kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১১ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৬ নভেম্বর ২০২০। ১০ রবিউস সানি ১৪৪২

প্রধানমন্ত্রী বললেন

সরকার দেশকে আরো মর্যাদার আসনে নিতে কাজ করছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৩০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সরকার দেশকে আরো মর্যাদার আসনে নিতে কাজ করছে

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশকে আর্থ-সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে বিশ্বে আরো মর্যাদাপূর্ণ আসনে নিয়ে যেতে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে, তাঁদের কথা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২০’ প্রদান অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার প্রদান করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা অন্যের সহায়তা না নিয়ে আর্থ-সামাজিকভাবে স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরো মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছি।’

তিনি বলেন, ‘জাতির পিতার যে স্বপ্ন, যে চেতনায় আমার লাখো শহীদ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে স্বাধীনতা এনে দিয়ে গেছেন, তাঁদের এবং আমার লাখো মা-বোনের সেই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেই আমরা এই বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি হিসেবে বাংলাদেশ সারা বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে। আমরা কেন অন্যের কাছে হাত পেতে, মাথা নিচু করে চলব? কিন্তু ৭৫-এর পর আমরা সেই সম্ভাবনা ও অধিকার হারিয়েছিলাম।’

তাঁর সরকারের পরিচালনায় বাংলাদেশ আজ তার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশকে দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত করে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার জন্যই আমরা আমাদের সমস্ত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি এবং যথেষ্ট অর্জনও করেছি।’

আসন্ন শীতে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে সরকারপ্রধান বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়লেও তাঁর সরকার এটা মোকাবেলায় প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে, যেন দেশের মানুষ এর থেকে সুরক্ষা পায় এবং দেশের অর্থনীতি গতিশীলতা না হারায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা যখন একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করলেন এবং ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে গ্রামপর্যায় পর্যন্ত সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পদক্ষেপ নিলেন ঠিক সেই মুহূর্তে ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। এর সঙ্গে বাঙালি জাতিও তাদের সব সম্ভাবনাকে হারিয়ে ফেলে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা এবং প্রধানমন্ত্রী এদিনও জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যাকারী আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচারের পথ রুদ্ধ করে তাদের পুরস্কৃত করা, যুদ্ধাপরাধীদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশ করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুনর্বাসন এবং ইতিহাস বিকৃতি তথা বঙ্গবন্ধুর নামকে ‘বাংলাদেশ এবং স্বাধীনতা’ থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টার অভিযোগে সাবেক সেনাশাসক জিয়াউর রহমানকে অভিযুক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের সময়োচিত ও কার্যকর পদক্ষেপে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের খণ্ডচিত্রও তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২০ বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান তিনি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত এই অনুষ্ঠান মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম পরিচালনা করেন এবং পুরস্কার বিজয়ীদের জীবনবৃত্তান্ত পড়ে শোনান। অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে প্রফেসর ডা. এ কে এম এ মুকতাদির নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।

এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার বিজয়ীরা হচ্ছেন স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক, কমান্ডার (অব.) আবদুর রউফ (মরণোত্তর), বুদ্ধিজীবী মুহম্মদ আনোয়ার পাশা (মরণোত্তর) ও আজিজুর রহমান (তিনি সম্প্রতি করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন)। চিকিৎসাবিদ্যায় অধ্যাপক ডা. মো. উবায়দুল কবীর চৌধুরী ও অধ্যাপক ডা. এ কে এম এ মুকতাদির। সংস্কৃতিতে কালীপদ দাস ও ফেরদৌসী মজুমদার। শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ভারতেশ্বরী হোমস। পুরস্কার হিসেবে ১৮ ক্যারেট সোনার একটি ৫০ গ্রাম ওজনের পদক, সনদপত্র এবং পাঁচ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়।

প্রতিবছর ২৬শে মার্চ, স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে সরকার এই পুরস্কার প্রদান করলেও এ বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে ওই সময় অনুষ্ঠানটি করা যায়নি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা