kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

সাক্ষাৎকার

জ্বালানিতে বেসরকারি খাত ভালো অবস্থান তৈরি করেছে

মো. আনিছুর রহমান, সিনিয়র সচিব, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ

বাহরাম খান   

২৯ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জ্বালানিতে বেসরকারি খাত ভালো অবস্থান তৈরি করেছে

করোনা সংকটের কারণে জ্বালানি খাত পিছিয়ে গিয়েছিল। তবে দ্রুতই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। গত বছরের মোট যে চাহিদা ছিল তা চলতি বছরে এরই মধ্যে তৈরি হয়ে গেছে। এটা দেশের অর্থনীতির জন্য খুবই ইতিবাচক বার্তা। দেশে জ্বালানি খাতে বেসরকারি খাতের অবদানও দ্রুত বাড়ছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আনিছুর রহমান বলেছেন কথাগুলো। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে কালের কণ্ঠকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে অর্জন ও সম্ভাবনা তুলে ধরেন।

আনিছুর রহমান বলেন, দেশে জ্বালানি খাতে বেসরকারি খাতের অবদান দ্রুতগতিতে বেড়ে চলেছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কম থাকায় বর্তমানে বেসরকারি খাতে এলপিজি ভালো অবস্থায় রয়েছে। গ্রাহকদের কাছে তারা তুলনামূলক কম দামে এলপিজি সরবরাহ করতে পারছে। দশ বছর আগে দেশে এলপিজির চাহিদা ছিল মাত্র ৭০ হাজার টন। বর্তমানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত লাখ টন। সরকারিভাবে গৃহস্থালি কাজের জন্য গ্যাস সংযোগ দেওয়ার চিন্তা নেই। সুতরাং এটি বেসরকারি খাতের একটি সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র।

এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে আনিছুর রহমান বলেন, গ্রাহক যাতে গ্রহণযোগ্য দামে সিলিন্ডার পান সে লক্ষ্যে আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এ নিয়ে কাজ করছে। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে তারা সুপারিশ করার পর সরকার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এতে বাজারে স্থিতিশীলতা থাকবে এবং গ্রাহক ও ব্যবসায়ী উভয়ের স্বার্থরক্ষা হবে।

সচিব বলেন, জ্বালানি খাতে সরকারের অবস্থান শক্ত করতে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রডাকশন কম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) শ্রীকাইল গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে। এখান থেকে দিনে ১০ এমএমসিএফডি গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে। গ্যাসক্ষেত্রটি চালু হলে ১০-১৫ বছর ধরে গ্যাস পাওয়ার আশা করছি।

আনিছুর রহমান বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের ধাক্কায় দেশের প্রায় সব কলকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা ও ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে কমে গিয়েছিল। সব কিছু খোলার পর ধীরে ধীরে চাহিদা স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু জ্বালানির চাহিদা যে গতিতে বেড়েছে তা আমাদের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে। আবার করোনার কারণে বেশির ভাগ শিল্প-কলকারখানা বন্ধ থাকায় সংশ্লিষ্টদের বিল পরিশোধে নমনীয়তা দেখিয়েছে সরকার। সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে আসায় বিল আদায়ও বাড়ছে।

সিনিয়র সচিব বলেন, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে এলএনজি আমদানির ওপর জোর দিয়ে আসছে সরকার। কেবল দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে কাতার ও ওমান থেকে নয়, স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি সংগ্রহ শুরু হচ্ছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনায় কাতার থেকে চুক্তিতে কেনার চেয়ে কম-বেশি ৪০ কোটি টাকার মতো কম অর্থ ব্যয় হয়েছে।

করোনার কারণে গত এপ্রিলের শেষ দিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে এলেও সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় বাংলাদেশ সুযোগটি কাজে লাগাতে পারেনি। এ তথ্য জানিয়ে আনিছুর রহমান বলেন, বর্তমানে চাহিদার ২৮ দিনের জ্বালানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা আছে। তা ৪৫ দিনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পার্বতীপুর, চট্টগ্রামে ইস্টার্ন রিফাইনারি-টু ও মাতারবাড়ীতে স্টোরেজ তৈরি করা হচ্ছে। ২০২৪ সাল নাগাদ তা চালু হবে বলে আশা করা যায়। গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের বিষয়ে সচিব বলেন, সিলেটের হরিপুরে একটা কূপ খনন করা হচ্ছে। আগামী নভেম্বরে খননকাজ শেষ হবে। এখানে গ্যাস ও তেল পাওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ। বাপেক্সকে আন্তর্জাতিকমানের করে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। ২০০৯ সালে বাপেক্সের মাত্র একটি রিগ ছিল। তাতে আরো পাঁচটি নতুন রিগ যোগ হয়েছে।

কভিডের কারণে কয়লার উৎপাদন বন্ধ হয়নি জানিয়ে সচিব বলেন, মূলত খনির ওই ফেইজে কয়লার মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় পরের ফেইজে যাওয়ার কারণে উৎপাদন কিছুটা বন্ধ ছিল। বর্তমানে প্রতিদিন ২২০০ থেকে ২৩০০ টন কয়লা উত্তোলন হচ্ছে। কভিডের কারণে পাথর উৎপাদন বন্ধ ছিল। গত ১৩ আগস্ট থেকে তা আবার শুরু হয়েছে। বর্তমানে দিনে গড়ে পাঁচ হাজার ৩০০ টন পাথর উৎপাদন হচ্ছে।

দিনাজপুরের লোহার খনি নিয়েও কথা বলেন সচিব আনিছুর রহমান। তিনি জানান, এখানে যে লোহা পাওয়া গেছে সেটা খুবই উন্নতমানের। তবে এখানে রিজার্ভ কত এবং কতটা উত্তোলন করা যাবে তা জানা সম্ভব হয়নি। এ জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হলেও করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে তা পিছিয়ে গেছে। এটি এক্সপ্লোরেশন করবে পেট্রোবাংলা। এর পর রিজার্ভ ও উত্তোলনযোগ্য খনিজের পরিমাণ জানার জন্য একটি বিদেশি কম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। এসব কাজ করতে দুই থেকে তিন বছর লাগবে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা