরাসের মধ্যে ভবনের নকশা অনুমোদনের আবেদন কম জমা পড়ার কারণে অনুমোদনও কম হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজউক কর্মকর্তারা।

চীন গত ৩১ ডিসেম্বর দেশটির উহানে বেশ কয়েকজনের করোনাভাইরাস আক্রান্তের ঘোষণা দেয়। এর এক মাস পর্যন্ত তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি ঢাকার আবাসন খাতে। ডিসেম্বরে ৭৭২টি ভবনের নকশার অনুমোদন দিয়েছে রাজউক। জানুয়ারিতেও ৭৯৪টি ভবনের নকশার অনুমোদন দেয় সংস্থাটি। গত ৮ মার্চ দেশে তিন ব্যক্তির করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ঘোষণা আসে। এরপর ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। টানা ৬৬ দিন চলে ছুটি। ২৬ মার্চ থেকে সরকারি অফিসও বন্ধ ছিল। ফলে এই ৬৬ দিন কোনো ভবনের নকশার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। অফিস খোলার পরও কর্মকর্তাদের উপস্থিতি কম ছিল। তবে এপ্রিল থেকে আগস্ট—এই পাঁচ মাসে মোট এক হাজার ১৮২টি ভবনের নকশার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে এই পাঁচ মাসে গড়ে মাত্র ২৩৬টি নকশা অনুমোদন দিয়েছে রাজউক। তবে সেপ্টেম্বর মাসে ভবনের নকশা এবং ভূমি ব্যবহারের ছাড়পত্রের জন্য আবেদনের সংখ্যা বাড়ছে বলে দাবি করেছেন রাজউক কর্মকর্তারা।

রাজউকের উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ-১ শাখার পরিচালক মোবারক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কভিড-১৯ মহামারির সময় ভবন নির্মাণের জন্য নকশার আবেদন অনেক কম জমা পড়েছে। বিশেষ করে এপ্রিল-আগস্টে আবেদন কম পড়েছে। অনুমোদনও হয়েছে অনেক কম। স্বাভাবিকভাবেই নকশা অনুমোদন খাত থেকে রাজউকের রাজস্ব আয়ও কম হয়েছে।’

আবাসনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, একটি শহরের অবকাঠামো নির্মাণের প্রবণতা দেখে সার্বিক উন্নয়ন সম্পর্কে কিছুটা আঁচ করা যায়। করোনা মহামারিতে ঢাকায় শ্রমিকসংকট ছিল তীব্র। এ ছাড়া এই সময়ের মধ্যে রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও জমির মালিকরা ভবন নির্মাণ থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এর বাইরে দীর্ঘ দিন সরকারি অফিস বন্ধ ছিল। ব্যাংক থেকেও পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন কম জমা পড়েছে। করোনার সময় ফ্ল্যাটের দাম কম থাকাটাও একটা বড় কারণ। তবে আবেদন জমা পড়লেও কর্মকর্তারা অফিস না করার কারণে নকশা অনুমোদন দিতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবাসন ব্যবসায়ীরা। সেবা খাতের জন্য যে অর্থ সরকার বরাদ্দ দিয়েছে, তার পুরোপুরি সুবিধা এখনো পাচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। আবাসন খাতকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে এবং নগরের অবকাঠামো উন্নয়ন বজায় রাখার স্বার্থে ব্যাংকঋণ দরকার।

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের (রিহ্যাব) প্রেসিডেন্ট আলমগীর শামসুল আলামিন কাজল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক কম্পানি আবেদন করার পরও নকশা অনুমোদন পায়নি। কমিটির সভা না হওয়ার কারণে এই সমস্যা হয়েছে। করোনার মধ্যে যে স্থবিরতা ছিল, তা অনেকটা কেটে যাচ্ছে। আশা করি, আমরা দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরতে পারব। ব্যাংকঋণের ব্যাপারেও সরকার আন্তরিক।’

রিহ্যাবের ডিরেক্টর শাহাদাত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, করোনার সময় ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে একটু সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়েছে, তবে সেই সমস্যা এখন অনেকটা কমে গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা