kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

এ সপ্তাহের সাক্ষাৎকার

অভিযোগের ভিত্তিতেই জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করা যায়

মো. তাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী

শাখাওয়াত হোসাইন   

৩০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অভিযোগের ভিত্তিতেই জনপ্রতিনিধিদের বরখাস্ত করা যায়

একজন জনপ্রতিনিধি অন্য মানুষের মতোই দেশের নাগরিক। ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তাই কোনো দৃশ্যমান ও সুস্পষ্ট অভিযোগ না থাকলে তাঁকে বহিষ্কার বা অন্য কোনো শাস্তি দেওয়া যায় না। জনপ্রতিনিধিদের কর্মকাণ্ড মনিটরিংয়ের কোনো ব্যবস্থা মন্ত্রণালয়ে রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম এসব কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি কালের কণ্ঠকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত না হলেও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে মামলা হলে মন্ত্রণালয় তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরে আদালতে সেই অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্থায়ী বহিষ্কার করতে পারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।’

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া অনেক জনপ্রতিনিধি উচ্চ আদালতের আদেশ নিয়ে স্বপদে বহাল হয়েছেন। এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের আইন অনুযায়ী আদালত রায় প্রদান করেন। বরখাস্ত হওয়া কোনো জনপ্রতিনিধি আদালতের রায় নিয়ে এলে মন্ত্রণালয় সেই রায় মানতে বাধ্য। কারণ সংবিধান ও আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে আমাদের।’ তিনি আরো বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ ইরফান সেলিম ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের সাজা পাওয়ার পর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়ার পর বহু জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সুশাসন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় তৎপর রয়েছে।

তাজুল ইসলাম বলেন, দেশের প্রায় ৬২ হাজার জনপ্রতিনিধির মধ্যে বেশির ভাগই ভালো এবং জনকল্যাণে কাজ করে। দুর্নীতিবাজ ও অন্যান্য অভিযোগে অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধির সংখ্যা কম। সরকারের চলতি মেয়াদের এ পর্যন্ত ৩০০ জনের মতো জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী তাঁদের বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কারসহ অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নিয়েছে সরকার।

দেশের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বেশ কিছু যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের সড়কের প্রশস্ততা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাস্তা টেকসই করতে তিন স্তরের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কাজের মান নিয়ে কাজ করবে এসব কমিটি। ভালো কাজ করতে পারলে পুরস্কার দেওয়া হবে কর্মকর্তা ও ঠিকাদারদের। একই সঙ্গে মন্দ কাজের জন্য তিরস্কার করা হবে। পৌর বর্জ্য অপসারণেও বিস্তর কর্মপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে গ্রামে শহরের সব ধরনের সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা